অর্থ লিপি

২০ এপ্রিল ২০২৬ সোমবার ৭ বৈশাখ ১৪৩৩

সদ্য শেষ হওয়া জুন মাসে দেশে ২৫৪ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছে

সবার আগে শেয়ার বাজারের নির্ভর যোগ্য খবর পেতে আপনার ফেসবুক থেকে  “অর্থ লিপি.কম” ফেসবুক পেজে লাইক করে রাখুন, সবার আগে আপনার ওয়ালে দেখতে। লাইক করতে লিংকে ক্লিক করুন  www.facebook.com/OrthoLipi

সদ্য শেষ হওয়া জুন মাসে দেশে ২৫৪ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছে ,যা গত ৩ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয় । এর আগে ২০২০ সালের জুলাইয়ে ২৫৯ কোটি ডলার প্রবাসী আয় এসেছিল। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাস করা প্রবাসীরা সাধারণত ঈদের সময় দেশে থাকা আত্মীয়স্বজনের কাছে বছরের অন্য মাসের তুলনায় বেশি রেমিট্যান্স পাঠিয়ে থাকেন। এবারের কোরবানির ঈদের সময়ও এর ব্যতিক্রম হয়নি। বাংলাদেশে ১৭ জুন পবিত্র ঈদুল আজহা উদ্‌যাপিত হয়।

জুন শেষে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২,৭১৫ কোটি ডলারে।

বিভিন্ন ব্যাংক থেকে জানা গেছে ডলারের বিপরীতে এখন ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে উচ্চ দর পাওয়া যাচ্ছে। ফলে আনুষ্ঠানিক চ্যানেলে অর্থ পাঠাতে প্রবাসী বাংলাদেশিরা উৎসাহিত হচ্ছেন এবং সে কারণে দেশে প্রবাসী আয়ের প্রবাহ বেড়েছে।

দেশের ডলার-সংকট কাটিয়ে উঠতে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বা মজুত বাড়াতে বিদেশ থেকে অর্থ আনতে নানা ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ ব্যাংক ডলারের দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে আগের তুলনায় তদারকি কমিয়ে দিয়েছে। এর পাশাপাশি যেকোনো ধরনের অর্থ বৈধ পথে দেশে আনার ক্ষেত্রে যে নিয়মকানুন রয়েছে, তা শিথিল করা হয়েছে। এর ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে প্রবাসী আয় দেশে আসার ক্ষেত্রে।

গত জুনের প্রথম ১২ দিনে প্রবাসী বাংলাদেশিরা ব্যাংকের মাধ্যমে ১৪৬ কোটি ডলারের আয় দেশে পাঠান। আর ২৩ জুন পর্যন্ত তাঁরা পাঠিয়েছেন ২০৫ কোটি ২০ লাখ ডলার। ২৮ থেকে ৩০ জুন এই তিন দিনে দেশে প্রবাসী আয় আসে ১৬ কোটি ৭০ লাখ ডলার। সব মিলিয়ে পুরো মাসে দেশে প্রবাসী আয় এসেছে ২৫৪ কোটি ২০ লাখ ডলার। গত বছরের জুনে ২১৯ কোটি ৯০ লাখ ডলারের প্রবাসী আয় দেশে এসেছিল।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত মে মাসে ২২৫ কোটি ডলারের প্রবাসী আয় দেশে এসেছিল। ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, মে মাসে বাংলাদেশ ব্যাংক ডলারের দর একলাফে ৭ টাকা বাড়িয়ে ১১৭ টাকা নির্ধারণ করার পর বৈধ পথে আসা প্রবাসী আয়ের পরিমাণ বাড়তে থাকে। তবে নথিপত্রে ডলারের দাম ১১৭ টাকা হলেও ব্যাংকগুলো ১১৮ থেকে ১১৯ টাকা দরে প্রবাসী আয়ের ডলার কিনেছে।

যে ব্যাংক ডলারের যত বেশি দর দিচ্ছে, সেই ব্যাংক প্রবাসীদের কাছ থেকে তত বেশি ডলার পাচ্ছে। এসব ব্যাংক আবার বেশি দামে অন্য ব্যাংকের কাছে ডলার বিক্রি করছে। তাতে আমদানিকারকদের বেশি দামে ডলার কিনতে হচ্ছে। মাঝেমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকও এসব ব্যাংক থেকে ডলার কিনে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়ায়।

জুন শেষে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২,৭১৫ কোটি ডলারে। রিজার্ভ বেড়ে যাওয়ার পেছনে স্থানীয় ব্যাংক থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডলার কেনা ভূমিকা রেখেছে বলে ব্যাংক খাতের সূত্রগুলো জানাচ্ছে। পাশাপাশি রিজার্ভে বড় উল্লম্ফনের পেছনে ভূমিকা রাখে বিদেশ থেকে পাওয়া ঋণ ও সহায়তার অর্থ। বেশ কয়েকটি উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার কাছ থেকে পাওয়া ঋণ ও বাজেট সহায়তার অর্থ জুনের শেষ সপ্তাহে দেশে আসে। কর্মকর্তারা জানান, যেসব ঋণ এক বছরের মধ্যে শোধ দিতে হয় না, সেই ঋণ রিজার্ভে যুক্ত করা যায়।

উল্লেখ্য  ২০২২-২৩ অর্থবছরে দেশে ২,১৬১ কোটি ডলারের প্রবাসী আয় এসেছিল। আর সদ্য শেষ হওয়া গত অর্থবছর, অর্থাৎ ২০২৩-২৪ সালে প্রবাসী আয় আসে ২,৩৯১ কোটি ডলার।

Author

  • 'অর্থ লিপি ডট কম' একটি নির্ভরযোগ্য শেয়ার বাজার ভিত্তিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল। অর্থ ও বাণিজ্য, রাজনীতি, সমাজ ও সংস্কৃতি, প্রতিবেদন, বিশ্লেষণমূলক লেখা প্রকাশ করে।

    'অর্থ লিপি ডট কম' শেয়ার মার্কেটের প্রয়োজনীয় সকল তথ্য সততার সহিত পরিবেশন করে এবং কোন সময় অতিরঞ্জিত, ভুল তথ্য প্রকাশ করেনা এবং গুজব ছড়ায়না, বরং বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে বদ্ধ পরিকর। এটি একটি স্বাধীন, নির্দলীয় এবং অলাভজনক প্রকাশনা মাধ্যম।

    View all posts
Share on facebook
Facebook
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
আপনি এটাও পড়তে পারেন
শেয়ার বাজার

আপনি এই পৃষ্ঠার কন্টেন্ট কপি করতে পারবেন না।