আমাদের শেয়ার বাজারে যথাযথ নিয়মগুলো সঠিক সময় পরিপালিত না হবার কারণে খেসারত দিচ্ছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। কিছু অসৎ ও দুর্নীতিগ্রস্ত অফিসার ম্যানুপুলেটকারীদের সুবিধা দিচ্ছে বহুদিন যাবৎ। কিছু রাঘোব বোয়ালদের সুবিধা দেয়াতে সব সময়ই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন আমজনতা।
বিএসইসির নিয়ম অনুযায়ী, তালিকাভুক্ত কোনো কোম্পানি পরপর দুই বছর নগদ লভ্যাংশদিতে না পারলে বা নিয়মিত বার্ষিক সভা আয়োজনে ব্যর্থ হলে সেটিকে দুর্বল মানের ‘জেড’ শ্রেণিভুক্ত করতে হবে। এ ছাড়া কোনো কোম্পানি টানা ছয় মাস উৎপাদনে না থাকলে বা পর পর দুই বছর পরিচালন লোকসান করলে কিংবা তারল্য পরিস্থিতি (ক্যাশ ফ্লো) ঋণাত্মকহলে সেই কোম্পানিকেও ‘জেড’ শ্রেণিভুক্ত করার নির্দেশনা রয়েছে বিএসইসির।
নির্দেশনা থাকা সত্তেও এই সূত্রে যে সব শেয়ার পরেছে কেন সে গুলোকে যথাসময়ে বিএসইসির নিয়ম অনুযায়ী, পদক্ষেপ নেয়া হয়নি বিষয় টি খুবই স্পর্শকাতর। যদি যথা সময়ে উক্ত নিয়মঅনুযায়ী ১/২ টি কোম্পানি জেড ক্যাটাগরিতে স্থানান্তরিত হত তাহলে কারো আক্ষেপ থাকতো না।
সম্প্রতি বিএসইসির নিয়ম অনুযায়ী ২৩ টি কোম্পানি জেড’ শ্রেণিভুক্ত হবে এমন খবরে উক্ত শেয়ার গুলোর দাম পতনে পরেছে। ইতিমধ্যেই উক্ত ২৩ টি কোম্পানির মধ্যে ঈদের আগে ৫ টিকোম্পানি জেড শ্রেণিভুক্ত হয়েছে। কোম্পানি ৫ টি হলো যথাক্রমে নর্দার্ণ জুট, সুহৃদ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, নুরানী ডাইং, রতনপুর স্টিল রি–রোলিং মিলস (RSRM)ও অ্যাপোলো ইস্পাত লিমিটেড।
বাকি ১৮ কোম্পানি হলো- জাহিন স্পিনিং, জাহিনটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ, লিবরা ইনফিউশন, এটলাস বাংলাদেশ, আজিজ পাইপস, সেন্ট্রাল ফার্মা, খুলনা প্রিন্টিং(KPPL), ডেলটাস্পিনার্স, ইয়াকিন পলিমার(YPL), রিজেন্ট টেক্সটাইল, ইনটেক লিমিটেড, কেয়া কসমেটিকস, রিংশাইন টেক্সটাইল, নিউলাইন ক্লথিং, কাট্টলি টেক্সটাইল, সিভিও পেট্টোকেমিক্যাল, রেনউইক যোগেশ্বর ও মিরাকেল ইন্ডাস্ট্রিজ।
উক্ত কোম্পানিগুলি নিয়ে দুঃশ্চিতার মধ্যে আছেন বিনিয়োগকারীরা। তাই যথাযথ কর্তৃপক্ষের উচিৎ উক্ত কোম্পানি গুলো দ্রুত সময়ের মধ্যে ফয়সালা প্রদান করে বিনিয়োগকারীদের দুঃশ্চিতা থেকে রেহাই দেয়া এবং বাজারে দ্রুত স্বচ্ছতার ছাপ রাখা।