অর্থ লিপি

১৪ জুন ২০২৬ রবিবার ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ব্যাংকগুলোতে এক বছরে অতিরিক্ত তারল্য বেড়েছে

সবার আগে শেয়ার বাজারের নির্ভর যোগ্য খবর পেতে আপনার ফেসবুক থেকে  “অর্থ লিপি.কম” ফেসবুক পেজে লাইক করে রাখুন, সবার আগে আপনার ওয়ালে দেখতে। লাইক করতে লিংকে ক্লিক করুন  www.facebook.com/OrthoLipi

এক বছরে ব্যাংকগুলোতে অতিরিক্ত তারল্য বেড়েছে ৫১ হাজার ৬৯৬ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুসারে, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর শেষে সিকিউরিটিজসহ ব্যাংকিং খাতের মোট অতিরিক্ত তরল সম্পদ দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১৫ হাজার কোটি টাকা, যা ২০২৩-এর ডিসেম্বরে ছিল ১ লাখ ৬৩ হাজার কোটি টাকা।

ব্যাংকগুলোর অতিরিক্ত তরল সম্পদ বাড়লেও অতিরিক্ত নগদ ২ হাজার ২৯১ কোটি টাকা কমে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের শেষে দাঁড়িয়েছে ১৭ হাজার ৬৭৫ কোটি টাকা।

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের আগস্টে ব্যাংকগুলোর অতিরিক্ত তরল সম্পদের পরিমাণ ছিল ৫ হাজার ৮৭১ কোটি টাকা। তবে গত ছয় মাসে এই অঙ্ক বেড়েছে। প্রয়োজনীয় স্ট্যাট্রটরি লিকুইডিটি রেশিও (এসএলআর) ও ক্যাশ রিজার্ভরেশিও (সিআরআর) রাখার পরে অতিরিক্ত তারল্য হিসাব করা হয়। ব্যাংকগুলোকে বাংলাদেশ ব্যাংকে মোট আমানতের ৪ শতাংশ সিআরআর নগদ আকারে এবং ১৩ শতাংশ এসএলআর নগদ আকারে জমা রাখতে হয়।

ব্যাংকাররা বলছেন, ব্যাংকগুলোতে অতিরিক্ত তারল্য বাড়ার কারণে হচ্ছে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ কম। অতিরিক্ত তারল্য হচ্ছে ব্যাংকগুলোর মোট আমানতের যে অংশ সিআরআর ও এসএলআর বাবদ সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ রাখতে হয়। এই সময়ে ব্যাংকগুলো দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বেসরকারি খাতের চেয়ে সরকারি সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ বেশি করেছে। এ কারণে অতিরিক্ত তারল্য বেড়েছে।

২০২৪-এর ডিসেম্বরে বেসরকারি খাতের ঋণের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৭.২৭ শতাংশ, যা এক বছর আগে ১০ শতাংশের বেশি ছিল। যদিও ব্যাংকগুলোতে একটি নির্ধারিত পরিমাণ নতুন মানি ক্রিয়েট হয়েছে। সেই অর্থগুলো বেসরকারি খাতের বিনিয়োগের তুলনায় সরকারি সিকিউরিটিজে হয়েছে। এর ফলে অতিরিক্ত তারল্য বেড়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদন অনুসারে, ঋণের চাহিদা কমে যাওয়া, নতুন বিনিয়োগের অভাব এবং সরকারি ট্রেজারি বিল ও বন্ডে বিনিয়োগ বাড়ার কারণে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি ৭.২৮ শতাংশে নেমে এসেছে, যা নভেম্বরের তুলনায় ৩৮ বেসিস পয়েন্ট কম।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যানুসারে, নভেম্বরে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি সাড়ে তিন বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন ৭.৫৫ শতাংশে নেমে এসেছে, যা অক্টোবরের তুলনায় ৬৬ বেসিস পয়েন্ট কম এবং ২০২১ সালের মে মাসের পর সর্বনিম্ন। জুলাই থেকে ধীরে ধীরে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমা অব্যাহত রয়েছে। জুলাইয়ে বেসরকারি ঋণের প্রবৃদ্ধি ছিল ১০.১৩ শতাংশ।

রাষ্ট্রায়ত্ত একটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, চলতি অর্থবছরে দেশে মূলধনি যন্ত্রপাতি মেশিনারি আমদানি অনেক কমেছে, কারণ দেশে নতুন করে বিনিয়োগ বাড়েনি। এ কারণে ব্যাংকগুলো তাদের অর্থ সরকারি সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ করছে। তবে ব্যাংকগুলোতে বর্তমানে ডলারের প্রবাহ ভালো। ব্যাংকগুলো ভোগ্যপণ্য ও শিল্পের কাঁচামাল আমদানি মোটামুটি ভালো করছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০২৪ সালের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে ঋণপত্র (এলসি) খোলার পরিমাণ বেড়ে ৩৪.৮৯ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৩৩.৪৯ বিলিয়ন ডলার। তবে এই সময়ে মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানি কমেছে ২৭.৬৬ শতাংশ।

Author

  • 'অর্থ লিপি ডট কম' একটি নির্ভরযোগ্য শেয়ার বাজার ভিত্তিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল। অর্থ ও বাণিজ্য, রাজনীতি, সমাজ ও সংস্কৃতি, প্রতিবেদন, বিশ্লেষণমূলক লেখা প্রকাশ করে।

    'অর্থ লিপি ডট কম' শেয়ার মার্কেটের প্রয়োজনীয় সকল তথ্য সততার সহিত পরিবেশন করে এবং কোন সময় অতিরঞ্জিত, ভুল তথ্য প্রকাশ করেনা এবং গুজব ছড়ায়না, বরং বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে বদ্ধ পরিকর। এটি একটি স্বাধীন, নির্দলীয় এবং অলাভজনক প্রকাশনা মাধ্যম।

    View all posts
Share on facebook
Facebook
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
আপনি এটাও পড়তে পারেন
শেয়ার বাজার

আপনি এই পৃষ্ঠার কন্টেন্ট কপি করতে পারবেন না।