হাই প্রেসারের ঔষধ কিভাবে কাজ করে?
হাই প্রেসারের ঔষধকে Antihypertensive বলে। এগুলোকে বিভিন্ন গ্রুপে/ ক্যাটাগরিতে ভাগ করা যায়। প্রতি গ্রুপ ভিন্নভাবে কাজ করে এবং ভিন্ন ভিন্ন সাইড–এফেক্ট তৈরি করে। ট্রায়াল এন্ড এরর পদ্ধতিতে ইফেক্টিভ ঔষধ খোঁজা হয়।
প্রেসারের ঔষধ প্রধানত ৩ ভাবে কাজ করেঃ
রক্তের ভলিউম বা পরিমাণ কমিয়ে দেয়া।
হার্টের কর্মক্ষমতা কমিয়ে দেয়া।
রক্তনালী বা ভ্যাসেল এর সংকোচন প্রতিরোধ করা কিম্বা প্রসারিত করা।
নিম্নে প্রচলিত ঔষধের কার্যপন্থা বর্ণনা করা হলঃ
১. কিছু ঔষধ কিডনি দ্বারা বেশি পরিমানে পানি ও লবণ বের করে দেয়। এতে রক্তের ভলিউমও প্রেসার কমে যায়। যেমন – Diuretics.
২. কিছু ক্যাটাগরির ঔষধ হার্টকে প্রতি বিটে অল্প পরিমানে রক্ত প্রবাহে বাধ্য করে। ফলেপ্রেসার কমে যায়। যেমন – Beta-blockers.
৩. কতিপয় ঔষধ রক্তনালীকে সংকুচিত হতে বাঁধা দেয়। ফলে প্রেসার কমে যায়। যেমন – ACE inhibitors, ARBs.
৪. কিছু ঔষধ হার্ট ও ভ্যাসেল এর পেশীতে ক্যালসিয়াম প্রবেশ বাঁধাগ্রস্ত করে। এতে হার্টের ফোর্স কমে যায় এবং ভ্যাসেল রিলাক্স থাকে। ফলে প্রেসার কমে যায়। যেমন – Calcium channel blockers.
৫. কিছু ঔষধ হরমোন আটকিয়ে ব্লাড ভ্যাসেলকে সংকোচন হতে বাঁধা দেয়। যেমন – Alpha-blockers, Alpha-beta-blockers.
৬.কিছু ঔষধ খেলে ব্রেইন সিগনাল পাঠায় ভ্যাসেল সংকোচনের হরমোন নিঃসরণ না করতে। যেমন – Central agonists.
৭. কিছু ঔষধ ক্ষুদ্র রক্তনালীর মাসলকে রিলাক্স ও প্রসারিত করে দেয়, ফলে রক্তচাপ কমে।যেমন – Vasodilators.
৮. কিছু ঔষধ বডি ফ্লুইড কমিয়ে দেয়, ফলে ব্লাড প্রেসার কমে যায়। যেমন – Aldosterone receptor antagonists
৯. কিছু ঔষধ ব্লাড ভ্যাসেলকে প্রসারিত করে, ফলে প্রেসার কমে যায়। যেমন – DRIs.

সারকথা : প্রেসারের ঔষধগুলো মেকানিক্যাল ও কেমিক্যাল পদ্ধতিতে কাজ করে। এসব কোন পদ্ধতিই স্থায়ী সমাধান দিতে ব্যর্থ। অর্থাৎ ঔষধ খাওয়া বন্ধ করলে, প্রেসার আবার বাড়বে। আপনি কি আজীবন প্রেসারের ঔষধ খেয়ে যাবেন? মনে রাখবেন, প্রত্যেক ক্যাটাগরির ঔষধের শর্ট–টার্ম ও লং–টার্ম পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া আছে। এগুলো বডির স্বাভাবিক কর্মকান্ডকে ব্যহত করে এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে মূল সমস্যা আরও বৃদ্ধি করে। সাময়িক ম্যানেজমেন্টের জন্য এসব ঔষধের আবশ্যকীয়তা থাকতে পারে, কিন্তু তা সবার জন্য স্থায়ী সমাধান হতে পারে না।
চলবে……..