দেশের শেয়ারবাজারে এসএমই খাতে ক্রাফটসম্যান ফুটওয়্যার অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ লিমিটেড কোয়ালিফায়েড ইনভেস্টর অফারের (কিউআইও) মাধ্যমে ৫ কোটি টাকার মূলধন উত্তোলনের অনুমোদন দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।
কোম্পানিটি কিউআইওর মাধ্যমে প্রতিটি ১০ টাকা অভিহিত মূল্যে ৫০ লাখ শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে ৫ কোটি টাকা উত্তোলন করবে। উত্তোলিত অর্থ দিয়ে কোম্পানিটি ব্যালেন্সিং, আধুনিকায়ন, বিস্তার ও প্রতিস্থাপন, ব্যাংক ঋণ পরিশোধ, কার্যকরী মূলধন ব্যবস্থাপনা এবং ইস্যু ব্যবস্থাপনা খরচ খাতে ব্যয় করবে।
কোম্পানিটির গত ৩০শে জুন সমাপ্ত ২০২৩ হিসাব বছরে শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ২.৩৫ টাকা এবং শেয়ার প্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ১৬.৭২ টাকা। এসএমই প্লাটফর্মে লেনদেনের তারিখ থেকে পরবর্তী তিন বছর ইস্যুয়ার কোম্পানি কোনো বোনাস শেয়ার ইস্যু করতে পারবে না।
ক্রাফটসম্যান ফুটওয়্যার অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ লিমিটেড রপ্তানিমুখী কোম্পানি হিসেবে ২০১৭ সালে যাত্রা শুরু করে। গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার জৈনা বাজার এলাকায় প্রায় এক লাখ বর্গফুট জায়গায় কারখানাটি গড়ে তোলা হয়েছে। এই কারখানায় বর্তমানে ৭৫০ এর বেশি শ্রমিক কাজ করছেন। এখন পর্যন্ত প্রায় ৩ লাখ ৪০ হাজার জোড়া জুতা রপ্তানি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
ক্রাফটসম্যান ফুটওয়্যার প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হলেন সাদাত হোসেন সেলিম, আর চেয়ারম্যান রেজিনা বেগম। কোম্পানিটিতে ছয়জন পরিচালক আছেন। তাঁরা হলেন সারা হোসেন, রুমানা বেগম, মাহে আলম, সাবরিনা জামান, মোঃ জহিরুল ইসলাম ও আবু সাঈদ।
সাদাত হোসেন সেলিম বলেন, ‘দেশে যেসব জুতা পাওয়া যায় তার ৮০ শতাংশই সিনথেটিক বা কৃত্রিম চামড়া দিয়ে তৈরি। ফলে দেশীয় চামড়ার পণ্য উৎপাদন ও রপ্তানির বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু এ সম্ভাবনাকে আমরা কাজে লাগাতে পারছি না। সে জন্যই চামড়াজাত পণ্য তৈরির এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ক্রাফটসম্যান ফুটওয়্যারের কর্মকর্তারা জানান, চামড়ার জুতা তৈরির প্রক্রিয়াটি ন্যূনতম ছয়টি ধাপে সম্পন্ন হয়ে থাকে। চামড়া এনে প্রথমে কারখানার বন্ডেড ওয়্যারহাউসে রাখা হয়। গ্রাহকের চাহিদা ও জুতার নকশা অনুসারে কর্মীরা সেই চামড়া কাটেন ও এর পুরুত্ব কমান। এরপর তা দিয়ে জুতার ওপরের অংশ সেলাই করা হয়। অন্যদিকে আলাদা যন্ত্রে বানানো হয় জুতার সোল বা তলা। তখন লাস্টিং বিভাগে উভয় অংশ জোড়া দেওয়া শেষে জুতা বিক্রি বা রপ্তানির জন্য মোড়কজাত করা হয়।
কোম্পানিটির অপারেশন বিভাগের পরিচালক মাহে আলম জানান, এই কারখানায় দৈনিক এক পালায় ১৫ হাজার জোড়ার বেশি জুতা তৈরি হয়। বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশ থেকে উন্নত যন্ত্রপাতি এনে স্থাপন করা হয়েছে ক্রাফটসম্যান ফুটওয়্যারের কারখানায়। প্রযুক্তিগত সহায়তা নিয়েছে ইতালি, জার্মানি ও চীন থেকে। তবে পণ্য উৎপাদনে তারা ইতালির উৎপাদন ব্যবস্থাই অনুসরণ করে।
কোম্পানিটির পরিচালক মোঃ জহিরুল ইসলাম জানান, তাঁদের কারখানায় দেশি-বিদেশি অভিজ্ঞ নকশাকারকেরা আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন বিভিন্ন নকশা করে দেন। চামড়া খাতের বৈশ্বিক সংস্থা লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপের (এলডব্লিউজি) সনদ পাওয়া চট্টগ্রামের ট্যানারি রিফ লেদারসহ এশিয়ার সেরা কয়েকটি ট্যানারি থেকে চামড়া আনা হয়।
গ্রাহকদের জন্য ফরমাল, ক্যাজুয়াল, অক্সফোর্ড, মোকাসিন, ডার্বি, হাইহিল, পামিসহ বিভিন্ন ধরনের জুতা বানায় ক্রাফটসম্যান ফুটওয়্যার। বর্তমানে ইতালি, জার্মানি, সুইডেন, স্পেন, বেলজিয়াম ও নেদারল্যান্ডস—এই ছয় দেশে জুতা রপ্তানি করছে ক্রাফটসম্যান ফুটওয়্যার। কর্মকর্তারা জানান, ইতিমধ্যে পণ্যের মান ও কারখানার পরিবেশ বিষয়ে দুটি আইএসও সনদ পেয়েছে।
কোম্পানিটির এমডি সাদাত হোসেন সেলিম জানান, ‘আগামী ২-৩ বছরের মধ্যে রপ্তানির পরিমাণ ১ কোটি ২০ লাখ ডলারে নেওয়ার ইচ্ছা রয়েছে। এ জন্য পৃথক ওয়্যারহাউস ও নতুন কারখানা ভবন তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। আমাদের উল্লেখযোগ্য পরিমাণে ব্যাংক ঋণ আছে, ব্যাংকও সুদহার বাড়াচ্ছে। এসব কারণে পুঁজিবাজারে আসতে চাচ্ছি।’
কোম্পানিটির পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার প্রক্রিয়ায় ইস্যু ম্যানেজার হিসেবে কাজ করছে গ্রিন ডেলটা ক্যাপিটাল লিমিটেড ।
Author
-
'অর্থ লিপি ডট কম' একটি নির্ভরযোগ্য শেয়ার বাজার ভিত্তিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল। অর্থ ও বাণিজ্য, রাজনীতি, সমাজ ও সংস্কৃতি, প্রতিবেদন, বিশ্লেষণমূলক লেখা প্রকাশ করে।
View all posts
'অর্থ লিপি ডট কম' শেয়ার মার্কেটের প্রয়োজনীয় সকল তথ্য সততার সহিত পরিবেশন করে এবং কোন সময় অতিরঞ্জিত, ভুল তথ্য প্রকাশ করেনা এবং গুজব ছড়ায়না, বরং বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে বদ্ধ পরিকর। এটি একটি স্বাধীন, নির্দলীয় এবং অলাভজনক প্রকাশনা মাধ্যম।