দেশের শেয়ারবাজারের দীর্ঘদিনের মন্দাভাব কাটাতে এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মনে আস্থা ফিরিয়ে আনতে বড় ধরনের সংস্কারের পথে হাঁটছে সরকার।
শেয়ারবাজার স্থিতিশীল করতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)-তে আমূল পরিবর্তনের আভাস পাওয়া গেছে।
সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী শেয়ারবাজার নিয়ে সরকারের এই কঠোর ও ইতিবাচক অবস্থানের কথা স্পষ্ট করেন। তিনি জানান, বিএসইসির পরবর্তী চেয়ারম্যান নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো রাজনৈতিক বিবেচনা প্রাধান্য পাবে না। পরিবর্তে, একজন অভিজ্ঞ পেশাদার ব্যক্তিকে (যেমন উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা বা দক্ষ এমডি পদমর্যাদার) এই পদে আসীন করার পরিকল্পনা চলছে।
অর্থমন্ত্রীর এই ঘোষণা পুঁজিবাজারে একটি অত্যন্ত শক্তিশালী ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্দীপনা:
বিএসইসিতে নতুন ও পেশাদার নেতৃত্বের এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বিনিয়োগকারীরা দাবি জানিয়ে আসছিলেন যাতে সংস্থাটিতে সংস্কারমুখী এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত নেতৃত্ব নিয়োগ দেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্টদের মতে, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা গেলে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা আবারও বাজারে ফিরতে শুরু করবেন।
বিশ্লেষকদের পর্যবেক্ষণ:
বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থায় দক্ষ নেতৃত্ব এলে বাজারের তারল্য সংকট নিরসন ও সুশাসন নিশ্চিত করা অনেক সহজ হবে। ব্রোকারেজ হাউস এবং বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, একজন অভিজ্ঞ সরকারি এমডি যদি বিএসইসির দায়িত্বে আসেন, তবে প্রশাসনিক কাজের গতি বৃদ্ধি পাবে এবং আইনি প্রয়োগ আরও দৃঢ় হবে। এটি বাজারের দীর্ঘস্থায়ী স্থবিরতা কাটিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে মাইলফলক হয়ে থাকবে।
উল্লেখ্য যে, গত কয়েক বছরের অস্থিতিশীলতা ও নানা উত্থান-পতনের পর শেয়ারবাজারকে একটি মজবুত ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে গতিশীল নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিকল্প নেই। বর্তমান প্রেক্ষাপটে সরকারের এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত বাজারবান্ধব নীতি প্রণয়ন এবং বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।