জুলাই মাসের শেষ কার্যদিবসে ইতিবাচক ধারায় লেনদেন শেষ করেছে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। দিন শেষে প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ১৬.৭৩ পয়েন্ট বা ০.২৮ শতাংশ বেড়ে ৫,৮৯৫.৫৮ পয়েন্টে অবস্থান করে। একই সঙ্গে ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৩.৩০ পয়েন্ট এবং ডিএসই-৩০ সূচক ৬.৪৯ পয়েন্ট বৃদ্ধি পায়।
বাজারে মোট ১ হাজার ৪৩৪ কোটি ৩৫ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে, যা আগের কার্যদিবসের ১ হাজার ৩৪২ কোটি ৫২ লাখ টাকা থেকে প্রায় ৯২ কোটি টাকা বেশি। দিন শেষে মোট ২ লাখ ৪৭ হাজার ৫৪২টি লেনদেনে ৩৮ কোটি ৮৫ লাখের বেশি শেয়ার ও ইউনিট হাতবদল হয়েছে।
বাজারে ১৭৪টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে, ১৬৩টির কমেছে এবং ৫৫টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। দিনজুড়ে কিছুটা ওঠানামার পর শেষ ঘণ্টায় ক্রেতাদের সক্রিয় অংশগ্রহণে সূচক ঊর্ধ্বমুখী হয়ে মাসের শেষ লেনদেন ইতিবাচক অবস্থায় শেষ হয়।
লেনদেন মূল্যের দিক থেকে শীর্ষে ছিল সাইহাম টেক্সটাইলস, টেকনো ড্রাগস, ডমিনেজ স্টিল, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস, সাইহাম কটন মিলস, সাপোর্টাল, ফার ইস্ট নিটিং অ্যান্ড ডাইং, আইটিসি, আর্গন ডেনিম এবং বেক্সিমকো লিমিটেড।
অন্যদিকে দর বৃদ্ধির শীর্ষে ছিল বেক্সিমকো লিমিটেড, যার শেয়ারদর প্রায় ৯.৯৫ শতাংশ বেড়েছে। এছাড়া এমেরাল্ড অয়েল, জিবিবি পাওয়ার, বারাকা পাওয়ার, এক্সিম ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড, সিপিএলসি, ইউনাইটেড ইন্স্যুরেন্স এবং সাইহাম টেক্সটাইলস উল্লেখযোগ্য দর বৃদ্ধি পেয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, জুলাই মাস শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ডিসেম্বর সমাপ্ত অর্থবছরের কোম্পানিগুলোর ২য় প্রান্তিক (এপ্রিল-জুন) আর্থিক প্রতিবেদন এবং শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) প্রকাশের কার্যক্রম প্রায় শেষ হয়ে যাবে। ফলে কোম্পানিগুলোর আর্থিক তথ্য নিয়ে যে অনিশ্চয়তা ছিল, তা অনেকটাই কেটে যাবে।
এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় থাকা মার্জিন ঋণ (মার্জিন লোন) বিধিমালা নিয়েও আগস্টের শুরুতেই স্পষ্টতা আসতে পারে বলে বাজারসংশ্লিষ্টদের ধারণা। এই অনিশ্চয়তা দূর হলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা আরও বাড়বে এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণও বৃদ্ধি পেতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিগত সুদহার (পলিসি রেট) কমানোর সিদ্ধান্ত, নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর ইতিবাচক উদ্যোগ এবং অর্থনীতির বিভিন্ন সূচকে ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতা ফিরে আসার প্রভাব আগামী মাসে শেয়ারবাজারেও প্রতিফলিত হতে পারে।
বাজার বিশ্লেষকদের ভাষ্য, আগস্ট মাসে যদি মার্জিন ঋণ বিধিমালা নিয়ে বিদ্যমান অনিশ্চয়তা দূর হয় এবং নতুন কোনো নেতিবাচক পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়, তাহলে বাজারে লেনদেন আরও গতিশীল ও স্থিতিশীল হতে পারে। একই সঙ্গে মৌলভিত্তিসম্পন্ন ব্যাংক, ওষুধ, প্রকৌশল, বস্ত্র এবং বড় মূলধনী কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে তারা বিনিয়োগকারীদের গুজব বা আবেগের ভিত্তিতে নয়, বরং কোম্পানির মৌলিক ভিত্তি, আর্থিক প্রতিবেদন, মূল্যায়ন এবং দীর্ঘমেয়াদি সম্ভাবনা বিবেচনা করে বিনিয়োগের পরামর্শ দিয়েছেন।
Author
-
'অর্থ লিপি ডট কম' একটি নির্ভরযোগ্য শেয়ার বাজার ভিত্তিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল। অর্থ ও বাণিজ্য, রাজনীতি, সমাজ ও সংস্কৃতি, প্রতিবেদন, বিশ্লেষণমূলক লেখা প্রকাশ করে।
View all posts
'অর্থ লিপি ডট কম' শেয়ার মার্কেটের প্রয়োজনীয় সকল তথ্য সততার সহিত পরিবেশন করে এবং কোন সময় অতিরঞ্জিত, ভুল তথ্য প্রকাশ করেনা এবং গুজব ছড়ায়না, বরং বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে বদ্ধ পরিকর। এটি একটি স্বাধীন, নির্দলীয় এবং অলাভজনক প্রকাশনা মাধ্যম।