অর্থ লিপি

৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ মঙ্গলবার ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩

লাফার্জ হোলসিমের কারখানায় সিলেট শহরের বর্জ্য ব্যবহৃত হবে

সবার আগে শেয়ার বাজারের নির্ভর যোগ্য খবর পেতে আপনার ফেসবুক থেকে  “অর্থ লিপি.কম” ফেসবুক পেজে লাইক করে রাখুন, সবার আগে আপনার ওয়ালে দেখতে। লাইক করতে লিংকে ক্লিক করুন  www.facebook.com/OrthoLipi

দেশের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত সিমেন্ট খাতের বহুজাতিক কোম্পানি লাফার্জ হোলসিম বাংলাদেশ লিমিটেড (LHBL) সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) এলাকার প্লাস্টিক ও কঠিন বর্জ্য পরিবেশ সম্মত ভাবে ব্যবস্থাপনা করবে, এসব বর্জ্য পরিশোধনের পর ব্যবহার হবে লাফার্জহোলসিম সিমেন্টের কারখানায়।

এ জন্য সিলেট শহরের লালমাটিয়া ডাম্পিং গ্রাউন্ডে ১৫ কোটি ৩০ লাখ টাকায় বর্জ্য পৃথক্‌করণ প্ল্যান্ট বসানো হয়েছে। এ প্ল্যান্টে প্রাথমিক ভাবে দিনে ২০০ টন বর্জ্য পরিশোধন করা হবে। পরে এ সক্ষমতা আরও বাড়ানো হবে জানিয়েছে লাফার্জ হোলসিম।

গত শনিবার (১৭ই ফেব্রুয়ারি) প্ল্যান্টটির উদ্বোধন করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মোঃ তাজুল ইসলাম। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সিলেটের সংসদ সদস্য এ কে আব্দুল মোমেন, হাবিুবর রহমান, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মুহম্মদ ইব্রাহিম, সিসিক মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী ও লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মোহাম্মদ ইকবাল চৌধুরী প্রমুখ।

টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সিলেট সিটি করপোরেশন ও লাফার্জ হোলসিম বাংলাদেশ যৌথভাবে এ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এটি দেশের প্রথম ও একমাত্র প্লাস্টিক বর্জ্য পৃথক্‌করণ প্ল্যান্ট। এখানে পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর অপচনশীল প্লাস্টিক-জাতীয় পণ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে আলাদা করা সম্ভব হবে।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মোঃ তাজুল ইসলাম বলেন, প্লাস্টিক বর্জ্যের টেকসই ব্যবস্থাপনা করা আমাদের দীর্ঘ দিনের চ্যালেঞ্জ। সরকার বিভিন্ন স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প গ্রহণের মাধ্যমে প্লাস্টিক দূষণ কমাতে কাজ করছে। তবে সরকারের একার পক্ষে এ কাজ করা কঠিন। এ জন্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে।

সিলেট শহরকে একটি প্লাস্টিকমুক্ত নগরীতে রূপান্তর করা অন্যতম লক্ষ্য বলে অনুষ্ঠানে জানান সিসিক মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘এ উদ্দেশ্যে আমরা লাফার্জহোলসিমের সঙ্গে কাজ করছি।’ এ সময় সিলেটবাসীর কাছে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো ও প্লাস্টিক পণ্যের ব্যবহার কমানোর অনুরোধ করেন তিনি। আনোয়ারুজ্জামান বলেন, ‘আপনারা যেখানে-সেখানে প্লাস্টিক পণ্য ফেলে পরিবেশের ক্ষতি করবেন না।’

লাফার্জ হোলসিম বাংলাদেশের সিইও মোহাম্মদ ইকবাল চৌধুরী বলেন, ‘আজকের দিনটি আমাদের জন্য একটি মাইলফলক। আগে পরীক্ষামূলক পর্যায়ে সিসিকের সঙ্গে আমরা কাজ করেছি। ভবিষ্যতে আশপাশের পৌরসভাগুলোকেও এ সুবিধা ব্যবহারে আমরা উৎসাহিত করব।’

উল্লেখ্য, সুনামগঞ্জের ছাতকে লাফার্জ হোলসিমের প্ল্যান্ট রয়েছে। দেশের একমাত্র স্বয়ংসম্পূর্ণ এ প্ল্যান্টে বিভিন্ন ধরনের অপচনশীল পণ্য টেকসই উপায়ে প্রক্রিয়াজাত করা হয়। একই পদ্ধতিতে সিলেট সিটি করপোরেশনের অপচনশীল প্লাস্টিক পণ্যগুলোও প্রক্রিয়াজাত করা হবে বলে জানান মোহাম্মদ ইকবাল চৌধুরী। এ ছাড়া দেশে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে পৃথক আইন ও নীতি প্রণয়ন এবং তা বাস্তবায়নে কথাও বলেন তিনি।

ছাতকে লাফার্জ হোলসিমের সিমেন্ট প্ল্যান্টে ক্লিনকার উৎপাদন হয়। ক্লিনকার তৈরির সুবিধা থাকায় এই প্ল্যান্টে টেকসই উপায়ে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা করা সম্ভব। বিশ্বের ৫০টির বেশি দেশে হোলসিম গ্রুপ এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বাংলাদেশে ২০১৭ সাল থেকে এ কার্যক্রম শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। লাফার্জহোলসিমের প্ল্যান্টে বছরে প্রায় এক লাখ টন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা করা সম্ভব; যা ভবিষ্যতে তিন লাখ টনে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

Author

Share on facebook
Facebook
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
আপনি এটাও পড়তে পারেন
শেয়ার বাজার

আপনি এই পৃষ্ঠার কন্টেন্ট কপি করতে পারবেন না।