পবিত্র ঈদুল আজহা ও আগামী অর্থবছরের নতুন বাজেটকে সামনে রেখে দেশেরশেয়ারবাজারে ইতিবাচক সুদিনের আভাস মিলছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সামষ্টিকঅর্থনীতির চাকা সচল হওয়া এবং নীতিগত কিছু পরিবর্তনের ফলে বিনিয়োগকারীদেরমধ্যে আশার আলো দেখা যাচ্ছে।
আজ সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবস রবিবার (২৪ মে) দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকাস্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচকের ইতিবাচকতার মধ্য দিয়ে লেনদেন শেষ হয়েছে।এদিন অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারের দর বাড়লেও আগের দিনের তুলনায় টাকারঅংকে লেনদেনের পরিমাণ কিছুটা কমেছে।
সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা
আজ রবিবার ডিএসইর প্রধান সূচক ‘ডিএসইএক্স’ ৭ দশমিক ৫০ পয়েন্ট বেড়ে ৫হাজার ৩৩৫ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
প্রধান সূচকের পাশাপাশি অপর দুটি সূচকও ঊর্ধ্বমুখী ছিল। ডিএসইর শরিয়াহ সূচক‘ডিএসইএস’ ৫ দশমিক ৩৫ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮২ পয়েন্টে। এছাড়াডিএস–৩০ সূচক ০ দশমিক ৫৪ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ৩০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।
লেনদেন চিত্র ও দর পরিবর্তন
ডিএসইতে আজ মোট ৭৭৮ কোটি ৭১ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড ইউনিটলেনদেন হয়েছে। গত কার্যদিবসে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৯০২ কোটি ১৫ লাখ টাকা।সেই হিসেবে আজ লেনদেন কমেছে প্রায় ১২৩ কোটি ৪৪ লাখ টাকা।
আজ বাজারে মোট ৩৮৯টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটের হাতবদল হয়েছে। এরমধ্যে:
- দর বেড়েছে: ১৬১টি কোম্পানির
- দর কমেছে: ১৩৬টি কোম্পানির
- অপরিবর্তিত রয়েছে: ৯২টি কোম্পানির শেয়ার দর।
সুদিনের নেপথ্যে যেসব কারণ
বাজার সংশ্লিষ্ট ও বিশ্লেষকদের মতে, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশেরঅর্থনীতির বিভিন্ন সূচকে ধীরে ধীরে ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে, যারস্পষ্ট প্রভাব পড়ছে পুঁজিবাজারে।
বিদেশি বিনিয়োগের সম্ভাবনা:
সম্প্রতি অর্থমন্ত্রীও শেয়ারবাজারের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তিনিজানিয়েছেন, বিদেশের বিভিন্ন ফান্ড ম্যানেজার ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরাবাংলাদেশের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে ব্যাপক আগ্রহ দেখাচ্ছেন। বিশ্লেষকদের মতে, বিদেশি বিনিয়োগ বাজারে এলে শুধু মূলধনই বাড়বে না, বরং বাজারের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত হবে।
বাজেট ও ঈদ পরবর্তী সুদিনের আভাস:
আগামী বাজেটে ব্যবসা–বাণিজ্য ও শিল্পখাতবান্ধব নীতি গ্রহণ করা হতে পারে—এমনপ্রত্যাশা রয়েছে বিনিয়োগকারীদের। নীতিগত সুবিধা পেলে তালিকাভুক্তকোম্পানিগুলোর মুনাফা বাড়বে, যার প্রতিফলন ঘটবে শেয়ারদরে। পাশাপাশিপ্রতিবছর জুন, জুলাই ও আগস্ট মাসে ঐতিহাসিকভাবেই বাজারে একটি বাড়তি গতিথাকে। ঈদের ছুটি শেষে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ আরও বাড়বে বলে মনেকরছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নতির জন্য শুধুমাত্র আশাবাদইযথেষ্ট নয়। বাজারকে সত্যিকার অর্থে স্থিতিশীল করতে হলে সুশাসন নিশ্চিত করা, বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা, ভালো ও মৌলভিত্তিক কোম্পানিকে বাজারেআনা এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার কার্যকর নীতিগত সহায়তা বজায় রাখা জরুরি।