তিন ধরনের গ্যাস্ট্রিক/এসিডিটি এর ঔষধ পাওয়া যায়
১। Antacid – এসিডকে নিউট্রালাইজ বা প্রশমণ করে।
২। H2 receptor/blocker – স্টোমাক এসিড প্রোডাকশন কমিয়ে দেয়।
৩। Proton Pump Inhibitors (PPI) – স্টোমাক এসিড প্রোডাকশন বন্ধ করে দেয়।
আমাদের দেশে জনপ্রিয় গ্যাস্ট্রিকের ঔষধ PPI গ্রুপের। এ গ্রুপের বিরূপ প্রতিক্রিয়া সবচেয়ে বেশি।

গ্যাস্ট্রিকের ঔষধের কিভাবে ক্ষতি করছে?
এসব ঔষধের গায়ে কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া লেখা থাকে – সেটা সাময়িক প্রতিক্রিয়া। যেমন – মাথাব্যথা, বমিবমি ভাব, পেটব্যথা, ডাইরিয়া, জ্বর ইত্যাদি। এগুলো মাইনর বিষয়। কিন্তু ভয়ানক লং–টার্ম প্রভাব নিয়ে কেউ আলোচনা করে না। নিম্নে কতিপয় লং–টার্ম ক্ষতিকরপ্রভাব উল্লেখ করা হল :
১। ঔষধ দিয়ে স্টোমাক এসিড সিক্রেশন বন্ধ বা কমিয়ে দিলে প্রোটিন ডাইজেশন ও শোষণহ্রাস পাবে।
২। ভিটামিন– বি১২, আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম ডেফিসিয়েন্সি দেখা দিবে। ফলে রক্তশূন্যতাদেখা দিতে পারে। দুর্বলতা, হাত–পায়ে অসারতা সহ বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে।
৩। কোলনে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার গ্রোথ ব্যাপকভাবে বেড়ে যাবে।
৪। স্টোমাক এসিড সিক্রেশন বন্ধ বা কমে গেলে, ব্যাকটেরিয়ার অবাধ আক্রমণে পাকস্থলীরআলসার দিনদিন আরও বাড়তে থাকবে।
৫। রোগ–জীবাণুর ইনফেকশন বেড়ে যাবে।
৬। এলার্জি, এজমা, ব্রণ, অটো–ইমিউন ডিজিজ, ডিমেনশিয়া, আর্থ্রাইটিস, লিকি–গাট, IBS ইত্যাদি সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে।
৭। ইমিউন সিস্টেম দুর্বল করবে।
৮। নিউমোনিয়া হবার আশঙ্কা বাড়বে।
৯। হাড়ক্ষয় ও ফ্র্যাক্সার হতে পারে।
১০। বিভিন্ন অপুষ্টিজনিত সমস্যা দেখা দিবে।
১১। পুরো ডাইজেশন সিস্টেম ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
১২। কিডনি স্টোন হবার সম্ভাবণা বাড়বে।
চিকিৎসকগণ ক্ষেত্রবিশেষে সাময়িকভাবে গ্যাস্ট্রিকের ঔষধ ব্যবহার করতে পারেন। তাই বলেআপনি বিনা প্রেসক্রিপশনে মুড়ির মত গ্যাস্ট্রিকের ঔষধ খাবেন?
“গণহারে গ্যাস্ট্রিক, বাঁচার উপায়” লেখাটি ধারাবাহিক ভাবে চলবে,আগামী পর্বে থাকবে গ্যাস্ট্রিক কেন হয়?