সরকারের ধারাবাহিক ইতিবাচক নীতি সহায়তা, কর প্রণোদনা এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশের প্রভাবে দেশের পুঁজিবাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা আরও শক্তিশালী হয়েছে। মঙ্গলবার (৩০ জুন) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচকের পাশাপাশি লেনদেনেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা গেছে। বাজারে শক্তিশালী ক্রয়চাপ এবং বিস্তৃত অংশগ্রহণ নতুন করে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আশাবাদ তৈরি করেছে।
দিনশেষে ডিএসইএক্স (DSEX) সূচক ৪০.২৯ পয়েন্ট বা ০.৭০ শতাংশ বেড়ে ৫,৭৬২.৮৩ পয়েন্টে অবস্থান করে। শরিয়াহভিত্তিক ডিএসইএস সূচক ১১.৩৯ পয়েন্ট এবং ব্লু-চিপ ডিএস৩০ সূচক ১১.৯২ পয়েন্ট বৃদ্ধি পায়।

বাজারে লেনদেনের পরিমাণও ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী। মোট ১,৫৭৩.৬৫ কোটি টাকার শেয়ার ও ইউনিট হাতবদল হয়েছে, যা আগের কার্যদিবসের ১,৩৫১.৫২ কোটি টাকা থেকে প্রায় ২২২ কোটি টাকা বেশি। একদিনের ব্যবধানে লেনদেন প্রায় ১৬.৪ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ায় বাজারে নতুন অর্থের প্রবাহ ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধির ইঙ্গিত মিলেছে।
বাজারের সার্বিক চিত্রও ছিল ইতিবাচক। লেনদেনে অংশ নেওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ২৪৯টির শেয়ারের দাম বেড়েছে, ৯৪টির কমেছে এবং ৫৪টি অপরিবর্তিত রয়েছে। অর্থাৎ, প্রতি একটি দরপতনকারী শেয়ারের বিপরীতে আড়াইটিরও বেশি শেয়ারের দাম বেড়েছে, যা বাজারের শক্তিশালী ব্রেডথ নির্দেশ করে।
লেনদেনের শীর্ষে ছিল ব্র্যাক ব্যাংক, যার প্রায় ৭৪.৮৬ কোটি টাকা মূল্যের শেয়ার হাতবদল হয়েছে। এরপর ছিল বেক্সিমকো (৬০.৭৯ কোটি টাকা), মালেক স্পিনিং (৫৭.৪৯ কোটি টাকা), এসএপিওআরটিএল (৪৪.৮৯ কোটি টাকা) এবং আইপিডিসি (৩৯.৩৫ কোটি টাকা)।
দরবৃদ্ধির তালিকায় নেতৃত্ব দেয় বিএসআরএম লিমিটেড (+১০%), জিল বাংলা (+৯.৯৮%), তাকাফুল ইসলামী ইন্স্যুরেন্স (+৯.৯৫%), সিলভা ফার্মা (+৯.৮৬%) এবং উসমানিয়া গ্লাস (+৯.৭৯%)। অন্যদিকে দরপতনের শীর্ষে ছিল বেস্ট হোল্ডিং (-৫.১০%), এওএল (-৪.৬৬%), বেক্সিমকো (-৪.৫৬%), আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক (-৩.৫৭%) এবং প্রগ্রেসিভ লাইফ (-৩.৪২%)।
দিনের বাজারে উল্লেখযোগ্য বিষয় ছিল ব্লক মার্কেটের সক্রিয়তা। ৭২টি কোম্পানির মোট ৭৪.৩২ কোটি টাকা মূল্যের ব্লক লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে, যা প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়ার ইঙ্গিত দেয়।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের সাম্প্রতিক কর-সুবিধা, বাজারমুখী নীতিগত পদক্ষেপ এবং অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রত্যাশার প্রভাব এখন পুঁজিবাজারে দৃশ্যমান হচ্ছে। সূচকের ধারাবাহিক ঊর্ধ্বগতি, লেনদেনের উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি এবং অধিকাংশ শেয়ারের মূল্যবৃদ্ধি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, বাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ধীরে ধীরে আরও সুসংহত হচ্ছে। এই ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী দিনগুলোতে বাজারে লেনদেন ও সূচক উভয় ক্ষেত্রেই আরও শক্তিশালী অবস্থান তৈরি হতে পারে।