অর্থ লিপি

২৩ অক্টোবর ২০২৬ শুক্রবার ৭ কার্তিক ১৪৩৩

জিওর আইপিওতে ১,৪৫০ কোটি ডলারের চাহিদা, বাংলাদেশের নামী কোম্পানিগুলো শেয়ারবাজারে আসছে না কেন?

সবার আগে শেয়ার বাজারের নির্ভর যোগ্য খবর পেতে আপনার ফেসবুক থেকে  “অর্থ লিপি.কম” ফেসবুক পেজে লাইক করে রাখুন, সবার আগে আপনার ওয়ালে দেখতে। লাইক করতে লিংকে ক্লিক করুন  www.facebook.com/OrthoLipi

ভারতে রিলায়েন্স গ্রুপের টেলিকম ব্র্যান্ড জিওর আইপিও ঘিরে বিপুল বিনিয়োগ চাহিদার খবর আবারও সামনে এনেছে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন: বাংলাদেশে নামী দেশীয় ব্র্যান্ড ও বহুজাতিক কোম্পানিগুলো কেন আরও বেশি সংখ্যায় শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হচ্ছে না?

বাংলাদেশেও রয়েছে বহু প্রতিষ্ঠিত ব্র্যান্ড ও লাভজনক বহুজাতিক কোম্পানি। অথচ এসব প্রতিষ্ঠানের অনেকগুলো এখনো শেয়ারবাজারের বাইরে। ফলে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা তাদের ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধির অংশীদার হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন না।

কেন ভালো কোম্পানিগুলো শেয়ারবাজারে আসছে না?

এর অন্যতম সম্ভাব্য কারণ হলো তালিকাভুক্ত ও অতালিকাভুক্ত কোম্পানির সুযোগ-সুবিধার ভারসাম্য। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ২০২৬-২৭ করবর্ষের করহার অনুযায়ী, নির্ধারিত শর্তে তালিকাভুক্ত কোম্পানির করহার অতালিকাভুক্ত কোম্পানির তুলনায় কম। তবে কর-সুবিধা থাকলেও তালিকাভুক্তির পর অতিরিক্ত তথ্য প্রকাশ, নিরীক্ষা, করপোরেট সুশাসন ও নিয়মিত কমপ্লায়েন্সের ব্যয় কোম্পানির সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারে। 

এ ছাড়া অনেক উদ্যোক্তা মালিকানা ও ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে চান। অন্যদিকে, ব্যাংকঋণ, নিজস্ব মুনাফা কিংবা বিদেশি মূল কোম্পানির অর্থায়নের সুযোগ থাকলে শেয়ারবাজার থেকে মূলধন সংগ্রহের প্রয়োজনীয়তা কমে যেতে পারে।

বাজারের তারল্য, শেয়ারের ন্যায্য মূল্যায়ন এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থাও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বহুজাতিক কোম্পানির ক্ষেত্রে বিদেশি মূল প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন ও বৈশ্বিক নীতিমালাও তালিকাভুক্তির সিদ্ধান্তে ভূমিকা রাখে।

বিধিবিধান ও বাস্তবতা

বিএসইসির ২০২৫ সালের পাবলিক অফার বিধিমালায় আইপিওর জন্য নির্দিষ্ট মূলধন, শেয়ার ছাড়ার পরিমাণ ও আর্থিক যোগ্যতার শর্ত রয়েছে। পাশাপাশি তালিকাভুক্তির প্রস্তুতি ও পরবর্তী কমপ্লায়েন্সের ব্যয়ও বিবেচ্য। 

২০২৬ সালের ৭ জানুয়ারি বাসসের এক প্রতিবেদনে কয়েকটি লাভজনক রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ও বহুজাতিক কোম্পানিকে শেয়ারবাজারে আনার সরকারি উদ্যোগের কথা জানানো হয়। তবে বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর তালিকাভুক্তির সিদ্ধান্ত তাদের নিজস্ব পরিচালনা পর্ষদের ওপরও নির্ভরশীল। 

সরকারের করণীয়

ভালো কোম্পানিগুলোকে শেয়ারবাজারে আনতে তালিকাভুক্তির জন্য কার্যকর কর-প্রণোদনা, সহজ ও সময়সাশ্রয়ী অনুমোদনপ্রক্রিয়া এবং মূলধন সংগ্রহে সহায়ক নীতিমালা প্রয়োজন। একই সঙ্গে বাজার কারসাজি রোধ, সুশাসন নিশ্চিত এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে।

ভালো কোম্পানির অংশগ্রহণ বাড়লে বিনিয়োগের বিকল্প, বাজারের গভীরতা এবং দীর্ঘমেয়াদি মূলধন সংগ্রহের সুযোগ বাড়তে পারে।

প্রশ্ন হলো, বাংলাদেশের নামী ব্র্যান্ড ও বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে শেয়ারবাজারে আনতে সরকার কবে কার্যকর প্রণোদনা ও নীতিগত সংস্কার বাস্তবায়ন করবে?

Author

Share on facebook
Facebook
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
আপনি এটাও পড়তে পারেন

আপনি এই পৃষ্ঠার কন্টেন্ট কপি করতে পারবেন না।