অর্থ লিপি

১৯ এপ্রিল ২০২৬ রবিবার ৬ বৈশাখ ১৪৩৩

দুর্বল ব্যাংকগুলোকে একীভূত হওয়ার জন্য কেন চাপ দিচ্ছে, তা খতিয়ে দেখা দরকার: ওয়েবিনারে অভিমত

সবার আগে শেয়ার বাজারের নির্ভর যোগ্য খবর পেতে আপনার ফেসবুক থেকে  “অর্থ লিপি.কম” ফেসবুক পেজে লাইক করে রাখুন, সবার আগে আপনার ওয়ালে দেখতে। লাইক করতে লিংকে ক্লিক করুন  www.facebook.com/OrthoLipi

বিপর্যস্ত ব্যাংকিং খাতে ব্যাংক একীভূতকরণের প্রভাবশীর্ষক এক ওয়েবিনারে বিশ্লেষকবক্তারা অভিমত দেন যে ,বাংলাদেশের ব্যাংক খাতের মূল সমস্যা হলো, খেলাপি ঋণ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অক্ষমতা। ১০ বছরের বেশি সময় ধরে দেশে খেলাপি ঋণ বেড়েছে,কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংক কিছু করতে পারেনি।

গতকাল (২৩ মার্চ)শনিবার ফোরাম ফর বাংলাদেশ স্টাডিজ আয়োজিত এই অনুষ্ঠানেবক্তারা বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক এখন হঠাৎ করে দুর্বল ব্যাংকগুলোকে একীভূত হওয়ারজন্য কেন চাপ দিচ্ছে, তা খতিয়ে দেখা দরকার। তাঁদের আশঙ্কা অভিযোগ, ব্যাংকএকীভূতকরণের মধ্য দিয়ে দোষীদের রেহাই দিয়ে জনগণের ঘাড়ে সব দায় চাপিয়ে দেওয়াহবে। আর নীতি প্রণয়নের মাধ্যমে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হচ্ছে যে ক্ষমতাবানেরাপরস্পরের সঙ্গে যোগসাজশ করার সুযোগ পাচ্ছেন।

ওয়েবিনারে মূল প্রবন্ধে উন্নয়ন অর্থনীতিবিষয়ক গবেষক এবং জার্মান ফেডারেল শিক্ষা গবেষণা মন্ত্রণালয়ের প্রকল্প গবেষক জিয়া হাসান বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক একসময়খেলাপি ঋণ কম করে দেখানোর জন্য নিয়ম পর্যন্ত পরিবর্তন করেছে। এখন আবার তারাদুর্বল ব্যাংকগুলোকে একীভূত করতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকেরঅবস্থানকে তিনি লাঠি দেখানো মুলা ঝোলানোর নীতি হিসেবে আখ্যা দেন। তিনি বলেন, এই মুলাটা জুটতে পারে দুর্নীতিবাজ ঋণখেলাপিদের; লাঠিটা সম্ভবত পড়বে সাধারণকরদাতাদের পিঠে। অর্থাৎ এর দায় বর্তাবে দরিদ্র জনগণ বা সাধারণ করদাতাদের ওপর।এর মধ্য দিয়ে ব্যাংকের ঋণখেলাপিদের দায়মুক্তি দেওয়া হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশকরেন।

জিয়া হাসান নিজ বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, পদ্মা ব্যাংকের মন্দ ঋণের দায় কে নেবে, সেটাই হলো বড় প্রশ্ন। সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি এই ঋণের দায় নেবে বলে সমঝোতাস্মারকে বলা হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংক তো এখন পর্যন্ত সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানিরআইনি কাঠামোই তৈরি করেনি। তিনি বলেন, বিষয়ে গণপরিসরে আলোচনা হওয়াদরকার। বাংলাদেশ ব্যাংক জোর করে এই একীভূতকরণের দিকে এগোলে আদালতে তারাচ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে পারে।

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালকফাহমিদা খাতুন বলেন, দুর্বল ব্যাংকের তালিকা করার ক্ষেত্রেও দেখা যেতে পারে যেপ্রভাবশালীদের মালিকানাধীন দুর্বল ব্যাংকগুলো এই তালিকায় স্থান না পেতে পারে।পদ্মা ব্যাংকের অবস্থা সবাই জানেন, কিন্তু এক্সিম ব্যাংকের অবস্থা যে খুব ভালো, তা নয়।এই পরিস্থিতিতে ভাসা ভাসা পদক্ষেপ নেওয়া হলে পরিস্থিতির বিশেষ উন্নতি হবে না।

ফাহমিদা খাতুন বলেন ব্যাংকিং কমিশন গঠনের পরামর্শ দেন। তাঁর মতে, কমিশন গঠনকরে সরকারের উচিত হবে, খোলা মন নিয়ে কমিশনের সুপারিশ গ্রহণ করা। এই সরকারটানা চার মেয়াদে ক্ষমতায় এসেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাধারণত এসব ক্ষেত্রেসরকারের একধরনের কর্তৃত্ব তৈরি হয়; তারা অনেক কিছু করতে পারে।

সিডনি পলিসি অ্যানালাইসিস সেন্টারের আন্তর্জাতিকবিষয়ক পরিচালক জ্যোতি রহমানবলেন, ‘খেলাপি ঋণের বোঝা এক দিনে তৈরি হয়নি। অনেক দিন ধরেই এই পরিস্থিতি সৃষ্টিহয়েছে। কীভাবে আমরা আজ এই পরিস্থিতিতে উপনীত হলাম, সেটা গুরুত্বপূর্ণ।

জ্যোতি রহমান মনে করেন, খেলাপি ঋণ সমস্যার টেকনিক্যাল সমাধান পাওয়া সম্ভব। কিন্তুতার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে, রাজনৈতিকঅর্থনৈতিক সমাধান। তিনি বলেন, যাঁদের কারণেএই সংকট, তাঁরা পার পেয়ে যান, আর ভুক্তভোগী হন জনগণ।

ওয়েবিনারের সঞ্চালক মনির হায়দার বলেন, দেশের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো দায় নেয় না। এটাশুধু আর্থিক খাতে নয়, সব খাতেই দেখা যায়। র‍্যাংগস বিজিএমইএ ভবন ভেঙে ফেলাহয়েছে ঠিক, কিন্তু কীভাবে সেগুলো নিয়ন্ত্রক সংস্থার চোখের সামনে দিনের পর দিন ধরে গড়েউঠেছিল, তার দায় কেউ নেয়নি।

অনুষ্ঠানে অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসী হিসাববিদ মাহমুদ হোসেন সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানির মন্দঋণ অধিগ্রহণের নিয়মকানুন নিয়ে আলোকপাত করেন। তিনি বলেন, সম্পদ ব্যবস্থাপনাকোম্পানি কি আন্তর্জাতিক রীতি অনুসারে বাজারমূল্যে এই সম্পদ কিনবে, নাকি বুকভ্যালুতে কিনবে। পদ্মা ব্যাংকের যে অবস্থা, তাতে ব্যাংকটির মন্দ ঋণের মূল্য এখননেতিবাচক হয়ে যাওয়ার কথা।

গ্লোবাল লেবার অর্গানাইজেশনের দক্ষিণপূর্ব এশিয়া বিভাগের প্রধান নিয়াজ আসাদুল্লাহবলেন, মালয়েশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থার অনেক মিল থাকলেও সেইদেশে খেলাপি ঋণ নিয়ে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, বিষয়টিরাজনৈতিক সদিচ্ছার।

উল্লেখ্য ওয়েবিনারটিতে বক্তাদের কথায় বারবার প্রভাবশালীদের পার পেয়ে যাওয়ার বিষয়টাউঠে এসেছে।

Author

Share on facebook
Facebook
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
আপনি এটাও পড়তে পারেন
শেয়ার বাজার

আপনি এই পৃষ্ঠার কন্টেন্ট কপি করতে পারবেন না।