বিশ্বরাজনৈতিক অস্থিরতা, নিয়ন্ত্রক সংস্থার নেতৃত্ব নিয়ে বিভ্রান্তি এবং বড় মূলধনী শেয়ারে ধস— এই ত্রিমুখী চাপে দেশের শেয়ারবাজারে বড় পতন নেমেছে। দিনের লেনদেনে সূচক ডাবল সেঞ্চুরি হারিয়ে বিনিয়োগকারীদের হতাশা আরও গভীর করেছে।
আজ সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবস মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচকের পতনের মধ্য দিয়ে লেনদেন শেষ হয়েছে। এদিন লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে বেশির ভাগেরই দর কমেছে। তবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় বেড়েছে টাকার অংকে লেনদেনের পরিমান।
আজ ডিএসইর প্রধান সূচক ‘ডিএসইএক্স’ ২০৮.৯৮ পয়েন্ট কমেছে। বর্তমানে সূচকটি অবস্থান করছে ৫৩২৫.০৬ পয়েন্টে। এছাড়া, ডিএসইর অপর সূচক ‘ডিএসইএস’ ৩৬ দশমিক ৩৪ পয়েন্ট কমে ১০৬৩.৩৭ পয়েন্ট এবং ‘ডিএস-৩০’ সূচক ৮৫.৭২ পয়েন্ট কমে ২০৫০.১২ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

আজ ডিএসইতে ৮৮৫ কোটি ১২ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিলো ৭৭৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকা।
এদিন ডিএসইতে মোট ৩৯১টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট হাত বদল হয়েছে। লেনদেনে অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে দর বেড়েছে ৩১ টি কোম্পানির, বিপরীতে ৩৪৯ টি কোম্পানির দর কমেছে। পাশাপাশি ১১ টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দর অপরিবর্তিত রয়েছে।
গতকাল বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান পরিবর্তনের খবরটি ভুয়া প্রমাণিত হওয়ায় আজ অনেক বিনিয়োগকারী স্বাভাবিক ভাবেই আশাহত। প্রত্যাশা তৈরি হয়ে ভেঙে পড়ায় বাজারে নেতিবাচক মনোভাব শুরু থেকেই স্পষ্ট ছিল। আস্থার ঘাটতি লেনদেনের প্রথম ঘণ্টাতেই বিক্রির চাপ বাড়িয়ে দেয়।
এর মধ্যে লেনদেনের শুরুতেই বড় মূলধনী বহুজাতিক কোম্পানি ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ কোম্পানি লিমিটেডের (বিএটি বাংলাদেশ) শেয়ারে দরপতন সূচককে দ্রুত নিচের দিকে নামিয়ে আনে। এই শেয়ারটির দাম কমাতে সূচকে ব্যাপক তারতম্য হওয়ায় লেনদেনের শুরুতেই পতনের প্রভাব সার্বিক বাজারে পড়ে।
তৃতীয় চাপ হিসেবে যুক্ত হয়েছে বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উত্তেজনা বাড়লে বিনিয়োগকারীরা সাধারণত ঝুঁকি এড়িয়ে চলেন। সম্ভাব্য অর্থনৈতিক স্থবিরতা, পণ্যমূল্যের অস্থিরতা এবং বৈদেশিক বাজারে অস্থিরতার শঙ্কা স্থানীয় বাজারেও মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরি করেছে। যদিও সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের সরাসরি বাণিজ্যিক সম্পর্ক সীমিত, তবুও অনিশ্চয়তার প্রভাব বিনিয়োগ সিদ্ধান্তে প্রতিফলিত হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতির বড় অংশই আস্থাজনিত সংকট। এই প্রেক্ষাপটে বিএসইসি–সংক্রান্ত কোনো নিশ্চিত ও অফিসিয়াল ঘোষণা এলে তা বাজারে ইতিবাচক মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে গুজবভিত্তিক তথ্য বাজারকে আরও অস্থির করে তোলে।
সব মিলিয়ে বাজার এখন ত্রিমুখী চাপে। এমন সময়ে বিনিয়োগে ধৈর্য ধরা এবং যাচাই করা তথ্যের ওপর নির্ভর করাই হতে পারে সবচেয়ে যৌক্তিক কৌশল।