দেশে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া সহিংসতা, অচলাবস্থা আর শেখ হাসিনা সরকারের প্রতি অনাস্থা থেকে পতন– সব মিলিয়ে এক দুর্যোগময় পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেছে পুরো দেশ। এ সময়জুড়ে বৈধপথে রেমিট্যান্স পাঠানো এক প্রকার বন্ধ রেখেছিলেন প্রবাসীরা। তবে সরকার পতনেরপর রেমিট্যান্স প্রবাহ আবার হু হু করে বাড়তে থাকে।
প্রবাসীরা সতস্ফুর্ত হয়ে আগের তুলনায় বেশি পরিমাণ রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন। এমন সতস্ফুর্তভাবে রেমিট্যান্স পাঠানোর ঘটনা এবাই প্রথম বলে জানিয়েছেন বিশ্বের বৃহৎ কয়েকটি রেমিট্যান্স হাউজের প্রতিনিধিরা ।বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কয়েকটি রেমিট্যান্স হাউজের প্রতিনিধিরা বলেছেন রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের রেমিট্যান্স পাঠানোর সময়এত খুশি হতে আগে কখনো দেখেননি তারা।
বৈধপথে রেমিট্যান্স আসার ধারাবাহিকতায় আগস্ট মাসে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ২২২কোটি মার্কিন ডলার বিলিয়ন ডলার। গতকাল রবিবার (১ সেপ্টেম্বর) এ তথ্য জানিয়েছেবাংলাদেশ ব্যাংক।এর আগের মাস জুলাইয়ে প্রবাসী আয় এসেছিল প্রায় ১৯১ কোটি মার্কিন ডলার, যা গত ১০মাসের মধ্যে সবচেয়ে কম। তবে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, রেমিট্যান্স আহরণ কমলেও আগস্টে দেশে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির মাধ্যমে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এনেছে ট্রাস্ট ব্যাংক। ২০ কোটি৬৬ লাখ ডলার রেমিট্যান্স আনার মাধ্যমে ব্র্যাক ব্যাংক উঠে এসেছে তৃতীয় স্থানে। চতুর্থ ওপঞ্চম স্থানে আছে যথাক্রমে জনতা ব্যাংক ও মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক। এর মধ্যে ইসলামীব্যাংক ছাড়া বাকি চারটি ব্যাংকেই আগস্টে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, প্রবাসীরা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশিপরিমাণ রেমিট্যান্স দেশে পাঠাচ্ছেন। গভর্নর হিসেবে ড. আহসান এইচ মনসুর যোগদানেরপর ডলারের বিনিময় হার বাড়ানো হয়েছে। এখন ব্যাংক খাতে প্রতি ডলার ১২০ টাকা দরেলেনদেন হচ্ছে। এ কারণে রিজার্ভের ক্ষয় আপাতত বন্ধ হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক এখনআর রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি করছে না।