বাংলাদেশ ব্যাংক এবার ( ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথমার্ধের) মুদ্রানীতি প্রকাশের দীর্ঘদিনের সংস্কৃতি উপেক্ষা করতে যাচ্ছে। এতদিন সংবাদ সম্মেলন করে বছরে দুইবার মুদ্রানীতি প্রকাশ করতো বাংলাদেশ ব্যাংক।
তবে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথমার্ধের মূদ্রানীতি প্রকাশ করা হবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওয়েবসাইট ও ফেসবুকে।
আগামী ১৮ জুলাই বিকেল ৩টায় বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট, ফেসবুকসহ অন্যান্য মাধ্যমগুলোতে মুদ্রানীতির তথ্য প্রকাশ করা হবে বলে নিশ্চিত করেছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও ভারপ্রাপ্ত মুখপাত্র সাইফুল ইসলাম। এখন পর্যন্ত এটাই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অফিশিয়াল সিদ্ধান্ত বলে জানান তিনি।
জানা গেছে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। পাশাপাশি সংকটের মধ্যে থাকা দেশের অর্থনীতি ঠিক করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক যত উদ্যোগ গ্রহণ করে তার সব বিফলে গেছে। এসব কারণে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার প্রশ্নের মুখোমুখি হতে চাচ্ছেন না। এজন্যই মূলত সাংবাদিকদের এড়িয়ে ফেসবুক ও ওয়েবসাইটে মুদ্রানীতি ঘোষণা করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
বিবিএসের তথ্য মতে, এখন মূল্যস্ফীতির হার প্রায় ১০ শতাংশ। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের কথা বলে ধারাবাহিকভাবে ঋণের সুদহার বাড়ানো হচ্ছে। যদিও সুদহার বৃদ্ধির প্রভাব মূল্যস্ফীতিতে দেখা যায়নি। সর্বশেষ গত মে মাসে দেশে গড় মূল্যস্ফীতির হার ৯.৮৯ শতাংশ ছিল।
বাংলাদেশ ব্যাংকের একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আগের মুদ্রানীতিগুলোর মতো ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথমার্ধের জন্য ঘোষিত মুদ্রানীতিতেও সংকুলানমুখী ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে।
এ ক্ষেত্রে সুদহার আরো বাড়ানোর ঘোষণা আসতে পারে। বাড়ানো হতে পারে নীতি সুদহার, রেপো, রিভার্স রেপোর মতো মুদ্রানীতির মৌলিক সুদ কাঠামোগুলোও।
এ ছাড়া ডলারের দর পুরোপুরি বাজারভিত্তিক করা হতে পারে। ডলারের বিনিময় হার নির্ধারণের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল নির্দেশিত ‘ক্রলিং পেগ’ নীতি চালু করেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক, তবে এতে লক্ষ্য অনুযায়ী সুফল পাওয়া যায়নি। এ জন্য আসন্ন মুদ্রানীতিতে ক্রলিং পেগ পদ্ধতি আগের মতোই রাখা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপ সামাল দেওয়ার কথা বলে জানুয়ারি মাসের মুদ্রানীতিতেও নীতি সুদহার বাড়ায় বাংলাদেশ ব্যাংক। ২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়ে তা ৮ শতাংশে উন্নীত করা হয়। এরপর প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে আরো দুইবার নীতি সুদহার বাড়িয়েছে সংস্থাটি। বর্তমান নীতি সুদহার সাড়ে ৮ শতাংশ। নতুন মুদ্রানীতিতে এই হার ৯ শতাংশে উন্নীত করা হতে পারে।