গত সপ্তাহে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) মোট৪০৩ টি কোম্পানির লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দাম বেড়েছে ৫০ টির, দাম কমেছে ১৩৫ টির, দাম অপরিবর্তিত ছিল ২০৩টির এবং কোন লেনদেন হয়নি ১৫ টি কোম্পানির।

গত সপ্তাহে ৫দিনে মোট লেনদেন হয়েছে ৩২৫৬.৬৮ কোটি টাকা, আগের সপ্তাহে মোটলেনদেন হয়েছিল ৪৭৩৫.৪১ কোটি টাকা, গত সপ্তাহে গড়ে প্রতিদিন লেনদে হয়েছে৬৫১.৩৩ কোটি টাকা। যা আগের সপ্তাহে ছিল ৯৪৭.০৮ টি টাকা। গত সপ্তাহে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছিল ৭৪৬.১৬ কোটি টাকা, সবচেয়ে কম লেনদেন হয়েছিল ৫৩৮.৯২ কোটি টাকার।

গত সপ্তাহে সূচক ও লেনদেন উভয়ই কমেছে। গত সপ্তাহে ডিএসইএক্স সূচক ২৬.১০ পয়েন্ট কমে সপ্তাহ শেষ করেছে। গত সপ্তাহে লেনদেন ও আগের সপ্তাহের চেয়ে ১৪৭৮ কোটি ৭৩লাখ টাকা কমেছে । যা শতাংশের দিক দিয়ে ৩১.২৩ শতাংশ কমেছে ।
গত সপ্তাহে বাজারে উল্লেখ্য ঘটনা ছিল, দাম বাড়ার শীর্ষ তালিকায় ইন্সুরেন্স খাত চলে আসা।
বাজার বাড়ুক বা কমুক পুরো সপ্তাহ জুড়ে ফ্লোরে আটকে থাকা লোকজনদের হতাশার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, বিনিয়োগকারীদের বেশির ভাগ হতশার মধ্য দিয়ে কেটেছে পুরো সপ্তাহ।
নিন্মে গত সপ্তাহের বাজারের টপ গেইনার, টপ লুজার ও টপ ট্রেড লেনদেন নিয়ে আলোকপাত করা হলোঃ
সাপ্তাহিক (TOP GAINER) বা দাম বাড়ার শীর্ষে ছিল ক্রিস্টাল ইন্সুরেন্স লিমিটেড। সপ্তাহজুড়ে শেয়ারটির দাম বেড়েছে ২২.৭৬ শতাংশ এর মাধ্যমে কোম্পানিটি ডিএসইর সাপ্তাহিক দর বৃদ্ধির তালিকার শীর্ষে উঠে এসেছিল।
ডিএসইতে সাপ্তাহিক দাম বৃদ্ধির শীর্ষ তালিকায়উঠে আসা অন্যান্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় অবস্থায় অবস্থায় ছিল এশিয়া ইন্সুরেন্স, দাম বেড়েছে ১৮.৪০ শতাংশ, তৃতীয় অবস্থায় অবস্থায় ছিল এক্সপ্রেস ইন্সুরেন্সে, দাম বেড়েছে ১৩ শতাংশ।
উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে দাম বাড়ার শীর্ষ ১০ তালিকার ৭ টিকোম্পানি ছিল ইন্সুইরেন্স খাতের।

সাপ্তাহিক (TOP LOSER) বা দাম পতনের শীর্ষে ছিল রুপালী লাইফ ইন্সুরেন্স কোম্পানিলিমিটেড, সপ্তাহ জুড়ে কোম্পানিটির দাম কমেছে ১৯.৪৬ শতাংশ এর মাধ্যমে কোম্পানিটি ডিএসইর সাপ্তাহিক দাম পতনের তালিকার শীর্ষে উঠে এসেছিল। ডিএসইতে সাপ্তাহিকদামপতনের শীর্ষ তালিকায় উঠে আসা অন্যান্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় অবস্থায়অবস্থায় ছিল মিডল্যান্ড ব্যাংক লিমিটেড দাম কমেছে ১২.৩৫ শতাংশ,তৃতীয় অবস্থায়অবস্থায় ছিল আজিজ পাইপ দাম কমেছেছে ১০.৭৩ শতাংশ।

উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে দাম পতনের শীর্ষ ১০ তালিকায় বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ার ছিল, যার মধ্যে বেশির ভাগই ছিল টানা বাড়তে থাকা শেয়ার।
সাপ্তাহিক লেনদেনের (TOP TRADE VALUE) শীর্ষে ছিল ফুয়াং ফুড লিমিটেড, সপ্তাহ জুড়ে কোম্পানিটির ৪ কোটি ৫৩ লাখ ০৩ হাজার ৭৯৯ টি শেয়ার লেনদেন হয়েছে। যার বাজারমূল্য ১৬২ কোটি ৮ লাখ ২০ হাজার টাকা।
সাপ্তাহিক লেনদেনের (TOP TRADE VALUE ) শীর্ষে ২য় তালিকায় ছিল সীপার্ল বিচ লিমিটেড, যার বাজার মূল্য ১২৭ কোটি ৩০ লাখ ৮৯হাজার টাকা এবং ৩য় তালিকায় ছিল খান ব্রাদার্স লিমিটেড, যার বাজার মূল্য ৯৩ কোটি ৬লাখ ১৩ হাজার টাকা।

বিভিন্ন হাউজের অফিসে গিয়ে বিভিন্ন বিনিয়োগকারী ও হাউজের অফিসারদের সাথে আলাপ করে জানা গেল DSE 30 ও ভালো মান সম্পন্ন শেয়ার নিয়ে আশায় বুক বেঁধে আছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। তারা আশা করছেন এইসব শেয়ার লেনদেনে ফিরলে বাজার প্রান ফিরে পাবে।
সার্বিকভাবে বাজার বিশ্লেষণ করে দেখা গেল গত সপ্তাহে ইন্সুরেন্স খাত এবং লোপেইড কিছুশেয়ারের দামে উস্ফোলন থাকলেও বাজারের বেশির ভাগ বিনিয়োগকারীদের চরম হতাশার বাজার ছিল।
ভালো মৌল ভিত্তির সম্পন্ন শেয়ারের লেনদেন না হওয়ায় বাজার নিয়ে বিনিয়োগকারীরা চরম আস্থার সংকটে ভুগছেন।
চলছে ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও ইন্সুরেন্স খাতের কোম্পানিগুলোর ইপিএস প্রকাশ পাশাপাশি জুন ক্লোজিং, কোম্পানি গুলোর লভ্যাংশ ঘোষণা আসা শুরু হবে , যে কারণে বাজারে এক শ্রেণির বিনিয়োগকারী সাইড লাইনে থেকে বাজার পর্যবেক্ষণ করছেন। তাছাড়া রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে অনেকে বাজার পর্যবেক্ষণ করছেন।
বাজার বিশ্লেষকেরা আশা করছেন ভালো মান সম্পন্ন শেয়ারের ফ্লোর ভেঙে লেনদেনে ফিরলে বাজার চাঙ্গা হবে পাশাপাশি বাজারের প্রতি মানুষের আস্থা ফিরে আসবে।