আরও দুটি বিদেশি কোম্পানির সম্পদ সাময়িকভাবে সরকারের হাতে আনতে ডিক্রি জারি করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এর মধ্য দিয়ে দই তৈরির ফরাসি কোম্পানি ডানোনের স্থানীয় সাবসিডিয়ারি ও স্থানীয় একটি বিয়ার কোম্পানিতে কার্লসবার্গের অংশীদারি নিজের হাতে নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবর অনুযায়ী, ডিক্রিতে বলা হয়েছে, ডানোন রাশিয়া ও বাল্টিকা ব্রিউয়ারিসের বিদেশি মালিকানাধীন অংশ সরকারের সম্পদ ব্যবস্থাপনা এজেন্সি রসিমুশচেসতভো’র সাময়িক ব্যবস্থাপনার অধীন নিয়ে আসা হয়েছে। এর আগে গত এপ্রিলে জার্মানির ইউনিপার কোম্পানি ও ফিনল্যান্ডের ফোরটুম ওওয়াইজেড কোম্পানির স্থানীয় সাবসিডিয়ারি সরকারি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা হয়।
গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া ইউক্রেনে হামলা চালানোর পর পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়ার বিরুদ্ধে যেসব ব্যবস্থা নিয়েছে, তার প্রতিক্রিয়ায় মস্কো হুমকি দিয়েছিল যে রাশিয়ায় থাকা পশ্চিমা কোম্পানিগুলোর সম্পদ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আনা হতে পারে। তবে সেটা হবে সাময়িক এবং পশ্চিমাদের গৃহীত ব্যবস্থার প্রতিশোধ হিসেবে রাশিয়া এ কাজ করবে। তবে গতকাল রোববার কার্লসবার্গ এক বিবৃতিতে বলেছে, এ বিষয়ে তাদেরকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
কার্লসবার্গ বলেছে, গত জুনে তারা রাশিয়ায় ব্যবসা ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে চুক্তি করেছে, যদিও তা এখন পর্যন্ত নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। গতকাল বিবৃতিতে তারা আরও বলেছে, এই পরিস্থিতিতে তাদের রাশিয়ার ব্যবসা ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টি খুবই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
এদিকে ডানোন আরেক বিবৃতিতে বলেছে, তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। সেই সঙ্গে তারা আরও বলেছে, রাশিয়া সরকারের এই সিদ্ধান্তের কারণে ২০২৩ সালে তাদের কোম্পানির আর্থিক দিকনির্দেশনায় কোনো প্রভাব পড়বে না।
ফরাসি কোম্পানি ডানোন গত অক্টোবরে বলেছিল, তারা রাশিয়াতে দুগ্ধজাত খাদ্য ও খাদ্য ব্যবসা বিক্রির জন্য ক্রেতা খুঁজছে। রাশিয়াতে তাদের প্রায় ১১২ কোটি ডলারের ব্যবসা আছে, অর্থাৎ এত বড় ব্যবসা তারা ছেড়ে দেওয়ার চিন্তা করছে।
এর আগে এপ্রিলে ডিক্রি জারিসংক্রান্ত খবরে রাশিয়ার সংবাদ সংস্থা টিএএসএসের বরাতে রসিমুশচেসতভোর বক্তব্য রয়টার্স এভাবে উদ্ধৃত করেছিল—এই ডিক্রির সঙ্গে মালিকানার সম্পর্ক নেই। মালিকেরা যে মালিকানা হারাচ্ছেন, তা নয়। এই নিয়ন্ত্রণ সাময়িক প্রকৃতির, যার অর্থ হলো সম্পদ ব্যবস্থাপনাসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রকৃত মালিকের এখতিয়ার না থাকা।
গত মার্চে ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট চার্লস মিশেল জানিয়েছিলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন রাশিয়ার জব্দ করা সম্পদ ইউক্রেনের পুনর্গঠনের কাজে ব্যবহারের চিন্তাভাবনা করছে। ফলে মনে হচ্ছে, পুতিনও ছেড়ে কথা বলছেন না।
Author
-
'অর্থ লিপি ডট কম' একটি নির্ভরযোগ্য শেয়ার বাজার ভিত্তিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল। অর্থ ও বাণিজ্য, রাজনীতি, সমাজ ও সংস্কৃতি, প্রতিবেদন, বিশ্লেষণমূলক লেখা প্রকাশ করে।
View all posts
'অর্থ লিপি ডট কম' শেয়ার মার্কেটের প্রয়োজনীয় সকল তথ্য সততার সহিত পরিবেশন করে এবং কোন সময় অতিরঞ্জিত, ভুল তথ্য প্রকাশ করেনা এবং গুজব ছড়ায়না, বরং বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে বদ্ধ পরিকর। এটি একটি স্বাধীন, নির্দলীয় এবং অলাভজনক প্রকাশনা মাধ্যম।