চলতি মাসের প্রথম এক সপ্তাহে প্রবাসী বাংলাদেশিরা ব্যাংকের মাধ্যমে দেশে ৭২ কোটি ৬২ লাখ ডলারের প্রবাসী আয়(রেমিট্যান্স )পাঠিয়েছেন। গত (৯ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে, দেশে সাধারণত ঈদের আগে দেশে থাকা আত্মীয়স্বজনকে অন্যান্য মাসের তুলনায় বেশি রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় পাঠান বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিরা। এবারের কোরবানির ঈদের আগেও এর ব্যতিক্রম হয়নি।
আগামী সোমবার(১৭ জুন) পবিত্র ঈদুল আজহা। ইতিমধ্যেই দ্বিতীয় সপ্তাহ শেষ হয়েছে, ধারনা করা যাচ্ছে দ্বিতীয় সপ্তাহে প্রবাসী আয় ১ম সপ্তাহের চেয়েও বেশী আসতে পারে। কোরবানির ঈদ সামনে রেখে প্রবাসী বাংলাদেশিরা কত কোটি ডলার পাঠালেন তার পূর্ণাঙ্গ চিত্র ঈদের ছুটির পরে জাণা যাবে। গত মাসের তুলনায় চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে প্রবাসী আয় আসার গড় হার বেশি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত মে মাসে ২২৫ কোটি ডলারের প্রবাসী আয় আসে, যা গত ৪৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। তার মানে, গত মাসে গড়ে প্রতিদিন প্রবাসী আয় আসে ৭ কোটি ২৫ লাখ ডলার। আর চলতি মাসের প্রথম এক সপ্তাহে দৈনিক গড়ে ১০ কোটি ৩৭ লাখ ডলার। তার মানে, দিনে গড়ে ৩ কোটি ১২ লাখ ডলার বেশি এসেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে প্রবাসীদের পাঠোনো রেমিট্যান্সের মধ্যে বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৫৪ কোটি ১৩ লাখ মার্কিন ডলার।এ ছাড়া রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ১৭ কোটি ২৪ লাখ ৮০ হাজার ডলার, বিশেষায়িত ব্যাংকের মাধ্যমে ১ কোটি ৯০ হাজার ডলার এবং বিদেশি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ২৪ লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলার।
এর আগে, চলতি বছরের জানুয়ারিতে ২১০ কোটি ডলার, ফেব্রুয়ারিতে ২১৬ কোটি ৬০ লাখ ডলার, মার্চে ১৯৯ কোটি ৬৮ লাখ ডলার, এপ্রিলে ২০৪ কোটি ৩০ লাখ ডলার এবং মে মাসে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ২২৫ কোটি ডলার।গত ২০২২-২৩ অর্থবছর বাংলাদেশে ২ হাজার ১৬১ কোটি ডলারের প্রবাসী আয় দেশে আসে। চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে (জুলাই-জুন) প্রবাসী আয় এসেছে ২ হাজার ১৩৭ কোটি ডলারের।
দেশে মার্কিন ডলারের সংকটের কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বা মজুত কমেই চলেছে। সংকট মোকাবিলায় গত মাসে মার্কিন ডলারের আনুষ্ঠানিক দাম এক লাফে ৭ টাকা বাড়িয়ে ১১৭ টাকায় নির্ধারণ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ডলারের মূল্যবৃদ্ধির কারণে রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়ের প্রবাহ বেড়েছে। তবে ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স বাড়াতে হলে অর্থ পাচার ও হুন্ডি রোধে বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে বলে মনে করেন ব্যাংকাররা।