অর্থ লিপি

৩১ জুলাই ২০২৬ শুক্রবার ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

বিও একাউন্ট অন্য হাউজে লিংক একাউন্টের মাধ্যমে স্থানান্তর করার নিয়ম ও খরচ

সবার আগে শেয়ার বাজারের নির্ভর যোগ্য খবর পেতে আপনার ফেসবুক থেকে  “অর্থ লিপি.কম” ফেসবুক পেজে লাইক করে রাখুন, সবার আগে আপনার ওয়ালে দেখতে। লাইক করতে লিংকে ক্লিক করুন  www.facebook.com/OrthoLipi

পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের প্রাথমিক ধাপ হলো একটি বিও (BO) অ্যাকাউন্ট খোলা। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (DSE) বা চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (CSE) লিমিটেডের নিবন্ধিত যেকোনো ব্রোকারেজ হাউজের মাধ্যমে এই অ্যাকাউন্টটি করতে হয়। তবে অনেক সময় বিনিয়োগকারীরা নিজেদের সুবিধার্থে ব্রোকারেজ হাউজ পরিবর্তন করতে চান। এই পরিবর্তনের প্রক্রিয়া এবং এর প্রকৃত খরচ সম্পর্কে সঠিক ধারণা না থাকায় অনেকেই বিভ্রান্তির শিকার হন।

লিংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে শেয়ার স্থানান্তর

বিনিয়োগকারী চাইলে একটি ‘লিংক অ্যাকাউন্ট’ তৈরির মাধ্যমে তার বর্তমান ব্রোকারেজ হাউজ থেকে অন্য হাউজে বিও অ্যাকাউন্ট ও শেয়ার স্থানান্তর করতে পারেন। এতে পূর্বের অফিসে থাকা শেয়ারগুলো নতুন অ্যাকাউন্টে চলে আসে। তবে মনে রাখতে হবে, লিংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে শুধুমাত্র শেয়ার স্থানান্তর করা সম্ভব, নগদ টাকা (Cash) স্থানান্তর করা যায় না।

লিংক অ্যাকাউন্ট করতে যা প্রয়োজন

নতুন হাউজে লিংক অ্যাকাউন্ট খুলতে সাধারণত পূর্বের ব্রোকারেজ অফিসের বিও একনলেজমেন্ট (BO Acknowledgement) এবং পোর্টফলিও (Portfolio) স্টেটমেন্টের প্রয়োজন হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে সব প্রয়োজনীয় নথিপত্র নিজের সংগ্রহে রাখা ভালো। উল্লেখ্য যে, লিংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে নতুন হাউজে অ্যাকাউন্ট খোলার সময় পূর্বের অ্যাকাউন্টের যাবতীয় তথ্য (নাম, ঠিকানা, ব্যাংক তথ্য ইত্যাদি) হুবহু একই থাকতে হবে।

শেয়ার স্থানান্তরের প্রক্রিয়া

লিংক অ্যাকাউন্ট সম্পন্ন হওয়ার পর বিনিয়োগকারীকে নতুন অফিস থেকে শেয়ার স্থানান্তরের ফরম সংগ্রহ করতে হবে। এই ফরমটি পূরণ করে পূর্বের অফিসে জমা দিলেই তারা শেয়ার স্থানান্তরিত করতে বাধ্য থাকে। অনেক ক্ষেত্রে পুরনো হাউজ কর্তৃপক্ষ বিনিয়োগকারীকে ধরে রাখার চেষ্টা করে বা স্থানান্তরের প্রক্রিয়াটি বিলম্বিত করতে চায়, যা নিয়মবহির্ভূত।

প্রকৃত খরচ বনাম বিভ্রান্তি

বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সবচেয়ে বড় বিভ্রান্তি কাজ করে শেয়ার স্থানান্তরের ফি নিয়ে। অনেক ব্রোকারেজ হাউজ বিনিয়োগকারীদের ভয় দেখায় যে শেয়ার স্থানান্তরে ১০% পর্যন্ত খরচ হতে পারে। এটি সম্পূর্ণ ভুল তথ্য।

প্রকৃতপক্ষে, সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (CDBL) নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী, শেয়ার স্থানান্তরের ফি হলো মোট বাজার মূল্যের ০.০০০১২৫ অংশ। সহজ হিসেবে:

প্রতি ১ লাখ টাকার শেয়ার স্থানান্তরে খরচ মাত্র ১২.৫০ টাকা।

(হিসাব: ১০০,০০০ x ০.০০০১২৫ = ১২.৫০ টাকা)

শেয়ার স্থানান্তরের দিন বাজারদরের ওপর ভিত্তি করে এই সামান্য ফি কেটে নিয়ে হাউজ কর্তৃপক্ষ শেয়ার স্থানান্তর করবে।

অতিরিক্ত ফি চাইলে করণীয়

যদি কোনো ব্রোকারেজ হাউজ নির্ধারিত ফির চেয়ে বেশি অর্থ দাবি করে বা শেয়ার স্থানান্তরে অযথা কালক্ষেপণ করে, তবে বিনিয়োগকারীর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগী বিনিয়োগকারী লিখিতভাবে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ কিংবা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (BSEC) অভিযোগ জানাতে পারবেন।

Author

  • মোঃ জসিম উদ্দিন তালুকদার দেশের পুঁজিবাজারের সাথে সরাসরি যুক্ত। তিনি উপ-মহাব্যবস্থাপক, জাহান সিকিউরিটিজ লিমিটেডের। পোর্টফোলিও পরিচালনায় সুদক্ষ ও অভিজ্ঞতা সম্পন্ন। তিনি ২০ বছর ধরে অত্যন্ত সুনামের সহিত পুঁজিবাজারের সাথে যুক্ত আছেন।

    View all posts
Share on facebook
Facebook
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
আপনি এটাও পড়তে পারেন
শেয়ার বাজার

আপনি এই পৃষ্ঠার কন্টেন্ট কপি করতে পারবেন না।