দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গত সপ্তাহের পাঁচ কার্যদিবসে সার্বিক সূচক কমেছে ২.২৭ শতাংশ।তবে গত সপ্তাহে ডিএসইর লেনদেন বেড়েছে ১৫.৫২ শতাংশ।
গত সপ্তাহে ডিএসইএক্স আগের সপ্তাহের তুলনায় ২.২৭ শতাংশ কমে ৬,১২.৭৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ৬,২৫৪.৫৪ পয়েন্টে। নির্বাচিত কোম্পানির সূচক ডিএস-৩০ সপ্তাহের ব্যবধানে ১.৫৩ শতাংশ কমে ২,০৯৪.৩৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ২,১২৭ পয়েন্টে। শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস ১.৭৬ শতাংশ কমে ১,৩৩৫.৮৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ১,৩৬০ পয়েন্টে।

ডিএসইতে গত সপ্তাহে লেনদেন হওয়া মোট ৪১১টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের মধ্যে দাম বেড়েছে ৫৯ টির, দাম কমেছে ৩২০টির এবং দাম অপরিবর্তিত ছিল ২২টির। এছাড়া লেনদেন হয়নি ১০টির।
গত সপ্তাহে সূচকের পতনে সবচেয়ে বেশি দায়ী ছিল ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ কোম্পানি(BATBC), গ্রামীণফোন, বেক্সিমকো ফার্মা, রেনাটা, ওরিয়ন ফার্মা, স্কয়ার ফার্মা ও ব্র্যাক ব্যাংকের শেয়ার।
ডিএসইতে গত সপ্তাহের পাঁচ কার্যদিবসে ৪,৫৩০ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। যেখানে আগের সপ্তাহে লেনদেন ছিল ৩,৫০৮ কোটি টাকা। সে হিসাবে এক্সচেঞ্জটিতে সাপ্তাহিক লেনদেন বেড়েছে ১৫.৫২ শতাংশ। গত সপ্তাহে ডিএসইতে দৈনিক গড়ে ৮১০ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। যেখানে আগের সপ্তাহের চার কার্যদিবসে দৈনিক গড় লেনদেন ছিল ৮৭৭ কোটি টাকা। গত সপ্তাহে ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৪৮ হাজার ৮২৭ কোটি টাকা। আগের সপ্তাহে এ মূলধন ছিল ৭ লাখ ৬০ হাজার ৭২৩ কোটি টাকা। এক সপ্তাহের ব্যবধানে বাজার মূলধন কমেছে ১.৫৬ শতাংশ।
খাতভিত্তিক লেনদেন চিত্রে দেখা যায়, গত সপ্তাহে ডিএসইর মোট লেনদেনের ১৭.১ শতাংশ দখলে নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে ঔষধ ও রসায়ন খাত। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৩.১ শতাংশ দখলে নিয়েছে বস্ত্র খাত। ১২.৭ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে প্রকৌশল খাত। মোট লেনদেনের ১০.৭ শতাংশের ভিত্তিতে চতুর্থ অবস্থানে ছিল খাদ্য খাত। আর সাধারণ বীমা খাতের দখলে ছিল লেনদেনের ৭.২ শতাংশ।
আলোচ্য সপ্তাহে ডিএসইতে ইতিবাচক রিটার্ন হয়েছে পাট ও চামড়া খাতের। এ দুই খাতে যথাক্রমে দশমিক ৫ শতাংশ ও ০.২ শতাংশ রিটার্ন এসেছে। অন্যদিকে নেতিবাচক রিটার্নে শীর্ষে ছিল খাদ্য খাত। এই খাতে নেতিবাচক রিটার্ন হয়েছে ৭.৭ শতাংশ।
গত সপ্তাহের বুধ ও বৃহস্পতিবার কয়েকটি হাউজের অফিসে গিয়ে বিভিন্ন বিনিয়োগকারী ও হাউজের অফিসারদের সাথে আলাপ করে জানা গেল DSE 30 ও ভালো মান সম্পন্ন শেয়ার নিয়ে আশায় বুক বেঁধে আছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। তারা আশা করছেন এইসব শেয়ার লেনদেনে ফিরলে বাজার প্রাণ ফিরে পাবে।বহুদিন পরে গত বুধবার বিএটিবিসি সহ কয়েকটি ফান্ডামেন্টাল বেইজ কোম্পানির শেয়ারের সমন্বয়ে সূচক বৃদ্ধি পাওয়ায় আশাবাদী হয়ে উঠেছেন বহু বিনিয়োগকারী।
সার্বিকভাবে বাজার বিশ্লেষণ করে দেখা গেল গত সপ্তাহে কোন একক খাতের আধিপত্য ছিলনা।গত সপ্তাহে বাজারের বেশির ভাগ বিনিয়োগকারীদের চরম হতাশার বাজার ছিল।
ভালো মৌল ভিত্তির সম্পন্ন শেয়ারের লেনদেন না হওয়ায় বাজার নিয়ে বিনিয়োগকারীরা চরম আস্থার সংকটে ভুগছেন।চলছে ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও ইন্স্যুরেন্স খাতের কোম্পানিগুলোর লভ্যাংশ ঘোষণা ,বাজারে তেমন কোন মুভমেন্ট না থাকার কারণে বাজারে এক শ্রেণির বিনিয়োগকারী সাইড লাইনে থেকে বাজার পর্যবেক্ষণ করছেন।
বাজার বিশ্লেষকেরা আশা করছেন ভালো মান সম্পন্ন শেয়ারের লেনদেনে ফিরলে বাজার চাঙ্গা হবে পাশাপাশি বাজারের প্রতি মানুষের আস্থা ফিরে আসবে।বাজারে কম মান সম্পন্ন শেয়ারের অস্বাভাবিক আচরণ প্রকৃত বিনিয়োগকারীদের বাজার বিমুখ করে রেখেছে।আর বাজারে ফান্ডামেন্টাল শেয়ারের স্বাভাবিক লেনদেন না হলে দেশের প্রকৃত বড় বিনিয়োগকারীরা উৎসাহিত হননা শেয়ার বাজারের বিনিয়োগ করতে।