অর্থ লিপি

৩০ এপ্রিল ২০২৬ বৃহস্পতিবার ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩

সাপ্তাহিক বাজার বিশ্লেষণ ও পর্যালোচনা

সবার আগে শেয়ার বাজারের নির্ভর যোগ্য খবর পেতে আপনার ফেসবুক থেকে  “অর্থ লিপি.কম” ফেসবুক পেজে লাইক করে রাখুন, সবার আগে আপনার ওয়ালে দেখতে। লাইক করতে লিংকে ক্লিক করুন  www.facebook.com/OrthoLipi

গত সপ্তাহে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) মোট ৪১২ টি কোম্পানির লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দাম বেড়েছে ১৮৮টির, দাম কমেছে  ১৬৮ টির, দাম অপরিবর্তিত ছিল ৩৯ টির এবং কোন লেনদেন হয়নি  ১৭ টি কোম্পানির।

ডিএসইর সার্বিকসূচক বেড়েছে .৩১ শতাংশ। তবে এর আগের  দুই মাস ধরে সূচক ছিল নিম্নমুখী। চলতি এপ্রিল মাসের প্রথম সপ্তাহে ডিএসইএক্স ইতিবাচক প্রবণতায় ফিরে।

গত সপ্তাহের শেয়ারবাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনায় দেখা যায়, ডিএসইএক্স আগের সপ্তাহের তুলনায় বেড়ে ৫৭৯৬.১২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ৫৭৭৮.৩৩ পয়েন্টে। নির্বাচিত ভালো মানের কোম্পানির সূচক ডিএস৩০ সপ্তাহের ব্যবধানে .১৯শতাংশ বেড়ে ২০১৪.৯৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ২০১১.০৯পয়েন্টে। শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস . ৯৫ শতাংশ বেড়ে ১২৬৬.৪১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ১২৫৪.৫৪ পয়েন্টে। 

গত সপ্তাহে সূচকের ইতিবাচকে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে বীকন ফার্মা, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ কোম্পানি, বেক্সিমকো ফার্মা, গ্রামীণফোন অলিম্পিক কোম্পানির শেয়ার।

ডিএসইতে গত সপ্তাহে ,১৭৪.২০ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। যেখানে আগের সপ্তাহে লেনদেন ছিল ১৯৭৫.৭৫ কোটি টাকা। গত সপ্তাহে ডিএসইতে দৈনিক গড়ে ৪৩৪.৮০ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। যেখানে আগের সপ্তাহে ছিল প্রায় ৪৯৪ কোটি টাকা। গত সপ্তাহে ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে লাখ ৭৯ হাজার ৯০৮ কোটি টাকা। এর আগের সপ্তাহে মূলধন ছিল লাখ ৭৯ হাজার ২২৯ কোটি টাকা। এক সপ্তাহের ব্যবধানে বাজার মূলধন কমেছে .১০ শতাংশ।

খাতভিত্তিক লেনদেনচিত্রে দেখা যায়, গত সপ্তাহে ডিএসইর মোট লেনদেনের ১৮.৫৬শতাংশ দখলে নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে ওষুধ রসায়ন খাত। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৬.৭৫ শতাংশ দখলে নিয়েছে বস্ত্র খাত। .৬৪ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে প্রকৌশল খাত।

গত সপ্তাহে ডিএসইতে সেক্টরাল ইতিবাচক রিটার্নে শীর্ষে ছিল বস্ত্র, সিরামিক প্রকৌশলখাত। আর নেতিবাচক রিটার্নে শীর্ষে ছিল জীবন বীমা,  সিমেন্ট খাত ভ্রমণ খাত।

গত সপ্তাহে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের কয়েকটি হাউজের অফিসে গিয়ে বিভিন্ন বিনিয়োগকারী হাউজের অফিসারদের সাথে আলাপ করে জানা গেল DSE 30 ভালো মান সম্পন্ন শেয়ার নিয়ে আশায় বুক বেঁধেআছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। তারা আশা করছেন এইসব শেয়ার লেনদেনে ফিরলে বাজার প্রান ফিরে পাবে।

গত সপ্তাহের শেষ দিন বস্ত্র খাত দাম বৃদ্ধির শীর্ষে ছিল। গত সপ্তাহের শেষ দিন সূচক ইতিবাচক হলেও বাজারের বেশির ভাগ বিনিয়োগকারীদের চরম হতাশার বাজার ছিল।

ভালো মৌল ভিত্তির সম্পন্ন শেয়ারের লেনদেন না হওয়ায় বাজার নিয়ে বিনিয়োগকারীরা চরমআস্থার সংকটে ভুগছেন।

চলছে  ডিসেম্বর ক্লোজিং, কোম্পানি গুলোর লভ্যাংশ ঘোষণার মৌসুম,সামনে জুন ক্লোজিং কোম্পানি গুলির ৩য় প্রান্তিক ইপিএস প্রকাশ হবে , তাছাড়া বিভিন্ন ইস্যুতে বাজার পতন হওয়ায় অনেকে বাজার পর্যবেক্ষণ করছেন। যে কারণে বাজারে একশ্রেণির বিনিয়োগকারী সাইড লাইনে থেকে বাজার পর্যবেক্ষণ করছেন।

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যানের নতুন করে বছরের মেয়াদ বাড়ার গুঞ্জন চলছে , সব মিলিয়েদের ছুটির পরে বাজার নিয়ে মানুষ কৌতুহলে থাকবে।

বাজার বিশ্লেষকেরা আশা করছেন ভালো মান সম্পন্ন শেয়ারের লেনদেনে ফিরলে বাজার চাঙ্গা হবে পাশাপাশি বাজারের প্রতি মানুষের আস্থা ফিরে আসবে।

Author

Share on facebook
Facebook
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
আপনি এটাও পড়তে পারেন
শেয়ার বাজার

আপনি এই পৃষ্ঠার কন্টেন্ট কপি করতে পারবেন না।