অর্থ লিপি

২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ মঙ্গলবার ৭ আশ্বিন ১৪৩৩

বস্ত্র, বীমা ও ওষুধ খাতে লেনদেনের দাপট, খাতভিত্তিক রোটেশনে ফিরছে বাজারের গতি?

সবার আগে শেয়ার বাজারের নির্ভর যোগ্য খবর পেতে আপনার ফেসবুক থেকে  “অর্থ লিপি.কম” ফেসবুক পেজে লাইক করে রাখুন, সবার আগে আপনার ওয়ালে দেখতে। লাইক করতে লিংকে ক্লিক করুন  www.facebook.com/OrthoLipi

দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬) মিশ্র প্রবণতায় লেনদেন শেষ হয়েছে। প্রধান সূচক কিছুটা কমলেও লেনদেনের পরিমাণ ৭৯১ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। একই সঙ্গে বস্ত্র, বীমা ও ওষুধ-রসায়ন খাতে বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা গেছে।

বাজার পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, এক খাত থেকে অন্য খাতে বিনিয়োগকারীদের অর্থ স্থানান্তরের প্রবণতা অর্থাৎ খাতভিত্তিক রোটেশন বাজারের লেনদেনকে সক্রিয় রাখতে ভূমিকা রাখছে। তবে এই প্রবণতা কতটা টেকসই হবে, তা নির্ভর করবে মৌলভিত্তি, মূল্যায়ন ও কোম্পানিগুলোর প্রকৃত ব্যবসায়িক পারফরম্যান্সের ওপর।

সূচকে মিশ্র চিত্র

মঙ্গলবার ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১০.১৭ পয়েন্ট বা ০.১৮ শতাংশ কমে ৫ হাজার ৫৪০.৩২ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

তবে শরিয়াহভিত্তিক কোম্পানির সূচক ডিএসইএস ১.৫৭ পয়েন্ট বা ০.১৪ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ১০৮.৫৭ পয়েন্টে এবং নির্বাচিত ৩০টি বড় কোম্পানির সূচক ডিএস-৩০ দশমিক ২৬ পয়েন্ট বা ০.০১ শতাংশ বেড়ে ২ হাজার ১০৬.১৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।

দিন শেষে ১০৩টি কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে। বিপরীতে দর কমেছে ২২৭টির এবং ৫৫টি কোম্পানির শেয়ারদর অপরিবর্তিত রয়েছে।

লেনদেন বেড়েছে সামান্য

মঙ্গলবার ডিএসইতে মোট ২ লাখ ১ হাজার ৭৪৫টি লেনদেনের মাধ্যমে ২৮ কোটি ৯৭ লাখ ৭২ হাজার ১০০টি শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট হাতবদল হয়েছে।

দিন শেষে মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭৯১ কোটি ৪৯ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবস সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) লেনদেন হয়েছিল ৭৮৮ কোটি ৭১ লাখ টাকা।

অর্থাৎ এক কার্যদিবসের ব্যবধানে লেনদেন বেড়েছে প্রায় ২ কোটি ৭৮ লাখ টাকা।

লেনদেনে এগিয়ে বস্ত্র, বীমা ও ওষুধ খাত

মঙ্গলবারের লেনদেনে সবচেয়ে বেশি সক্রিয় ছিল বস্ত্র খাত। এ খাতে লেনদেন হয়েছে প্রায় ১৪৪ কোটি ৫৫ লাখ টাকা।

এরপর বীমা খাতে ১২৬ কোটি ৬০ লাখ টাকা এবং ওষুধ ও রসায়ন খাতে ১১০ কোটি ৪০ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে।

এ ছাড়া ব্যাংক খাতে ৮৫ কোটি ৯৭ লাখ টাকা, মিউচুয়াল ফান্ডে ৮৩ কোটি ৮৮ লাখ টাকা এবং প্রকৌশল খাতে ৭৮ কোটি ৭০ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে।

দর বৃদ্ধিতে শীর্ষে

মঙ্গলবার দর বৃদ্ধির তালিকায় শীর্ষে ছিল ডমিনেজ স্টিল। কোম্পানিটির শেয়ারদর ৯.৯৮ শতাংশ বেড়ে ৬৬ টাকা ১০ পয়সায় দাঁড়িয়েছে।

এ ছাড়া ইসলামী ব্যাংক সিকিউরিটিজ অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট, ফার্স্ট প্রাইম ফাইন্যান্সিয়াল মিউচুয়াল ফান্ড, আইসিবি এএমসিএল দ্বিতীয় মিউচুয়াল ফান্ড এবং ওরিয়ন ইনফিউশনসহ কয়েকটি কোম্পানির শেয়ারদর উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

দরপতনে শীর্ষে

অন্যদিকে মঙ্গলবার সবচেয়ে বেশি দর কমেছে ফার্স্ট ফাইন্যান্সের। কোম্পানিটির শেয়ারদর ৬.৫২ শতাংশ কমে ৪ টাকা ৩০ পয়সায় নেমে এসেছে।

এ ছাড়া জাহীন স্পিনিং, নিউলাইন ক্লথিং, তুংহাই নিটিং এবং প্রিমিয়ার লিজিংয়ের শেয়ারদরও উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে।

টাকার অঙ্কে সর্বোচ্চ লেনদেন

টাকার অঙ্কে মঙ্গলবার সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে ডমিনেজ স্টিলে, প্রায় ৩৪ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। এরপর ইস্টার্ন ব্যাংকে ৩৪ কোটি ১৩ লাখ টাকা এবং স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসে ২২ কোটি ১০ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে।

শেয়ার হাতবদলের পরিমাণের দিক থেকে এগিয়ে ছিল ইস্টার্ন ব্যাংক। কোম্পানিটির প্রায় ১ কোটি ৪৯ লাখ শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এরপর মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে এমবিএল ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ডের প্রায় ১ কোটি এবং এক্সিম ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ডের প্রায় ৯৯ লাখ ৩২ হাজার ইউনিট হাতবদল হয়েছে।

বাজারে খাতভিত্তিক রোটেশন কি নতুন গতি আনছে?

প্রধান সূচক কমলেও লেনদেন ৭৯১ কোটি টাকা ছাড়ানো এবং কয়েকটি খাতে তুলনামূলক বেশি অর্থপ্রবাহ বাজারে খাতভিত্তিক রোটেশনের প্রবণতা নির্দেশ করছে।

এক খাতের শেয়ারে মুনাফা তুলে অন্য খাতের শেয়ারে অর্থ স্থানান্তর হলে বাজারের বিভিন্ন অংশে লেনদেনের সুযোগ তৈরি হয়। এতে কোনো একটি খাতের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে বাজারে অংশগ্রহণ বাড়তে পারে।

তবে খাতভিত্তিক রোটেশনকে টেকসই বাজারের লক্ষণ হিসেবে বিবেচনা করার আগে এর ধারাবাহিকতা পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন। বিশেষ করে কোম্পানির মৌলভিত্তি, আয়-লাভ, লভ্যাংশ, মূল্যায়ন এবং ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক সম্ভাবনার সঙ্গে শেয়ারদরের সামঞ্জস্য রয়েছে কি না, সেটিই বিনিয়োগকারীদের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

বাজারের জন্য এখন মূল প্রশ্ন শুধু লেনদেন কত হলো তা নয়, বরং এই অর্থপ্রবাহ কতটা ধারাবাহিক এবং মৌলভিত্তিকভাবে বিস্তৃত হয়। খাতভিত্তিক রোটেশন যদি গুজবনির্ভরতার পরিবর্তে মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানিকে কেন্দ্র করে ধারাবাহিক হয়, তাহলে ধীরে ধীরে বাজারে গতিশীলতা ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

Author

Share on facebook
Facebook
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
আপনি এটাও পড়তে পারেন
শেয়ার বাজার

আপনি এই পৃষ্ঠার কন্টেন্ট কপি করতে পারবেন না।