অর্থ লিপি

২০ এপ্রিল ২০২৬ সোমবার ৭ বৈশাখ ১৪৩৩

নিম্নআয় ও নির্দিষ্ট পরিমাণ আয়ের মানুষ বাজার খরচে নাকাল, ভুগছে পুষ্টিহীনতায়

সবার আগে শেয়ার বাজারের নির্ভর যোগ্য খবর পেতে আপনার ফেসবুক থেকে  “অর্থ লিপি.কম” ফেসবুক পেজে লাইক করে রাখুন, সবার আগে আপনার ওয়ালে দেখতে। লাইক করতে লিংকে ক্লিক করুন  www.facebook.com/OrthoLipi

বিভিন্ন দেশে মূল্যস্ফীতি নিয়ে চলছে অস্থিরতা। বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতি চরম উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে সবার জন্য। তবে বেশি নাকাল মধ্যবিত্ত ও নিম্নমদ্ধবিত্তরা।

তবে এর মধ্যেই দেশের কিছু রাজনীতিবিদ কিংবা ঊর্ধ্বতন সরকারি চাকরিজীবী বড়ই অদ্ভুত কিছু কথা বলেই চলছে। এই যেমন, ‘আর কত সস্তায় খাবেন ভাই’। ১০ হাজার কোটি টাকা কোন টাকাই না ইত্যাদি ইত্যাদি বিকারগ্রস্থ কথাবার্তা। অথবা এরা এতো টাকা বাম হাতে কামিয়েছেন যে, আলুর কেজি ৭০ টাকায় কেনা কোন ব্যপারই না। তাদের কথা শুনলে মনে হয় যেন আলুর কেজি প্রতি ২০০ টাকাই হাওয়াই ঠিক হবে। যাই হয় সাধারণ মানুষতো মনস্টার নয়, তাদের কথায় আসা যাক, বাজারে এসে কি বলেন।

গৃহিণী লিজা আক্তার বসবাস ঢাকার মিরপুর এলাকায়। ছয় জনের সংসারে স্বামী একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। মাসিক আয় ৩০ হাজার টাকার মতো। বাসাভাড়া-খাওয়াসহ দুই সন্তানের লেখাপড়ার খরচও চালাতে হয় এই আয়ের মধ্যে। দুই সন্তান, স্বামী ও শ্বশুর-শাশুড়ি নিয়ে তার ৬ জনের সংসার।

আজ শুক্রবার সকাল ১০ টার পরে মিরপুর ১১ কালশী ২২ তলা গার্মেন্টসের সামনে ভ্রাম্যমাণ সবজির দোকানে কেনাকাটা করার সময় গৃহিণী লিজা আক্তার জানালেন, বছরখানেক আগেও তাঁর পরিবার প্রতি সপ্তাহে মাংস খেত। এখন মাসে এক থেকে দুইবারের বেশি মাংস খেতে পারেন না। তার কথায়, ‘মাছ-মাংসের কথা বাদ দিলাম, এক কেজি আলু আর এক কেজি করে ২ পদের তরকারি কিনতে গেলেই ২০০ টাকায় হচ্ছেনা। ভাবা যায় মুলার কেজিও ৮০ টাকা। বাজারের অবস্থা বোঝানোর জন্য আর বেশি কিছু বলার নেই।

লিজা আক্তারের সাথে কথা বলার পরে একজন চাকুরীজীবি জানালেন গতবছরও মেসের ১০ জনের জন্য আমাদের মাসিক খরচ হতো ১৫ থেকে ১৬ হাজার টাকা। এখন এই খরচ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৯ থেকে ২১ হাজার টাকা। কিন্তু আমরা যে আগের মতো মাছ-মাংস খেতে পারছি, তা নয়। আগে সপ্তাহে অন্তত ৩ বেলা মাংস খেলেও এখন মাঝেমধ্যে মাংস কেনা হয়।

জহির আহমেদ মিরপুর ১২ এলাকায় মেস বাড়ির বাসিন্দা, বছরের শেষ দিকে এসে রাজধানীতে বাস করা বেশির ভাগ সাধারণ মানুষের চিন্তা থাকে বাসাভাড়া বৃদ্ধি নিয়ে। কিন্তু এবার সেই চিন্তার আগে বড় দুশ্চিন্তা হয়ে দেখা দিয়েছে বাজার খরচের চাপ।

গত বছর থেকে নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা বিরাজ করছে। বাজারে প্রায় সব ধরনের পণ্যের দাম বাড়ছে। স্বল্প ও নির্দিষ্ট আয়ের মানুষ বাজার খরচের চাপে নাকাল।

আজ মিরপুরে বসবাসরত ৪ টি পরিবার ও একটি মেসের বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, খাবার খরচ চালাতে তারা হিমশিম খাচ্ছেন। নানাভাবে কাটছাঁট করেও এখন আর সামলাতে পারছেন না, ধারদেনা করতে হচ্ছে। পরিস্থিতি অনেকের জন্য এতটাই খারাপ যে ইতিমধ্যে পরিবারের সদস্যদের গ্রামে পাঠিয়ে ঢাকায় একা থাকছেন।

কালশী বাজারে রাস্তায় বসা ফল ব্যবসায়ী নাসির মিয়া বলেন, যে আয় তাতে দুই সন্তান নিয়ে ঢাকায় থাকলে হাতে কিছু থাকে না। বাড়িতেও বাবা-মায়ের জন্য টাকা পাঠাতে পারি না। তাই এখন স্ত্রী-সন্তানদের বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছি। একা থাকার কারণে এখন নিজের খরচ বাদ দিয়ে ১৫ হাজার টাকার মতো বাড়িতে পাঠাতে পারি। ওই টাকা দিয়েই টানাটানি করে চলছে সংসার।

এখন দেখা যাচ্ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কারণে মানুষ মাছ-মাংস কম খাচ্ছেন। ভাত ও আটার মতো খাবার খেয়ে পেট ভরাচ্ছেন। তাতে পেট ভরে বটে, কিন্তু পুষ্টির ঘাটতি থেকে যায়। ফলে তাঁদের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ব্যাধির বিরুদ্ধে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমে আসছে।

ইব্রাহিম জেনারেল হাসপাতাল
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বর মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৯.৬৩। কিন্তু খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ১২.৩৭ শতাংশ। আগস্ট মাসে এই হার ছিল আরও বেশি ১২.৫৪। সদ্য শেষ হওয়া অক্টোবর মাসের সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার এখনো জানা যায়নি, তবে আগের চেয়ে বেড়েছে কোন সন্দেহ নেই।

খাদ্য মূল্যস্ফীতির এই হার গত ১১ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর আগে ২০১২ সালের জানুয়ারি মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ১২.৭৩ শতাংশে উঠেছিল।

জহির আহমেদ মিরপুর ১২ এলাকায় মেসের বাসিন্দা বলেন, এক বছর আগে ১০ জনের জন্য আমাদের মাসিক খরচ হতো ১৫ থেকে ১৬ হাজার টাকা। এখন এই খরচ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৯ থেকে ২১ হাজার টাকা কিন্তু আমাদের কোন আয় বাড়েনি।
নিদারুণ কস্টে আমাদের মেসেবাড়ির লোকজন দিন কাটাচ্ছেন।

বাজারে মূল্যবৃদ্ধির কারণে অনেকেই এখন বাড়তি আয়ের চেষ্টা করে যাচ্ছেন। যেমন মিরপুর ১১ নাম্বারের রোমান নামে এক বাসের কন্ট্রাকটর জানান বাড়তি আয়ের জন্য স্ত্রীকে বাসায় বেনারসি ও সিল্কের কাপড়ের ডিজাইনের কাজ করতে বলেছেন।

বারডেম হাসপাতালের পুষ্টি কর্মকর্তা বলেন, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কারণে মানুষ মাছ-মাংস কম খাচ্ছেন। তরকারির দাম অসাভাবিক বাড়ার কারণে ইদানীং মানুষ শাক-সবজিও খেতে পারছেন না। ভাত ও আটার মতো খাবার খেয়ে পেট ভরাচ্ছেন। তাতে পেট ভরে বটে, কিন্তু পুষ্টির ঘাটতি থেকে যায়। ফলে তাঁদের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ব্যাধির বিরুদ্ধে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে আসছে।
যে কারণে ইদানীং মানুষ অসুস্থ হচ্ছেন বেশি।

সার্বিক বাজার বিশ্লেষণ করে দেখা গেল ভবিষ্যতে দেশের সাধারণ মানুষ মূল্যস্ফীতির কারণে পুস্টিহীনতায় ভুগছে, পরিস্থিতি আরও করুণ হতে পারে।

Author

Share on facebook
Facebook
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
আপনি এটাও পড়তে পারেন
শেয়ার বাজার

আপনি এই পৃষ্ঠার কন্টেন্ট কপি করতে পারবেন না।