অর্থ লিপি

২১ জুলাই ২০২৬ মঙ্গলবার ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

নতুন বছরের শুরুতেই বেড়েছে ব্যাংক ঋণের সুদহার

সবার আগে শেয়ার বাজারের নির্ভর যোগ্য খবর পেতে আপনার ফেসবুক থেকে  “অর্থ লিপি.কম” ফেসবুক পেজে লাইক করে রাখুন, সবার আগে আপনার ওয়ালে দেখতে। লাইক করতে লিংকে ক্লিক করুন  www.facebook.com/OrthoLipi

চলতি ২০২৪ সালের প্রথম দিনেই দেশে ব্যাংক ঋণের সুদহার বেড়ে ১১.৮৯ শতাংশে উঠেছে। এই হার ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে ছিল সর্বোচ্চ ১১.৪৭ শতাংশ। সরকারি ঋণের সুদহার বৃদ্ধিপাওয়ায় মানুষের নেওয়া ঋণের সুদহারও বাড়ছে। কারণ, গত জুলাই থেকে সরকারের ঋণের সুদ হারের সঙ্গে সম্পর্ক রেখে সাধারণ গ্রাহককে দেওয়া ব্যাংক ঋণের সুদহার নির্ধারিত হচ্ছে।

দেশে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) শর্ত অনুযায়ীবাজারভিত্তিক সুদহার নির্ধারণের নিয়ম চালু করতে গত জুন মাস থেকে স্মার্ট (সিক্স মান্থসমুভিং অ্যাভারেজ রেট অব ট্রেজারি বিল) সুদহার চালু করে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রতি মাসে শুরুতে তা ব্যাংকগুলোকে জানিয়ে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।  

প্রথম মাসে, অর্থাৎ জুনে স্মার্ট সুদের হার ছিল .১০ শতাংশ, যা নভেম্বরে বেড়ে হয় .৭২শতাংশ। ডিসেম্বরে তা আরও বেড়ে দাঁড়ায় .১৪ শতাংশ। স্মার্ট সুদহারের সঙ্গে ব্যাংকগুলো.৭৫ শতাংশ পর্যন্ত সুদ যোগ করতে পারে। ফলে সুদহার বেড়ে এখন হয়েছে ১১.৮৯শতাংশ। সুদহার নির্ধারণে বেশির ভাগ ব্যাংক কিছুটা অপেক্ষা করলেও এখন তা পরিবর্তনকরছে। কারণ, শতাংশ থেকে বেড়ে ঋণের সুদহার বেড়ে প্রায় ১২ শতাংশ ছুঁই ছুঁই করছে।

ছাড়া প্রিশিপমেন্টে রপ্তানি ঋণ এবং কৃষি পল্লিঋণের সুদহার নির্ধারণ করতে স্মার্টসুদহারের সঙ্গে সর্বোচ্চ .৭৫ শতাংশ সুদ যোগ করতে পারে ব্যাংকগুলো। এসএমই ঋণেরবিপরীতে অতিরিক্ত শতাংশ হারে সেবা মাশুলও নেওয়া যায়।

প্রতি ছয় মাসের ট্রেজারি বিল বন্ডের গড় সুদহার বের করে হিসাব করা হয়স্মার্টসুদহার। প্রতি মাসের শেষে বা প্রথম দিনে স্মার্ট সুদহার কত হবে তা জানিয়ে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। যা পরবর্তী মাসে বিতরণ করা নতুন ঋণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়। সে অনুযায়ী ২০২৩ ডিসেম্বরমাসের স্মার্ট সুদহার জানুয়ারি মাসের জন্য প্রযোজ্য হবে। তবে প্রতি মাসে গ্রাহক পর্যায়েসুদহার পরিবর্তন করা যায় না।

ঋণের সুদহার বাড়ায় ব্যাংকগুলো আমানতের সুদহারও বাড়াচ্ছে। আবার তারল্য সংকটে পড়ে কোনো কোনো ব্যাংক উচ্চ সুদে আমানত নিচ্ছে, তারা এমনকি ১২ শতাংশ সুদেও তহবিল সংগ্রহ করছে। এদিকে আমানতের সুদহার বৃদ্ধির কারণে ঘরে রাখা টাকা ব্যাংকে জমা রাখার প্রবণতা বেড়েছে। তবে এখনো আমানতের চেয়ে ঋণের প্রবৃদ্ধি বেশি। ফলেব্যাংকে টাকার সংকট চলছেই।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত জুনে ব্যাংকের বাইরে থাকা মুদ্রার পরিমাণ ছিল লাখ ৯১ হাজার ৯১৩ কোটি টাকা, যা অক্টোবরে কমে হয়েছে লাখ ৪৫ হাজার ৯৪৩ কোটি টাকা। ব্যাংকিংব্যবস্থার বাইরে থাকা অর্থের পরিমাণ কমায় আমানত বেড়েছে ব্যাংকে।

গতজুন মাসে ব্যাংকগুলোতে আমানতের পরিমাণ ছিল ১৫ লাখ ৯৫ হাজার ২৫৪ কোটি টাকা, যা অক্টোবরে বেড়ে হয়েছে ১৬ লাখ ৩৬ হাজার ৫৯২ কোটি টাকা। আর জুন মাসে ঋণেরপরিমাণ ছিল ১৫ লাখ ৭০ হাজার ৪৩৯ কোটি টাকা, যা অক্টোবরে বেড়ে ১৬ লাখ হাজার ৪৩৫ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে।

ব্যাংক ঋণের সুদহার বাড়ার কারণে শেয়ার বাজারে যারা ভালো মৌলভিত্তির শেয়ারে বিনিয়োগ করত এমন বেশ কিছু ফান্ড ব্যাংকে জমা রাখবে হয়তো। বাজার ফ্লোর প্রাইজেরকারণে স্থবির হয়ে থাকার জন্যে এবং ব্যাংক ঋণের সুদহার বাড়ার কারণে এক শ্রেণির বড় বিনিয়োগকারীরা ব্যাংকে টাকা রাখতে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।

এছাড়াও ব্যাংক ঋণের সুদহার বাড়ার কারণে শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত যে সব কোম্পানি ব্যাংকে টাকা জমা রাখত তাদের মুনাফা বাড়বে ভবিষ্যতে।

Author

  • 'অর্থ লিপি ডট কম' একটি নির্ভরযোগ্য শেয়ার বাজার ভিত্তিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল। অর্থ ও বাণিজ্য, রাজনীতি, সমাজ ও সংস্কৃতি, প্রতিবেদন, বিশ্লেষণমূলক লেখা প্রকাশ করে।

    'অর্থ লিপি ডট কম' শেয়ার মার্কেটের প্রয়োজনীয় সকল তথ্য সততার সহিত পরিবেশন করে এবং কোন সময় অতিরঞ্জিত, ভুল তথ্য প্রকাশ করেনা এবং গুজব ছড়ায়না, বরং বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে বদ্ধ পরিকর। এটি একটি স্বাধীন, নির্দলীয় এবং অলাভজনক প্রকাশনা মাধ্যম।

    View all posts
Share on facebook
Facebook
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
আপনি এটাও পড়তে পারেন
শেয়ার বাজার

আপনি এই পৃষ্ঠার কন্টেন্ট কপি করতে পারবেন না।