অর্থ লিপি

৫ জুন ২০২৬ শুক্রবার ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

চকলেটপ্রেমীদের জন্য দুঃসংবাদ

সবার আগে শেয়ার বাজারের নির্ভর যোগ্য খবর পেতে আপনার ফেসবুক থেকে  “অর্থ লিপি.কম” ফেসবুক পেজে লাইক করে রাখুন, সবার আগে আপনার ওয়ালে দেখতে। লাইক করতে লিংকে ক্লিক করুন  www.facebook.com/OrthoLipi

চকলেটপ্রেমীদের জন্য দুঃসংবাদ। চকলেট কাঁচামাল কোকোয়ার মূল্যবৃদ্ধির ধাক্কা এখন খুচরা দামে পড়তে শুরু করেছে। তবে আগামী ইস্টারের (৫ এপ্রিল ২০২৬) সময় কিছুটা ভালো খবর মিলতে পারে।

সম্প্রতি গত কয়েক বছরে কোকোয়ার দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। এর পেছনে আছে মূলত প্রতিকূল আবহাওয়া, পোকামাকড়ের প্রাদুর্ভাব ও সরবরাহের সংকট। বিশ্বের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ কোকোয়া উৎপাদিত হয় পশ্চিম আফ্রিকায়, সেখানকার পরিস্থিতিই কোকোয়ার দামে প্রভাব ফেলেছে।

এ প্রবণতার সঙ্গে মিলে বিশ্বজুড়ে খুচরা বাজারে পণ্যের দামের উর্ধ্বগতি অব্যাহত আছে। ফলে ভোক্তাদের খরচ বাড়ছে ও মিষ্টিজাত খাবারের চাহিদা কমছে। যুক্তরাজ্যের ভোক্তা সংগঠন হুইচের ২০২৪ সালের জরিপে দেখা গেছে, চকলেটপণ্যের দাম বেড়েছে সবচেয়ে বেশি—গড়ে ১১ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রে হার্শিস কিসেসের মতো জনপ্রিয় চকলেটের দামও এক বছরে বেড়েছে প্রায় ১২ শতাংশ।

সুইস কোম্পানি লিন্ডট অ্যান্ড এসপিআর এনজিলের প্রধান আদালবের্ট লেকনার এপ্রিলে সিএনবিসিকে বলেন, কোকোয়ার দাম আর কখনো আগের অবস্থায় ফিরবে বলে তিনি মনে করেন না।

যদিও ২০২৫ সালে কোকোয়ার ফিউচার বা আগাম বাজারে কিছুটা স্বস্তি দেখা যাচ্ছে। জানুয়ারিতে যেখানে দাম ছিল প্রতি টন ৮ হাজার ১৭৭ ডলার, আগস্টে তা নেমেছে ৭ হাজার ৮৫৫ ডলারে। তবে তিন বছর আগে এই দাম ছিল মাত্র ২ হাজার ৩৭৪ ডলার।

কিন্তু এই সাম্প্রতিক পতনের প্রভাব এখনই চকলেটের দামে পড়বে না। জেপি মর্গানের কৃষিপণ্য কৌশলবিদ ট্রেসি অ্যালেন বলেন, ‘আমরা এখনো একধরনের জের টানছি।’ তাঁর মতে, ২০২৪ সালের শেষ প্রান্তিকে দাম যে রেকর্ড উচ্চতায় উঠেছিল, তার প্রভাব এখনো সামলাতে হচ্ছে। এই উচ্চ দাম পুরো শিল্পকে প্রভাবিত করছে, ব্যবসার বাড়তি ব্যয় ভোক্তার ওপর চাপানো হচ্ছে। বাজারে এখনো ঘাটতি, কোকোয়া বিনের প্রাপ্যতা কমে গেছে। ফলে দামের চাপ আরও কিছুদিন থাকবে বলে মনে করেন তিনি।

সুইস চকলেট নির্মাতাদের সংগঠন চকোসুইসের মুখপাত্র লিডিয়া টোথ জানান, গত দুই বছরে কোকোয়ার দাম চার গুণ বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ ব্যাপকভাবে বেড়েছে। খুচরা দামের পরিবর্তন ধীরে হয় বলে নির্মাতাদের লাভের হারও কমে যাচ্ছে। ছোট ব্যবসা থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক রপ্তানিকারক—সবাই এতে চাপের মুখে পড়েছে। কিছু খরচ ভোক্তার ওপর চাপানো হলেও দামের ক্ষেত্রে আরও সমন্বয় আসতে পারে। আগের দামে ফেরার সম্ভাবনা নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তবে ইস্টারের সময় কিছুটা স্বস্তি মিলতে পারে। জেপি মর্গানের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, শিল্প খাতের চাহিদা কিছুটা কমছে, অন্যদিকে সরবরাহ বাড়ছে। ইকুয়েডর ও ব্রাজিলে নতুন গাছের ফলন বাজারে আসছে। সেই সঙ্গে আবহাওয়া অনুকূলে আছে। যদিও দীর্ঘ মেয়াদে কোকোয়ার দাম ওপরের দিকেই থাকবে—প্রতি টন প্রায় ছয় হাজার ডলারে।
শুল্কের প্রভাব

ক্যাপিটাল ইকোনমিকসের জলবায়ু ও পণ্যবিষয়ক অর্থনীতিবিদ হামাদ হুসেইন বলেন, আইভরি কোস্ট ও ঘানায় বছরের পর বছর রোগব্যাধি ও বিনিয়োগের অভাবের কারণে উৎপাদন কমেছে। পশ্চিম আফ্রিকায় আবহাওয়া উন্নত হলেও বৈশ্বিক সরবরাহ সংকট পুরোপুরি কাটবে না। ফলে দাম ইতিহাসের সবচেয়ে উঁচুতে থাকবে। সেই উচ্চ দাম চকলেটের দামে প্রভাব ফেলবে বলে তিনি মনে করেন।

হামাদ হুসেইন আরও বলেন, যুক্তরাজ্যে ন্যূনতম মজুরি ও কর্মচারীদের কল্যাণে ব্যয় বৃদ্ধির কারণে ব্যবসার খরচ বাড়ছে। খাদ্যপণ্যের দামে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কের প্রভাবে ভবিষ্যতে বাড়তি চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

সব মিলিয়ে ভোক্তাদের জন্য বার্তাটা স্পষ্ট, চকলেটের দাম আরও কিছুদিন বাড়তি থাকবে।

Author

  • 'অর্থ লিপি ডট কম' একটি নির্ভরযোগ্য শেয়ার বাজার ভিত্তিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল। অর্থ ও বাণিজ্য, রাজনীতি, সমাজ ও সংস্কৃতি, প্রতিবেদন, বিশ্লেষণমূলক লেখা প্রকাশ করে।

    'অর্থ লিপি ডট কম' শেয়ার মার্কেটের প্রয়োজনীয় সকল তথ্য সততার সহিত পরিবেশন করে এবং কোন সময় অতিরঞ্জিত, ভুল তথ্য প্রকাশ করেনা এবং গুজব ছড়ায়না, বরং বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে বদ্ধ পরিকর। এটি একটি স্বাধীন, নির্দলীয় এবং অলাভজনক প্রকাশনা মাধ্যম।

    View all posts
Share on facebook
Facebook
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
আপনি এটাও পড়তে পারেন
শেয়ার বাজার

আপনি এই পৃষ্ঠার কন্টেন্ট কপি করতে পারবেন না।