অর্থ লিপি

২৪ আগস্ট ২০২৬ সোমবার ৯ ভাদ্র ১৪৩৩

নতুন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা, বিনিয়োগকারীদের নজর মুন্নু পরিবারের তিন কোম্পানিতে

সবার আগে শেয়ার বাজারের নির্ভর যোগ্য খবর পেতে আপনার ফেসবুক থেকে  “অর্থ লিপি.কম” ফেসবুক পেজে লাইক করে রাখুন, সবার আগে আপনার ওয়ালে দেখতে। লাইক করতে লিংকে ক্লিক করুন  www.facebook.com/OrthoLipi

মন্ত্রিসভায় দপ্তর পুনর্বণ্টনের পর নতুন করে আলোচনায় এসেছেন আফরোজা খানম (রিতা), এমপি। গতকাল শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬ রাতে জারি করা প্রজ্ঞাপনে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে তাকে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী করা হয়েছে।

একই সঙ্গে এতদিন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা এম রশিদুজ্জামান মিল্লাটকে পূর্ণমন্ত্রী করে ওই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

মানিকগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আফরোজা খানম রিতা বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয়। তিনি বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য এবং জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

রাজনীতি ও পারিবারিক পরিচয়

১৯৬২ সালে মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে জন্মগ্রহণকারী আফরোজা খানম রিতা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হিসাববিজ্ঞানে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

তিনি প্রয়াত শিল্পপতি ও সাবেক মন্ত্রী হারুনার রশিদ খান মুন্নুর কন্যা। তাঁর বাবা মানিকগঞ্জ-২ ও মানিকগঞ্জ-৩ আসন থেকে চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং সরকারের মন্ত্রিসভাতেও দায়িত্ব পালন করেন।

বাবার হাত ধরেই আফরোজা খানমের রাজনৈতিক পথচলা শুরু। ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মানিকগঞ্জ-২ ও মানিকগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী হারুনার রশিদ খান মুন্নুর প্রধান নির্বাচন সমন্বয়কারীর দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সূচনা হয়।

পরবর্তীতে তিনি দলীয় বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মানিকগঞ্জ-২ আসন থেকে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ২০১০ সালে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন এবং ২০১৩ সালে জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

পুঁজিবাজারে কেন গুরুত্বপূর্ণ

আফরোজা খানম রিতা শুধু রাজনৈতিক অঙ্গনেই পরিচিত নন, দেশের শিল্প ও ব্যবসায়িক অঙ্গনেও তাঁর পারিবারিক পরিচিতি রয়েছে। তিনি মুন্নু গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের সাবেক চেয়ারম্যান।

বিশেষ করে পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীদের কাছে মুন্নু পরিবারের ব্যবসায়িক পরিচিতি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ মুন্নু পরিবারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তিনটি কোম্পানি দেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত। কোম্পানিগুলো হলো:

  • মুন্নু সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড
  • মুন্নু ফেব্রিক্স লিমিটেড
  • মুন্নু এগ্রো অ্যান্ড জেনারেল মেশিনারি লিমিটেড

ফলে আফরোজা খানম রিতার মন্ত্রিসভায় নতুন দায়িত্ব গ্রহণের বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনের পাশাপাশি পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও বাড়তি আগ্রহ তৈরি করতে পারে।

বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টিতে নতুন করে আলোচনায় মুন্নু পরিবারের কোম্পানিগুলো

পুঁজিবাজার বিশ্লেষকদের মতে, কোনো তালিকাভুক্ত কোম্পানির উদ্যোক্তা বা প্রভাবশালী পরিবারের সদস্য গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে আসলে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলো স্বাভাবিকভাবেই বিনিয়োগকারীদের নজরে আসে। বিশেষ করে মুন্নু পরিবারের তিনটি তালিকাভুক্ত কোম্পানি দীর্ঘদিন ধরে দেশের পুঁজিবাজারে লেনদেন করছে।

তবে মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পরিবর্তনের বিষয়টি সরাসরি কোনো কোম্পানির ব্যবসায়িক পারফরম্যান্স বা শেয়ারদর বৃদ্ধির নিশ্চয়তা দেয় না। কোম্পানিগুলোর প্রকৃত বিনিয়োগ সম্ভাবনা মূল্যায়নে আর্থিক ফলাফল, মুনাফা, নগদ প্রবাহ, ঋণের পরিমাণ, উৎপাদন সক্ষমতা, লভ্যাংশ, করপোরেট গভর্ন্যান্স এবং ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক পরিকল্পনাই মূল বিবেচ্য হওয়া উচিত।

তবুও রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িকভাবে পরিচিত একটি পরিবারের সদস্যের নতুন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব গ্রহণের কারণে সংশ্লিষ্ট তিনটি তালিকাভুক্ত কোম্পানি নিয়ে বাজারে নতুন করে আলোচনা ও বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক বলে মনে করছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের নতুন দায়িত্ব

নতুন খাদ্যমন্ত্রী হিসেবে আফরোজা খানম রিতার সামনে রয়েছে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা, খাদ্য সংগ্রহ ও বিতরণ, সরকারি খাদ্য মজুত, কৃষকের কাছ থেকে খাদ্যশস্য সংগ্রহ এবং বাজার ব্যবস্থাপনার মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

একই সঙ্গে তাঁর নতুন দায়িত্বকে ঘিরে ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশাও তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে খাদ্য ও কৃষিভিত্তিক শিল্পে নীতিগত সহায়তা, সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বাড়ানো গেলে সংশ্লিষ্ট শিল্পখাতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

সব মিলিয়ে, আফরোজা খানম রিতার খাদ্যমন্ত্রী হিসেবে নতুন দায়িত্ব গ্রহণ রাজনৈতিক অঙ্গনের পাশাপাশি পুঁজিবাজারেও একটি আলোচিত ঘটনা। তাঁর পারিবারিক ব্যবসায়িক ঐতিহ্য এবং মুন্নু পরিবারের তিনটি তালিকাভুক্ত কোম্পানির উপস্থিতির কারণে বিনিয়োগকারীদের নজর এখন স্বাভাবিকভাবেই ওই কোম্পানিগুলোর দিকেও থাকবে। তবে বিনিয়োগের সিদ্ধান্তে গুজব বা আবেগ নয়, কোম্পানির মৌলভিত্তি ও প্রকাশিত তথ্যকে গুরুত্ব দেওয়াই হবে বিচক্ষণতার পরিচয়।

Author

Share on facebook
Facebook
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
আপনি এটাও পড়তে পারেন
শেয়ার বাজার

আপনি এই পৃষ্ঠার কন্টেন্ট কপি করতে পারবেন না।