বিশ্বখ্যাত বিনিয়োগকারী ও ‘ওমাহার ওরাকল’ নামে পরিচিত ওয়ারেন বাফেট বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ের চেয়ারম্যান পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। প্রায় ৫৬ বছর দায়িত্ব পালনের পর প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যানের পদ ছাড়লেন ৯৬ বছর বয়সী এই কিংবদন্তি বিনিয়োগকারী।
বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ে জানিয়েছে, চেয়ারম্যান পদ ছাড়লেও প্রতিষ্ঠান থেকে পুরোপুরি বিদায় নিচ্ছেন না বাফেট। তিনি ‘চেয়ারম্যান ইমেরিটাস’ হিসেবে পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে যুক্ত থাকবেন।
বাফেটের স্থলাভিষিক্ত হয়ে বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিয়েছেন তার ছেলে হাওয়ার্ড বাফেট। তিনি ১৯৯৩ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
সিইও পদেও এসেছে নেতৃত্বের পরিবর্তন
এর আগে গত বছরের শেষ দিকে বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার (সিইও) পদ থেকেও সরে দাঁড়ান ওয়ারেন বাফেট। দীর্ঘ কয়েক দশকের নেতৃত্বের পর সিইও হিসেবে তার স্থলাভিষিক্ত হন গ্রেগ অ্যাবেল।
শুক্রবার শেয়ারহোল্ডারদের উদ্দেশে লেখা এক চিঠিতে বাফেট জানান, অ্যাবেল তার প্রত্যাশার চেয়েও ভালো পারফর্ম করছেন। তার নেতৃত্বে বার্কশায়ারের ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি আত্মবিশ্বাসী।
ভ্যালু ইনভেস্টিংয়ে বদলে দিয়েছেন বার্কশায়ারকে
ওয়ারেন বাফেট তার দীর্ঘ বিনিয়োগজীবনে ‘ভ্যালু ইনভেস্টিং’ দর্শনের মাধ্যমে বিনিয়োগের জগতে বিশেষ অবস্থান তৈরি করেন। তার নেতৃত্বে বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ে একটি বহুমুখী কনগ্লোমারেট প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয় এবং বিশ্বব্যাপী অন্যতম মূল্যবান ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা লাভ করে।
বাফেটের বিনিয়োগ দর্শনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল শক্তিশালী মৌলভিত্তি, দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি এবং উপযুক্ত মূল্যে ভালো ব্যবসায় বিনিয়োগ। দীর্ঘ সময় ধরে এই কৌশল অনুসরণ করে বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ে উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ সাফল্য অর্জন করেছে।
‘সময় সবসময় জয়ী হয়’
চেয়ারম্যান পদ ছাড়ার সিদ্ধান্তের পাশাপাশি নিজের বয়সের বিষয়টিও খোলামেলাভাবে তুলে ধরেছেন বাফেট।
শেয়ারহোল্ডারদের উদ্দেশে লেখা চিঠিতে তিনি বলেন, “মহাকাল বা সময় সব সময় জয়ী হয়। তবে সময় আমার প্রতি বেশ সদয় ছিল।”
বার্কশায়ার বর্তমানে যে অবস্থানে পৌঁছেছে, তা দেখে যাওয়ার সুযোগ পাওয়াকে নিজের জন্য সৌভাগ্যের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করে বাফেট বলেন, সামনে যা আসছে তা নিয়ে তিনি আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি আত্মবিশ্বাসী।
শেয়ারে বড় প্রতিক্রিয়া নেই
বাফেটের চেয়ারম্যান পদ ছাড়ার খবর প্রকাশের পর বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ের শেয়ারে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। শেয়ারের দাম প্রায় অপরিবর্তিত ছিল।
ব্লুমবার্গ বিলিয়নিয়ার্স ইনডেক্সের তথ্য অনুযায়ী, বাফেটের আনুমানিক নিট সম্পদের পরিমাণ ১৪৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের তালিকায় থাকার পাশাপাশি তিনি অন্যতম বড় দাতা হিসেবেও পরিচিত।
দীর্ঘ পাঁচ দশকের বেশি সময় বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ের নেতৃত্ব দেওয়ার পর চেয়ারম্যানের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠানটির নেতৃত্বে বাফেট যুগের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল। তবে ‘চেয়ারম্যান ইমেরিটাস’ হিসেবে পর্ষদের সঙ্গে যুক্ত থাকায় বার্কশায়ারের সঙ্গে তার সম্পর্ক পুরোপুরি শেষ হচ্ছে না।