না খেলে শক্তি পাব কোথায়?
সাধারণত ফাস্টিং ১২ ঘন্টা থেকে ৭২ ঘন্টা স্থায়ী হয় কিংবা এক সপ্তাহ। কিন্তু এতক্ষণ না খেলে শক্তি পাব কোথায়? ক্ষুধায় তো মরেই যাব!
বাস্তবে ১ মাস শুধু পানি খেলেও তেমন সমস্যা হয় না। আপাতত আমরা ১৬ ঘন্টা, ২০ ঘন্টা, ২৪ ঘন্টা, (১দিন) ফাস্টিং এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবো। দেখা যাক, এতটা সময় দেহ কিভাবে শক্তি পায়।

স্টেজ – ১ : ফিডিং (০-৪ ঘন্টা)
আহারের পর তা পরিপাক হয়ে রক্তে শোষিত হয়। সর্বশেষ খাবারের গ্লুকোজ রক্তে প্রায় ৪ ঘন্টা স্থায়ী হয়, যা থেকে শরীরের সকল অর্গান ও টিস্যু শক্তি উৎপাদন করে। আর অতিরিক্ত গ্লুকোজ ইনসুলিন এর সহায়তায় লিভার ও মাসলে গ্লাইকোজেন হিসেবে এবং ট্রাইগ্লিসারাইড (টিজি) হিসেবে ফ্যাট টিস্যুতে সঞ্চিত হয়।
স্টেজ – ২ : গ্লাইকোজেন (৪-১৬ ঘন্টা)
প্রায় ৪ ঘন্টা পর রক্তের গ্লুকোজ লেভেল কমতে থাকে এবং সাথে ইনসুলিন এর মাত্রাও কমতে থাকে। গ্লুকোজ এর মাত্রা কমায় প্যানক্রাস গ্লুকাগন (Glucagon) হরমোন নিঃসরণ করে। গ্লুকাগন এর সিগনালে লিভার গ্লাইকোজেন ভেঙ্গে গ্লুকোজ উৎপাদন করে। ফাস্টিং এর ১৬ ঘন্টা পর্যন্ত আমাদের লিভার অনায়াসে সঞ্চিত গ্লাইকোজেন ভেঙ্গে প্রয়োজনীয় গ্লুকোজ সরবরাহ করতে সক্ষম। কারও ক্ষেত্রে ২০ ঘন্টার বেশি সময় পর্যন্ত লিভার শক্তির জন্য গ্লুকোজ সরবরাহ করতে পারে।
আমরা যারা বাংলাদেশে থাকি ,যারা রোজা রাখি আমরা এভারেজে ১৪/১৫ ঘন্টা উপবাস থাকি, আমরা রমজান মাসে যে রোজা থাকি তা সঞ্চিত গ্লাইকোজেন নিঃশেষ করতে পারে না (যদি এক্সারসাইজ বা কায়িক পরিশ্রম না করি) – ফ্যাট বার্নিং দূরের কথা।
চলবে ……