অর্থ লিপি

১ জুলাই ২০২৬ বুধবার ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩

ঋণপ্রবৃদ্ধির লক্ষ্য কমাল বাংলাদেশ ব্যাংক, পুঁজিবাজারে স্বল্পমেয়াদে চাপ, দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীলতার বার্তা

সবার আগে শেয়ার বাজারের নির্ভর যোগ্য খবর পেতে আপনার ফেসবুক থেকে  “অর্থ লিপি.কম” ফেসবুক পেজে লাইক করে রাখুন, সবার আগে আপনার ওয়ালে দেখতে। লাইক করতে লিংকে ক্লিক করুন  www.facebook.com/OrthoLipi

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথমার্ধের (জুলাই-ডিসেম্বর) জন্য নতুন মুদ্রানীতি (এমপিএস) ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

নতুন মুদ্রানীতিতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে নীতি সুদহার (পলিসি রেট) ১০ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা আগের ৮.৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৬.৮ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ঋণপ্রবৃদ্ধির লক্ষ্য কমানো এবং উচ্চ নীতি সুদহার বহাল রাখার ফলে স্বল্পমেয়াদে ব্যাংকঋণনির্ভর শিল্প ও ব্যবসা সম্প্রসারণে কিছুটা ধীরগতি দেখা দিতে পারে। এর প্রভাব পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত কিছু খাতের মুনাফায়ও প্রতিফলিত হতে পারে। তবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখা এবং আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।

মুদ্রানীতিতে খেলাপি ঋণ কমাতে ১৮ মাসের কর্মপরিকল্পনা, ব্যাংক খাতে শূন্য সহিষ্ণুতা নীতি এবং আর্থিকভাবে সক্ষম খেলাপিদের জন্য এককালীন নিষ্পত্তির সুযোগের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অর্থঋণ আদালত আইন ও সংকটাপন্ন সম্পদ ব্যবস্থাপনা আইন প্রণয়নের উদ্যোগ ব্যাংকিং খাতের সুশাসন জোরদারের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান জানিয়েছেন, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসিকে ১৩ হাজার কোটি টাকা তারল্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি ব্যাংকটি নিয়ে গুজব বা অনুমাননির্ভর আলোচনা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান এবং বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ আইন অনুযায়ী গ্রহণ করবে।

নতুন মুদ্রানীতিতে সরকারি ব্যাংকঋণের ওপর নির্ভরতা ধাপে ধাপে কমানোর পরিকল্পনার পাশাপাশি নিয়ন্ত্রিতভাবে অর্থ সরবরাহ বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করার কৌশল নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের লক্ষ্য, চলতি বছরের ডিসেম্বর শেষে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবৃদ্ধি ৬.৮ শতাংশ এবং ২০২৭ সালের জুন নাগাদ ৮ শতাংশে উন্নীত করা।

পুঁজিবাজারের দৃষ্টিকোণ থেকে, এই মুদ্রানীতি স্বল্পমেয়াদে অতিরিক্ত তারল্য প্রবাহ সীমিত রাখতে পারে, ফলে বাজারে দ্রুত ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা কিছুটা সংযত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, ব্যাংকিং খাতে সুশাসন, খেলাপি ঋণ হ্রাস এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা গেলে দীর্ঘমেয়াদে তালিকাভুক্ত কোম্পানির মৌলভিত্তি শক্তিশালী হবে এবং পুঁজিবাজারে টেকসই বিনিয়োগ পরিবেশ গড়ে উঠতে পারে বলে বাজার সংশ্লিষ্টদের অভিমত।

Author

  • 'অর্থ লিপি ডট কম' একটি নির্ভরযোগ্য শেয়ার বাজার ভিত্তিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল। অর্থ ও বাণিজ্য, রাজনীতি, সমাজ ও সংস্কৃতি, প্রতিবেদন, বিশ্লেষণমূলক লেখা প্রকাশ করে।

    'অর্থ লিপি ডট কম' শেয়ার মার্কেটের প্রয়োজনীয় সকল তথ্য সততার সহিত পরিবেশন করে এবং কোন সময় অতিরঞ্জিত, ভুল তথ্য প্রকাশ করেনা এবং গুজব ছড়ায়না, বরং বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে বদ্ধ পরিকর। এটি একটি স্বাধীন, নির্দলীয় এবং অলাভজনক প্রকাশনা মাধ্যম।

    View all posts
Share on facebook
Facebook
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
আপনি এটাও পড়তে পারেন
শেয়ার বাজার

আপনি এই পৃষ্ঠার কন্টেন্ট কপি করতে পারবেন না।