সাধারণ বিনিয়োগকারীদের অর্থ আত্মসাৎ ও অনিয়ম ঠেকাতে দেশের সব ব্রোকারেজ হাউজের তথ্য রিয়েল-টাইমে পর্যবেক্ষণের জন্য ইউনিফাইড ব্যাক-অফিস সফটওয়্যার চালুর নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।
এ সফটওয়্যারের মাধ্যমে প্রতিটি ব্রোকারেজ হাউজের আর্থিক তথ্য নিয়মিত ও তাৎক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর নিকুঞ্জের অবস্থিত ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) কার্যালয়ে পাঁচটি ব্রোকারেজ হাউজের অনিয়মে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ক্ষতিপূরণের চেক হস্তান্তর কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএসইসি চেয়ারম্যান খন্দকার মাসুদ আহমেদ এ কথা বলেন।
তিনি জানান, পাঁচটি ব্রোকারেজ হাউজের অনিয়মের ঘটনায় প্রায় ১৮ হাজার বিনিয়োগকারী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং এর সঙ্গে প্রায় ৪৯২ কোটি টাকা জড়িত। ঘটনাটিকে ‘উদ্বেগজনক তথ্য’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমরা আর কোনো ভাবেই এমন উদ্বেগজনক পরিস্থিতি দেখতে চাই না।”
১৭,৩৩২ বিনিয়োগকারীকে দেওয়া হবে ৭২ কোটি টাকা
ডিএসইর ইনভেস্টরস প্রোটেকশন ফান্ড (আইপিএফ) থেকে প্রাথমিকভাবে পাঁচটি ব্রোকারেজ হাউজের ক্ষতিগ্রস্ত ১৭ হাজার ৩৩২ জন বিনিয়োগকারীকে সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।
আগামী তিন মাসের মধ্যে প্রাথমিকভাবে এসব বিনিয়োগকারীকে মোট ৭২ কোটি টাকা দেওয়া হবে। যেসব বিনিয়োগকারীর প্রাপ্য অর্থ এর চেয়ে বেশি, তাদের বাকি অর্থ পরবর্তী সময়ে পরিশোধ করা হবে।
ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের মধ্যে রয়েছেন মশিহর সিকিউরিটিজ, ব্যাংকো সিকিউরিটিজ, ক্রেস্ট সিকিউরিটিজ, তামহা সিকিউরিটিজ এবং শাহ মোহাম্মদ সাগীর অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেডের গ্রাহকরা।
রিয়েল-টাইমে নজরদারিতে থাকবে ব্রোকারেজ হাউজ
বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, ডিজিটাল যুগে এ ধরনের অনিয়ম প্রতিরোধে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির বিকল্প নেই। এজন্য ডিএসইকে একটি উচ্চ নিরাপত্তাসম্পন্ন ইউনিফাইড ব্যাক-অফিস সফটওয়্যার চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই সফটওয়্যারের মাধ্যমে ব্রোকারেজ হাউজগুলোর ব্যাংক হিসাবে কত টাকা রয়েছে এবং Consolidated Customers’ Account (CCA)-এ গ্রাহকদের কত অর্থ রয়েছে, তা রিয়েল-টাইমে পর্যবেক্ষণ করা যাবে।
তিনি বলেন, ব্যবস্থা চালু হলে প্রতিদিন ব্যাপকভাবে নজরদারি করার প্রয়োজন কমে আসবে। নিয়ন্ত্রক সংস্থা নিয়মিতভাবে তথ্য যাচাই করে কোনো ঘাটতি রয়েছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করতে পারবে।
একই সঙ্গে স্টক ব্রোকারদের Order Management System (OMS) গ্রহণের ওপরও গুরুত্ব দেন বিএসইসি চেয়ারম্যান।
‘যা হওয়ার হয়েছে, ভবিষ্যতে যেন আর না হয়’
মাসুদ খান বলেন, পাঁচটি ব্রোকারেজ হাউজে যা ঘটেছে, তা ভবিষ্যতে আর কোনোভাবেই পুনরাবৃত্তি হতে দেওয়া হবে না।
তার ভাষায়, “যা হওয়ার হয়েছে। এখন আমাদের লক্ষ্য হলো ভবিষ্যতে যেন এমন ঘটনা আর না ঘটে, তা নিশ্চিত করা।”
তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীরা তাদের অর্থ বিনিয়োগ করেছিলেন ভবিষ্যতে রিটার্ন পাওয়ার প্রত্যাশায়। কিন্তু অনিয়মের কারণে অনেকেই ক্ষতির মুখে পড়েছেন এবং কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে জীবনযাপন করছেন। বিনিয়োগকারীদের এই আস্থার সংকটের প্রভাব বর্তমান শেয়ারবাজারেও প্রতিফলিত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, ধারাবাহিক বিভিন্ন পদক্ষেপের মাধ্যমে বাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করবে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
‘বাজারের ওঠানামায় ক্ষতি স্বাভাবিক, অর্থ আত্মসাতের ক্ষতি নয়’
অনুষ্ঠানে ডিএসই চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম বিনিয়োগকারীদের ক্ষতির জন্য স্টক এক্সচেঞ্জের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, শেয়ারবাজারের স্বাভাবিক ওঠানামার কারণে বিনিয়োগকারীদের লোকসান হতে পারে। তবে ব্রোকারেজ হাউজের অনিয়ম বা অর্থ আত্মসাতের কারণে যে আর্থিক ও মানসিক ক্ষতি হয়, তা কোনোভাবেই প্রত্যাশিত নয়।
ইনভেস্টরস প্রোটেকশন ফান্ড গঠনে ব্রোকার সম্প্রদায়ের অবদানের জন্য তিনি ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে যেসব বিনিয়োগকারীর দাবির পরিমাণ ৫ লাখ টাকার বেশি, তাদের প্রাপ্য অর্থও দ্রুত পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বিএসইসির কমিশনার নাফিজ আল তারিক ও হোসাইন সাদাত, ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার এবং ইনভেস্টরস প্রোটেকশন ফান্ডের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান নাসরীন বেগম বক্তব্য দেন।
তারা ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা, শক্তিশালী নজরদারি এবং কার্যকর নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
Author
-
'অর্থ লিপি ডট কম' একটি নির্ভরযোগ্য শেয়ার বাজার ভিত্তিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল। অর্থ ও বাণিজ্য, রাজনীতি, সমাজ ও সংস্কৃতি, প্রতিবেদন, বিশ্লেষণমূলক লেখা প্রকাশ করে।
View all posts
'অর্থ লিপি ডট কম' শেয়ার মার্কেটের প্রয়োজনীয় সকল তথ্য সততার সহিত পরিবেশন করে এবং কোন সময় অতিরঞ্জিত, ভুল তথ্য প্রকাশ করেনা এবং গুজব ছড়ায়না, বরং বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে বদ্ধ পরিকর। এটি একটি স্বাধীন, নির্দলীয় এবং অলাভজনক প্রকাশনা মাধ্যম।