হাড়ক্ষয় প্রতিরোধের কার্যকরী উপায় :
আশার কথা হল, শতভাগ সম্ভব না হলেও হাড়ক্ষয় অনেকাংশেই প্রতিরোধ করা যায়।অনেকেই নব্বই বছরে মেরুদণ্ড সোজা করে জোরেশোরে হাঁটতে পারেন। নিম্নোক্ত উপায় মেনে চলুন, হাড়ক্ষয় প্রতিরোধ করুন :
১. ক্যালসিয়াম সাপ্লাই : প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমানে ক্যালসিয়ামযুক্ত খাবার খান – পালংশাক, লাল শাক, ব্রুকলি, কাঁটাযুক্ত ছোট মাছ, ইলিশ মাছ, কালিজিরা, কাঠবাদাম, টক দই, চিজ, টফু ইত্যাদি।
২. ভিটামিন ডি : তৈলাক্ত মাছ, ডিম, কলিজা খান। প্রতিদিন খালি গায়ে ৩০ মিনিট রোদেথাকুন। ভিটামিন ডি না থাকলে ক্যালসিয়াম খেয়ে লাভ নেই।
৩. এক্সারসাইজ : স্ট্রেন্থ ট্রেইনিং ও ওয়েট–বিয়ারিং উভয় প্রকারের এক্সারসাইজ হাড়ের স্ট্রেন্থবৃদ্ধি করে – এটা রিসার্চে প্রমাণিত।
৪. পর্যাপ্ত প্রোটিন : হাড়ের এক–তৃতীয়াংশ অর্গানিক পদার্থ, যার প্রধান প্রোটিন। প্রোটিন কমখেলে ক্যালসিয়াম এবসর্পশন কম হয়। উন্নত মানের প্রোটিন খান – মাছ, মাংস ও ডিম।
৫. ভিটামিন সি : ভিটামিন সি নতুন বোন সেল তৈরিতে উদ্দীপনা জাগায় এবং ইনফ্লেমেশনকমায়। সাইট্রাস ফল ও শাকসবজীতে পর্যাপ্ত পরিমানে ভিটামিন সি আছে।
৬. এসিড/বেইস ব্যালেন্স : গ্রেইন খাওয়া কমান। মাছ–মাংসের সাথে প্রচুর শাকসবজি খান।প্রতিদিন ২–৩ প্রকারের ফল খান। হরেকরকম বাদাম খান।

৭. ক্যালসিয়াম–ফসফরাস ব্যালেন্স : হাড়ে প্রচুর ফসফেট থাকে, তাই আমাদেরফসফরাসযুক্ত খাবারও খেতে হবে। তবে খেয়াল রাখতে হবে ফসফরাস থেকে ক্যালসিয়ামগ্রহণ যেন বেশি হয়।
৮. টক্সিন প্রতিরোধ : তামাক, এলকোহল, প্রসেসড ফুড, কোল্ড ড্রিংকস, জুস, ইন্ডাস্ট্রিয়ালতেল পরিহার করুন।
৯. হেলথি ওয়েট : ওভারওয়েট কিম্বা আন্ডারওয়েট কোনটাই হাড়ের জন্য ভাল নয়। সবসময়হেলথি ওয়েট মেইনটেইন করুন।
১০. জিংক, ম্যাগনেসিয়াম ও ওমেগা–৩ : ম্যাগনেসিয়াম ভিটামিন ডি একটিভ করে এবংজিংক বোন সেল গঠনে হেল্প করে। ওমেগা–৩ হাড়ক্ষয় প্রতিরোধ করে।
১১. বিবিধ রোগ নিয়ন্ত্রণ : ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, IBS, পরিপাক সমস্যা, লিভার সমস্যা, কিডনি সমস্যা, থাইরয়েড সমস্যা, প্যারাথাইরয়েড সমস্যা ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণ করুন।
১২. কেমিক্যাল ঔষধ নিয়ন্ত্রণ : গ্যাস্ট্রিকের ঔষধ, এন্টি–ইনফ্লেমেটারি ড্রাগস, কতিপয়প্রেসারের ঔষধ, এজমার ঔষধ, স্টেরয়েড জাতীয় ঔষধ, আর্থাইট্রিস এর ঔষধ – আরওঅনেক ঔষধ দ্রুত হাড় ক্ষয়ের জন্য দায়ী। এগুলো নিয়ন্ত্রণ/পরিহার করুন।
টেবলেট, সিরাপ, থেরাপি, সার্জারি, সাপ্লিমেন্ট, হরলিকস, মলম, তেল মালিশ – এসব দিয়েহাড়ের রক্ষা হবে না। সময় থাকতে হাড়ের যত্ন নিন, আজীবন মেরুদণ্ড সোজা করে চলুন।