আজ মঙ্গলবার (০৩ জুন) সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবস দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচকের পতনের মধ্য দিয়ে লেনদেন শেষ হয়েছে। কমেছে বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ারদর, কমতে কমতে তলানিতে এসে পৌঁছেছে লেনদেন।
আজ ডিএসইতে ২২৯ কোটি ০৬ লাখ ১৪ হাজার টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। যা জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী ও অন্তর্বর্তী সরকার দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই সর্বনিম্ন লেনদেন। এর আগে, আওয়ামী লীগ সরকার পতনের আগের দিন ৪ আগস্ট ডিএসইতে সর্বনিম্ন ২০৭ কোটি ৮৩ লাখ ৪৬ হাজার টাকার লেনদেন হয়েছিলো।
আজ ডিএসইর লেনদেন শেষে প্রধান সূচক ‘ডিএসইএক্স’ ২৪.৭২ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৪ হাজার ৬৬৪ পয়েন্টে।
অন্য সুচকগুলোর মাঝে, শরিয়াহ সূচক ‘ডিএসইএস’ ৬.৪১ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৭ পয়েন্টে আর ‘ডিএস৩০’ সূচক ৯.৫৭ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১ হাজার ৭৪৬ পয়েন্টে।
আজ ডিএসইতে মোট ২২৯ কোটি ০৬ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। গত কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিলো ২৭৫ কোটি ৩০ লাখ টাকার শেয়ার।
আজ লেনদেন হওয়া ৩৯৪ টি কোম্পানির মধ্যে দাম বেড়েছে ৯৩ টির, কমেছে ২৩৯ টির অপরদিকে অপরিবর্তীত রয়েছে ৬২ টি কোম্পানির শেয়ার দর।
শেখ হাসিনা সরকার পতনের পরে শেয়ার বাজারে চরম হতাশাজনক পরিস্থিতি বিরাজ করছে। টানা দরপতনে লোকসানের ধাক্কা সামলাতে না পেরে বাজার বিমুখ হয়ে পড়েছেন বিনিয়োগকারীরা। তাতে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স কমে পাঁচ বছর আগের অবস্থানে ফিরে গেছে। লেনদেনও কমে গেছে আশঙ্কাজনক পর্যায়ে। বর্তমানে বাজারের লেনদেন যে পর্যায়ে নেমেছে, তাতে বাজারসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে বিনিয়োগকারী সবারই কেবল লোকসানের অংকই প্রতিদিন বাড়ছে।
উল্লেখ্য, ছাত্র-জনতার জুলাই অভ্যুত্থানে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর শেয়ারবাজার নিয়ে আশাবাদী হয়েছিলেন বিনিয়োগকারীরা। কিন্তু সেই পরিবর্তনের মাস না ঘুরতেই শেয়ারবাজার আবারও দীর্ঘ মন্দার কবলে। এরই মধ্যে বিনিয়োগকারীরা রাজপথেও নেমেছেন প্রতিবাদে। বিক্ষুব্ধ ও হতাশাগ্রস্ত বিনিয়োগকারীরা কিছুটা আশা নিয়ে তাকিয়ে ছিলেন বাজেটের দিকে।
বাজেটে শেয়ারবাজারে গতি ফেরাতে বিশেষ উদ্যোগ নেবে সরকার। বিনিয়োগকারীদের জন্য দেওয়া হবে প্রণোদনা এই আশায় ছিলেন তাঁরা। বাজেট ঘিরে বিনিয়োগকারীদের আশা ছিল যতটা প্রাপ্তি, সেই তুলনায় হতাশাজনক। বিনিয়োগকারীদের হতাশই করেছেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ। কারণ, সরাসরি বিনিয়োগকারীরা উপকৃত হবেন এমন কোনো প্রণোদনা নেই ঘোষিত বাজেটে। যে আশার আলো খুঁজছিলেন বিনিয়োগকারীরা, তা পূরণ হয়নি।
টানা দরপতন আর কমে যাওয়া লেনদেনে বিপর্যস্ত পুঁজিবাজারে প্রত্যক্ষ কোনও প্রণোদনা না থাকায় বিনিয়োকারীদের হতাশা আরও বেড়েছে। বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা ছিলো বাজেটে শেয়ারবাজারে গতি ফেরাতে কার্যকর ও স্পষ্ট উদ্যোগ থাকবে, থাকবে মূলধনি মুনাফা বা লভ্যাংশ আয়ে কর রেহাই। তবে ঘোষিত বাজেটে বিনিয়োগকারীদের জন্য কোনো উদ্যোগ না থাকায় এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে শেয়ারবাজারের লেনদেনে। যে কারণে আশাহত হয়েছেন বিনিয়োগকারীরা যার ফলে শেয়ার বাজারে বাজেটের নেতিবাচক প্রভাব পরেছে।
Authors
-
'অর্থ লিপি ডট কম' একটি নির্ভরযোগ্য শেয়ার বাজার ভিত্তিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল। অর্থ ও বাণিজ্য, রাজনীতি, সমাজ ও সংস্কৃতি, প্রতিবেদন, বিশ্লেষণমূলক লেখা প্রকাশ করে।
View all posts
'অর্থ লিপি ডট কম' শেয়ার মার্কেটের প্রয়োজনীয় সকল তথ্য সততার সহিত পরিবেশন করে এবং কোন সময় অতিরঞ্জিত, ভুল তথ্য প্রকাশ করেনা এবং গুজব ছড়ায়না, বরং বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে বদ্ধ পরিকর। এটি একটি স্বাধীন, নির্দলীয় এবং অলাভজনক প্রকাশনা মাধ্যম। -