দেশে বারবার সুদহার বাড়িয়েও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আসছে না। তবু আগামী মুদ্রানীতিতে ফের বাড়ানো হতে পারে নীতি সুদহার। মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে মার্কিন মুদ্রা ডলারের দর নিয়ন্ত্রণে রাখা। বারবার বিভিন্ন উদ্যোগ নিলেও এই সূচকে লাগাম টানা যায়নি। পাশাপাশি কয়েক মাসের মধ্যে ক্রলিং পেগ বাদ দিয়ে বাজারের ওপর ছেড়ে দেওয়া হতে পারে মুদ্রা বিনিময় হার।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
দেশের আর্থিক খাতে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, মার্কিন ডলারের পাশাপাশি স্থানীয় টাকার সংকট, বৈদেশিক লেনদেনে ভারসাম্যহীনতা এবং নিয়ন্ত্রণহীন ব্যাংক খাত—মোটা দাগে এ সবই হচ্ছে এখন প্রধান সমস্যা। এসব সমস্যার মধ্যেই আজ বৃহস্পতিবার ঘোষণা হবে মুদ্রানীতি।
প্রতিবছর মুদ্রানীতি ঘোষণায় সংবাদ সম্মেলন করা হলেও এবার সেটি হচ্ছে না। বাংলাদেশ ব্যাংকে সাংবাদিক প্রবেশে বিধি নিষেধের কারণে গভর্নরের সকল কর্মসূচি বয়কট করে সাংবাদিকরা। এরই জেরে এবার অনলাইনে মুদ্রানীতি প্রকাশ করা হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, চলতি অর্থবছরও মুদ্রানীতির প্রধান লক্ষ্য থাকবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ। সে ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের শর্ত অনুযায়ী বাড়বে নীতি সুদহার। পাশাপাশি বর্তমান বাজারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ডলারের দরে আসবে পরিবর্তন।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র বলছে, বর্তমানে নির্ধারিত নীতি সুদহার ৮.৫ শতাংশ। নতুন মুদ্রানীতিতে তা ২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়তে পারে। আর ক্রলিং পেগ অনুযায়ী বর্তমানে ডলারের নির্ধারিত দর ১১৭ টাকা। এর থেকে ১ টাকা কম-বেশিতে মার্কিন এই মুদ্রা ক্রয়-বিক্রয় করার বিধান রয়েছে। নতুন মুদ্রানীতিতে ডলারের দরে পরিবর্তন হতে পারে। পাশাপাশি যে উদ্দেশ্যে ক্রলিং পেগ করা হয়েছিল, সেই উদ্দেশ্য সফল না হওয়ায় দ্রুত সময়ের মধ্যে এই পদ্ধতি বাতিলের ঘোষণা আসতে পারে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানান, আমাদের মূল লক্ষ্য মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখা। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের স্বার্থে আগামী মুদ্রানীতিও সংকোচনমূলক হবে। এ ক্ষেত্রে সুদহার আরও বাড়ানোর ঘোষণা আসতে পারে। বাড়ানো হতে পারে নীতি সুদহার, রেপো, রিভার্স রেপোর মতো মুদ্রানীতির মৌলিক সুদকাঠামোও।
বিভিন্ন অর্থনীতিবিদেরা বলছেন, নতুন মুদ্রানীতিতে দেশের ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি (এসএমই) শিল্পের ঋণপ্রবাহ নিশ্চিত করতে হবে। বড়দের জন্য পুঁজিবাজার আছে, তারা তহবিল সংগ্রহের জন্য সেখানে যাক। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের জন্য পণ্যের উত্পাদন বাড়ানোর পাশাপাশি সরবরাহ বাড়াতে হবে। বাজারব্যবস্থায় শৃঙ্খলা আনতে হবে। দেশে কর্মসংস্থান বাড়ানোর কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। মুদ্রানীতিতে এসব বিষয়ে সুস্পষ্ট বার্তা না থাকলে সেটি প্রণয়ন কিংবা ঘোষণা দিয়ে কোনো লাভ নেই।