দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) আজও বড় ধরনের দরপতনের মধ্য দিয়ে লেনদেন শেষ হয়েছে। আজ দিন শেষে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক ডিএসই এক্স ৮৪.১৩ পয়েন্টের কমে গেছে। আজ লেনদেন হয়েছে ৪৭৫.৫৫ কোটি টাকার শেয়ার।
আজকের বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আজ লেনদেন শুরুর প্রথম দিকেই লেনদেন হওয়া অধিকাংশ শেয়ারের দরপতন হয়েছে। এতে সূচকটি বড় ধরনের পতনের মুখে পড়েছে।
বিনিয়োগকারীরা অনেকটা ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে অনেক ভালো কোম্পানির শেয়ারও তারা বিক্রি করে দিচ্ছেন। ফলে দরপতন ত্বরান্বিত হচ্ছে।
গত সপ্তাহে প্রধান সূচক ৬ হাজার পয়েন্টের নিচে নেমে আসার পর বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ভীতি তৈরি হতে শুরু করে। গতকাল বাজারের প্রধান সূচক ৫,৯০০ পয়েন্টের নিচে নেমে যায়। তাতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন বিনিয়োগকারীরা।
আজ সূচক পতনে বড় ভূমিকাতে ছিল টেলিযোগাযোগ খাতের কোম্পানি রবি আজিয়াটা। আজ কোম্পানিটির ফ্লোর প্রাইস উঠে গেছে। ফলে কোম্পানিটির শেয়ারের ১০ শতাংশ দরপতন ঘটেছে ,৩০ টাকার শেয়ার দিনের শুরুতে নেমে আসে ২৭ টাকায়। যে কারণে শুরুতেই হোঁচট খায় সূচক।
পাশাপাশি আরও বেশ কিছু বড় মূলধনি কোম্পানির দরপতনের কারণে সূচক পতন দ্রুততায় বাড়তে থাকে।
বিনিয়োগকারীরা আতঙ্কিত হয়ে ভালো শেয়ারও বিক্রি করে দিচ্ছেন, ফলে বাজারে শেয়ারের পতন হয়েছে আজও।
বাজারের এ পতনের জন্য বিনিয়োগকারীদের ‘আস্থাহীনতা ও আতঙ্কিত হয়ে পড়াকে’ বড় কারণ বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা। তাঁদের মতে, টানা দরপতনে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ কারণে অনেকে হাতে থাকা শেয়ার বিক্রি করে বাজার ছাড়ছেন।
যে-সব কারণে এ আতঙ্ক তৈরি হয়েছে, তার অন্যতম কারণ খারাপ শেয়ার নিয়ে কারসাজি আর তার বিপরীতে ভালো শেয়ারের দরপতন। দুইয়ে মিলে বাজারের প্রতি আস্থা হারিয়েছেন বিনিয়োগকারীদের বড় অংশ।
সম্প্রতি ব্যাংকের একীভূত হওয়ার কারণে বাজারে গুজব ছড়িয়েছে ব্যাংক খাতের খারাপ অবস্থার কথা, এ কারণে ও একদল মানুষ আতঙ্কিত আছে। তাছাড়া ব্যাংকের সুদ হার বাড়ার কারণে শেয়ার বাজার থেকে একদল লোক বের হয়ে যাচ্ছে, এমন গুজবও চলছে। মোটকথা বাজার নিয়ে মানুষ চরম হতাশার মধ্যে আছেন, কি হবে বাজারের! এমন চিন্তায় বিনিয়োগকারীদের ঘুম হারাম হয়ে গেছে।
তবে সব কথার এক কথা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ভর করাতে বাজারে বিক্রি চাপ বেড়ে গিয়েছে।