এসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি (সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি) সম্পদ ব্যবস্থাপক ও তহবিল ব্যবস্থাপক হিসেবে ৯১টি প্রতিষ্ঠান এখন পর্যন্ত নিবন্ধন নিয়েছে। তবে এসব প্রতিষ্ঠানের অনেকেই নিষ্ক্রিয় ভূমিকায় রয়েছে, কোন সম্পদ বা তহবিল ব্যবস্থাপনা করছেনা। এ অবস্থায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিষ্ঠানগুলো কোনো ফান্ড আনতে না পারলে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) ক্ষেত্রে যোগ্য বিনিয়োগকারী (ইআই) হিসেবে প্রাপ্ত কোটা সুবিধা বাতিল করা হবে বলে জানিয়েছে বিএসইসি।
গত ১৭ই ডিসেম্বর বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত–উল–ইসলাম স্বাক্ষরিত একটি নির্দেশনা জারি করেছে। এতে বলা হয়েছে, পুঁজিবাজারে অংশগ্রহণ বাড়াতে যেকোনো মিউচুয়াল ফান্ড, এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ড (ইটিএফ) কিংবা অল্টারনেটিভ ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডের সম্পদ ব্যবস্থাপক বা তহবিল ব্যবস্থাপকদের সক্রিয় ভূমিকা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পুঁজিবাজারের উন্নয়ন ও বিনিয়োগের স্বার্থে কিছু নির্দেশনা দেয়া প্রয়োজন বলে মনে করছে কমিশন। এর পরিপ্রেক্ষিতে নিবন্ধিত সম্পদ ব্যবস্থাপক ও তহবিল ব্যবস্থাপকদের বেশকিছু নির্দেশনা দিয়েছে কমিশন।

নির্দেশনার মধ্যে রয়েছে প্রতিটি সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি যারা সম্পদ ব্যবস্থাপক বা তহবিল ব্যবস্থাপক হিসেবে নিবন্ধন নিয়েছে তাদের প্রত্যেককে কমপক্ষে একটি মিউচুয়ালফান্ড বা মিউচুয়াল ফান্ডের স্কিম কিংবা যে কোনো ধরনের কালেকটিভ ইনভেস্টমেন্ট স্কিম পরিচালনা করতে হবে। এক্ষেত্রে সম্পদ ব্যবস্থাপক বা তহবিল ব্যবস্থাপক হিসেবে নিবন্ধন নেয়ার তিন বছর কিংবা এ নির্দেশনা জারির এক বছর যেটি পরে হবে সে সময়ের মধ্যে ফান্ড আনতে হবে।
কমিশন জানিয়েছে যে, নির্দেশনা পরিপালনে ব্যর্থ হলে পাবলিক ইস্যু বিধিমালার অধীনে এসব প্রতিষ্ঠান কোটা সুবিধা পাবে না। পাশাপাশি সম্পদ ব্যবস্থাপক বা তহবিল ব্যবস্থাপকের লাইসেন্স বাতিলের জন্য আইনি পদক্ষেপও নেয়া হতে পারে বলে নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে। অবিলম্বে এ নির্দেশনা কার্যকর হবে।
উল্লেখ্য, এখন পর্যন্ত ৬৪ টি প্রতিষ্ঠান সম্পদ ব্যবস্থাপকের এবং ২৭টি প্রতিষ্ঠান তহবিল ব্যবস্থাপক হিসেবে মোট ৯১ টি প্রতিষ্ঠান এখন পর্যন্ত নিবন্ধন নিয়েছে।
বাংলাদেশে এসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি (সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি) সম্পদব্যবস্থাপক ও তহবিল ব্যবস্থাপক হিসেবে যে ৯১টি প্রতিষ্ঠান এখন পর্যন্ত নিবন্ধন নিয়েছে সেগুলো যদি ঠিকমতো কাজ করত তাহলে দেশের শেয়ার মার্কেটের বিনিয়োগকারীরা উপকৃত হত বলে অভিমত দিয়েছেন বাজার সংশ্লিষ্ট একজন অভিজ্ঞ প্রবীণ বিশ্লেষক। তিনি আরও বলেন দেশের মিউচুয়াল ফান্ডের উন্নতি হলে শেয়ার মার্কেট উপকৃত হবে।বাজারের প্রতি মানুষের আস্থা ও বাড়বে। তিনি বলেন পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে মিউচুয়াল ফান্ড বেশ জনপ্রিয়। দেশের মিউচুয়াল ফান্ড সেক্টরের প্রতি কিভাবে মানুষ আকৃষ্ট হবে সে বিষয় নিয়ে সম্মিলিত চেস্টা চালিয়ে যাওয়া উচিৎ যথাযথ কর্তৃপক্ষের।
Author
-
'অর্থ লিপি ডট কম' একটি নির্ভরযোগ্য শেয়ার বাজার ভিত্তিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল। অর্থ ও বাণিজ্য, রাজনীতি, সমাজ ও সংস্কৃতি, প্রতিবেদন, বিশ্লেষণমূলক লেখা প্রকাশ করে।
View all posts
'অর্থ লিপি ডট কম' শেয়ার মার্কেটের প্রয়োজনীয় সকল তথ্য সততার সহিত পরিবেশন করে এবং কোন সময় অতিরঞ্জিত, ভুল তথ্য প্রকাশ করেনা এবং গুজব ছড়ায়না, বরং বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে বদ্ধ পরিকর। এটি একটি স্বাধীন, নির্দলীয় এবং অলাভজনক প্রকাশনা মাধ্যম।