দেশে ডলারের দাম আবারও বাড়ছে। এর প্রভাব পড়তে পারে আমদানি ব্যয় ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে। বর্তমানে আমদানি খাতে প্রতি ডলার বিক্রি হচ্ছে ১২৩ টাকা ৭৫ পয়সায়। আর খোলাবাজার ও ব্যাংকের নগদ লেনদেনে ডলারের দাম ১২৪ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ১২৬ টাকা ৫০ পয়সার মধ্যে রয়েছে।
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। এতে বাড়তে পারে আমদানি ব্যয়, উৎপাদন খরচ ও মূল্যস্ফীতি।
জুলাই মাসের শুরু থেকেই ডলারের দামে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যায়। আন্তঃব্যাংক লেনদেনের তথ্য অনুযায়ী, মাসের শুরুতে প্রতি ডলারের দাম প্রতিদিন ১৩ থেকে ১৫ পয়সা করে বাড়ছিল। তবে শেষ সপ্তাহে এক লাফে দাম বেড়ে যায় ৫০ পয়সা। এর সঙ্গে তাল মিলিয়ে ব্যাংকগুলোর বিক্রয়মূল্যও বেড়েছে।
গত এক সপ্তাহে আমদানি খাতে প্রতি ডলার ১২৩ টাকা ৭৫ পয়সা থেকে বেড়ে ১২৩ টাকা ৯০ পয়সায় বিক্রি হয়েছে। অন্যদিকে খোলাবাজার ও ব্যাংকের নগদ লেনদেনে ডলারের দাম ১২৪ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ১২৬ টাকা ৫০ পয়সার মধ্যে রয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, রফতানি আয় প্রত্যাশিত হারে না বাড়লেও আমদানি কার্যক্রম বেড়েছে। ফলে ডলারের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় বাজারে এর দামও বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক বিনিময় হার নির্ধারণে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করে না। চাহিদা ও জোগানের ভিত্তিতেই বাজারে ডলারের দাম নির্ধারিত হয়। তবে কোনো ব্যাংকের বিরুদ্ধে কারসাজির অভিযোগ উঠলে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা পরিদর্শন বিভাগ বিষয়টি তদন্ত করবে।
তবে অর্থনীতিবিদদের মতে, ডলারের দাম বাড়ার পেছনে শুধু আইএমএফের পরামর্শ নয়, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতাও বড় ভূমিকা রাখছে। এর ফলে উচ্চমূল্যে ডলার কিনে আমদানি করতে হওয়ায় উৎপাদন ব্যয় বাড়বে, যার প্রভাব পড়বে ভোক্তা পর্যায়ে। এতে মূল্যস্ফীতির চাপও বাড়তে পারে।