শেয়ারবাজারে লাভের সুযোগ যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি ক্ষতি নিয়ন্ত্রণ করাও সফল বিনিয়োগের অন্যতম প্রধান শর্ত।
অনেক বিনিয়োগকারী ভালো শেয়ার নির্বাচন করলেও সঠিক সময়ে স্টপ লস ব্যবহার না করার কারণে অপ্রয়োজনীয় বড় ক্ষতির মুখে পড়েন। তাই বিনিয়োগ বা ট্রেডিংয়ের আগে একটি সুস্পষ্ট স্টপ লস পরিকল্পনা নির্ধারণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
স্টপ লসের মূল উদ্দেশ্য হলো সম্ভাব্য ক্ষতিকে একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে রাখা এবং বিনিয়োগকারীর মূলধন সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
কখন স্টপ লস দেওয়া উচিত?
১. গুরুত্বপূর্ণ সাপোর্ট লেভেল ভেঙে গেলে
কোনো শেয়ার টেকনিক্যাল বিশ্লেষণের ভিত্তিতে নির্ধারিত গুরুত্বপূর্ণ সাপোর্ট লেভেলের নিচে শক্তিশালী ভলিউমে নেমে গেলে স্টপ লস কার্যকর করা উচিত। কারণ এটি অনেক সময় আরও নিম্নমুখী প্রবণতার ইঙ্গিত দেয়।
২. বিনিয়োগের মূল কারণ পরিবর্তিত হলে
যে কারণে শেয়ারটি কেনা হয়েছিল, সেই ভিত্তি যদি দুর্বল হয়ে যায়, যেমন কোম্পানির আর্থিক ফলাফল প্রত্যাশার তুলনায় খারাপ হয়, ব্যবসায়িক ঝুঁকি বেড়ে যায় বা নতুন কোনো নেতিবাচক তথ্য প্রকাশিত হয়, তাহলে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত পুনর্মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
৩. পূর্বনির্ধারিত ক্ষতির সীমা অতিক্রম করলে
অনেক অভিজ্ঞ ট্রেডার একটি ট্রেডে সর্বোচ্চ ৫ থেকে ৮ শতাংশ পর্যন্ত ক্ষতির সীমা নির্ধারণ করেন। কেউ কেউ নিজস্ব ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা অনুযায়ী ভিন্ন সীমাও ব্যবহার করেন। নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করলে আবেগ নয়, পরিকল্পনা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়াই শ্রেয়।
৪. বাজারের সামগ্রিক প্রবণতা নেতিবাচক হলে
কখনও কখনও কোনো কোম্পানির মৌলিক ভিত্তি ভালো থাকলেও সামগ্রিক বাজারের শক্তিশালী নিম্নমুখী প্রবণতার কারণে শেয়ারের দাম কমতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে স্টপ লস বিবেচনা করা যেতে পারে।
যে ভুলগুলো এড়িয়ে চলা উচিত
গুজব বা আতঙ্কের ভিত্তিতে স্টপ লস নির্ধারণ করা।
প্রতিদিনের স্বাভাবিক মূল্য ওঠানামায় বারবার স্টপ লস পরিবর্তন করা।
স্টপ লস কার্যকর হওয়ার পর আবেগের বশবর্তী হয়ে পুনরায় একই শেয়ারে বিনিয়োগ করা।
কোনো পরিকল্পনা ছাড়াই শুধু অন্যের পরামর্শে ট্রেড করা।
স্টপ লস কখনোই ক্ষতি নিশ্চিত করার কৌশল নয়; বরং এটি বড় ক্ষতি এড়িয়ে দীর্ঘমেয়াদে মূলধন সুরক্ষার একটি কার্যকর ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি। লাভের সুযোগ ভবিষ্যতেও আসবে, কিন্তু বড় ক্ষতির পর মূলধন পুনরুদ্ধার করতে অনেক বেশি সময় ও ধৈর্যের প্রয়োজন হয়।
তাই প্রতিটি বিনিয়োগ বা ট্রেডের আগে সম্ভাব্য লাভের পাশাপাশি সম্ভাব্য ক্ষতির সীমাও নির্ধারণ করা উচিত। মনে রাখতে হবে, সফল বিনিয়োগের প্রথম শর্ত বেশি লাভ করা নয়, বরং মূলধনকে নিরাপদ রাখা।
Author
-
মোঃ জসিম উদ্দিন তালুকদার দেশের পুঁজিবাজারের সাথে সরাসরি যুক্ত। তিনি উপ-মহাব্যবস্থাপক, জাহান সিকিউরিটিজ লিমিটেডের। পোর্টফোলিও পরিচালনায় সুদক্ষ ও অভিজ্ঞতা সম্পন্ন। তিনি ২০ বছর ধরে অত্যন্ত সুনামের সহিত পুঁজিবাজারের সাথে যুক্ত আছেন।
View all posts