অর্থ লিপি

১৭ অক্টোবর ২০২৬ শনিবার ১ কার্তিক ১৪৩৩

লেনদেন ৭০০ কোটি টাকার কাছাকাছি, সূচকও ঊর্ধ্বমুখী; এবার বড় প্রশ্ন বাজারে কি ফিরবে ধারাবাহিকতা?

সবার আগে শেয়ার বাজারের নির্ভর যোগ্য খবর পেতে আপনার ফেসবুক থেকে  “অর্থ লিপি.কম” ফেসবুক পেজে লাইক করে রাখুন, সবার আগে আপনার ওয়ালে দেখতে। লাইক করতে লিংকে ক্লিক করুন  www.facebook.com/OrthoLipi

আগের কার্যদিবসের সামান্য দরপতনের পর ঘুরে দাঁড়িয়েছে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) লেনদেন শেষে প্রধান সূচকসহ সবকটি সূচক ঊর্ধ্বমুখী ছিল। একই সঙ্গে ডিএসইতে মোট লেনদেন প্রায় ৭০০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। লেনদেনে অংশ নেওয়া অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে, যা বাজারে ইতিবাচক প্রবণতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে সূচকের ওঠানামা ও বিনিয়োগকারীদের আস্থার সংকট বিবেচনায় এখন বড় প্রশ্ন, এই ইতিবাচক ধারা কতটা স্থায়ী হবে? বাজারে কি ধারাবাহিকতা ফিরবে, নাকি এটি কেবল স্বল্পমেয়াদি উত্থান?

সূচকের সার্বিক চিত্র

বুধবার ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ২৬.০৭ পয়েন্ট বা ০.৪৭ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৫৫০.৪৩ পয়েন্টে। আগের কার্যদিবসে সূচকটি ১.৫০ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৫২৪.৩৭ পয়েন্টে অবস্থান করেছিল।

এদিন অন্য দুই সূচকেও ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। শরিয়াহভিত্তিক কোম্পানিগুলোর সূচক ডিএসইএস ৪.৪৫ পয়েন্ট বা ০.৪১ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ১০২.৪৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, নির্বাচিত ৩০টি কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএস৩০ সূচক ১৩.৭৭ পয়েন্ট বা ০.৬৬ শতাংশ বেড়ে ২ হাজার ১০৮.৪৪ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

লেনদেন প্রায় ৭০০ কোটি টাকা

সূচকের উত্থানের পাশাপাশি বুধবার ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও বেড়েছে।

দিন শেষে এক্সচেঞ্জটিতে শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট মিলিয়ে মোট ৬৯৯ কোটি ১২ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। আগের কার্যদিবসে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৬৩৪ কোটি ৫২ লাখ টাকা। সেই হিসাবে এক দিনের ব্যবধানে লেনদেন বেড়েছে প্রায় ৬৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা।

এদিন মোট ২০ কোটি ৪৬ লাখের বেশি শেয়ার ও ইউনিট হাতবদল হয়েছে।

সূচকের উত্থান, লেনদেন বৃদ্ধি এবং অধিকাংশ কোম্পানির দর বাড়ার সমন্বিত চিত্র বাজারে ক্রয়চাপ বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়। তবে এই প্রবণতা পরবর্তী কার্যদিবসগুলোতেও বজায় থাকে কি না, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ।

দর বেড়েছে অধিকাংশ কোম্পানির

বুধবার ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ১৯০টির দর বেড়েছে। বিপরীতে ১৩০টির দর কমেছে এবং ৬৭টির দর অপরিবর্তিত ছিল।

অর্থাৎ, এদিন দর বৃদ্ধির তালিকায় থাকা কোম্পানির সংখ্যা দর কমা কোম্পানির তুলনায় বেশি ছিল।

দর বৃদ্ধির শীর্ষে সমতা লেদার

এদিন দর বৃদ্ধির তালিকায় শীর্ষে ছিল সমতা লেদার (SAMATALETH)। কোম্পানিটির শেয়ারদর বেড়েছে ৯.৮৯ শতাংশ।

দর বৃদ্ধির তালিকায় আরও উল্লেখযোগ্য অবস্থানে ছিল স্কাই ট্রিমস (SKTRIMS), যার দর বেড়েছে ৯.৫২ শতাংশ। এ ছাড়া প্রথম বাংলাদেশ স্থির আয় তহবিল (PF1STMF) ৭.৬৯ শতাংশ, ডেল্টা স্পিনার্স (DELTASPINN) ৬.৯৪ শতাংশ এবং সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স (SONALILIFE) ৬.৭৪ শতাংশ বেড়েছে।

দরপতনের শীর্ষে ফ্যামিলিটেক্স

অন্যদিকে, বুধবার দরপতনের তালিকায় শীর্ষে ছিল ফ্যামিলিটেক্স (FAMILYTEX)। কোম্পানিটির শেয়ারদর কমেছে ৪.৩৫ শতাংশ।

এ ছাড়া মাইডাস ফাইন্যান্স (MIDASFIN) ৪.০০ শতাংশ, মেঘনা পেট (MEGHNAPET) ৩.৭৯ শতাংশ, ওরিয়ন ফার্মা (ORIONPHARM) ৩.৭০ শতাংশ এবং প্রাইম ফাইন্যান্স (PRIMEFIN) ৩.৫৭ শতাংশ দর হারিয়েছে।

টাকার অঙ্কে লেনদেনের শীর্ষে প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল

বুধবার টাকার অঙ্কে সর্বোচ্চ লেনদেন হয়েছে প্যারামাউন্ট টেক্সটাইলের (PTL)। কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৩০ কোটি ৯৭ লাখ টাকা।

লেনদেনের শীর্ষ পাঁচ কোম্পানির তালিকায় আরও রয়েছে

১. প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল (PTL): ৩০.৯৭ কোটি টাকা
২. বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স (BNICL): ২৭.০৬ কোটি টাকা
৩. বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস (BXPHARMA): ২২.১৬ কোটি টাকা
৪. আইপিডিসি ফাইন্যান্স (IPDC): ২১.২৭ কোটি টাকা
৫. সাইহাম টেক্সটাইল (SAIHAMTEX): ২০.৯৯ কোটি টাকা

অন্যদিকে, শেয়ারসংখ্যার হিসাবে সর্বোচ্চ লেনদেন হয়েছে ইভিন্স টেক্সটাইলের (ETL)। দিনটিতে কোম্পানিটির প্রায় ৮৫ লাখ ৮৩ হাজার শেয়ার হাতবদল হয়েছে।

বাজারে কি ফিরছে আস্থা, নাকি এটি সাময়িক উত্থান?

বুধবারের বাজারচিত্রে তিনটি বিষয় বিশেষভাবে লক্ষণীয়: সূচকের উত্থান, লেনদেন বৃদ্ধি এবং অধিকাংশ কোম্পানির দরবৃদ্ধি। তবে এক দিনের এই ইতিবাচক চিত্রের ভিত্তিতে বাজারে স্থায়ী ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা ফিরে এসেছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো এখনই কঠিন।

বাজারে ধারাবাহিকতা ফিরছে কি না, তা বোঝার জন্য পরবর্তী কয়েক কার্যদিবসে সূচকের স্থিতিশীলতা, লেনদেনের ধারাবাহিকতা এবং মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানিগুলোর অংশগ্রহণ পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।

একই সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের আস্থা, কোম্পানির আর্থিক ফলাফল এবং লভ্যাংশ ঘোষণাকে কেন্দ্র করে শেয়ারভিত্তিক প্রতিক্রিয়াও বাজারের গতিপথে প্রভাব ফেলতে পারে।

সব মিলিয়ে, ৭০০ কোটি টাকার কাছাকাছি লেনদেন ও সূচকের ঊর্ধ্বমুখী অবস্থান বাজারে স্বস্তির ইঙ্গিত দিলেও এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এই ধারা কত দিন অব্যাহত থাকে। সাময়িক উত্থানের পরিবর্তে ধারাবাহিক লেনদেন, মৌলভিত্তিসম্পন্ন শেয়ারে অংশগ্রহণ এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরে এলেই বাজারের স্থিতিশীলতা সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।

Author

Share on facebook
Facebook
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
আপনি এটাও পড়তে পারেন

আপনি এই পৃষ্ঠার কন্টেন্ট কপি করতে পারবেন না।