ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবসে মঙ্গলবার বাজারে ফিরেছে চাঙাভাব। দীর্ঘদিন পর লেনদেন আবারও হাজার কোটি টাকার মাইলফলক অতিক্রম করেছে, যার পেছনে প্রধান চালিকাশক্তি ছিল ব্যাংক খাতের শেয়ার। বিনিয়োগকারীদের বাড়তি আগ্রহে এই খাতে উল্লেখযোগ্য লেনদেন বাজারে গতি এনে দেয়।
আজ দিন শেষে ডিএসইতে মোট লেনদেন দাঁড়িয়েছে ১,০২৬ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। সাম্প্রতিক সময়ের তুলনায় এটি উল্লেখযোগ্য উত্থান। এদিন মোট ৩৩ কোটি ৬৫ লাখের বেশি শেয়ার হাতবদল হয়েছে, সম্পন্ন হয়েছে ২ লাখ ৪০ হাজারের বেশি লেনদেন।
লেনদেন বাড়লেও সূচকে ছিল ভিন্ন চিত্র। প্রধান সূচক DSEX সামান্য ৮.৩২ পয়েন্ট বেড়ে ৫৩০৮.৮৯ পয়েন্টে অবস্থান করছে। তবে শরীয়াহভিত্তিক DSES এবং ব্লু-চিপ সূচক DS30 যথাক্রমে ২.৪৭ ও ১.৩১ পয়েন্ট কমে দিন শেষ করেছে। অর্থাৎ বাজারে লেনদেন বাড়লেও সব খাতে সমান ইতিবাচকতা দেখা যায়নি।
আজকের বাজারে বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারের দর কমেছে।
- দর বেড়েছে: ৯০টি কোম্পানির
- দর কমেছে: ২৫১টি কোম্পানির
- অপরিবর্তিত: ৫৪টি
এই পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যায়, বাজারে তারল্য প্রবাহ বাড়লেও বিনিয়োগকারীরা বেছে বেছে নির্দিষ্ট খাতে সক্রিয় ছিলেন।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ব্যাংক খাতের শেয়ারের ওপর বড় বিনিয়োগকারীদের আগ্রহই আজকের লেনদেনকে হাজার কোটির ঘরে তুলেছে। লভ্যাংশ ঘোষণার প্রত্যাশা, তুলনামূলক কম দামে শেয়ার পাওয়া এবং স্থিতিশীলতার কারণে এই খাত আবারও বিনিয়োগকারীদের নজর কেড়েছে। একই সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তিগত বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়ায় বাজারে তারল্যও বৃদ্ধি পেয়েছে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, ব্যাংক খাতের নেতৃত্বে বাজারে লেনদেনের গতি ফিরলেও সূচক ও দর ওঠানামার বৈচিত্র্য ইঙ্গিত দিচ্ছে—বিনিয়োগকারীরা এখনো সতর্ক অবস্থানে আছেন। সামনে বাজারের এই গতি ধরে রাখতে হলে খাতভিত্তিক আস্থার পাশাপাশি সামগ্রিক বাজারে স্থিতিশীলতা জরুরি।