অর্থ লিপি

২০ এপ্রিল ২০২৬ সোমবার ৭ বৈশাখ ১৪৩৩

জলাবদ্ধতা ও আমাদের দায়বদ্ধতা, কারণ ও প্রতিকার

সবার আগে শেয়ার বাজারের নির্ভর যোগ্য খবর পেতে আপনার ফেসবুক থেকে  “অর্থ লিপি.কম” ফেসবুক পেজে লাইক করে রাখুন, সবার আগে আপনার ওয়ালে দেখতে। লাইক করতে লিংকে ক্লিক করুন  www.facebook.com/OrthoLipi

গত ৩/৪ বছর ঢাকা সহ দেশের সব বড় বড় শহর ও গ্রামে যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নতি হয়েছে এ কথা অস্বীকার করার অবকাশ নেই। যদি ও সরকার দলীয় প্রভাবশালি লোকদের এলাকা জুড়ে বেশি উন্নয়ন হয়েছে। এমন দেখা গেছে যেখানে দরকার নেই সেখানেও হয়েছে। আবার যেখানে অতিব জরুরী সেখানে নামমাত্র সংস্কার কাজ হচ্ছে। যাই হোক দেশেই তো হচ্ছে দেশের বাহিরে নয়, এ সান্ত্বনা নেয়াই যায়।

কিছুদিন আগে সিটি কর্পোরেশনের পরিস্কার করার দল আসলো, কোমর  সমান পানিতে নেমে পরিস্কার করছে ভয়ংকর নোংরা ড্রেন, পানির মদ্ধে সব মানুষের ব্যবহারের জিনিষপত্র, এক কথায় সব কিছু আছে। পলি ভরতি ব্যবহারের অযোগ্য জিনিষই বেশি। এই ফেলে দেয়া জিনিশ গুলোই সব জমে পানি চলার প্রবাহ বন্ধ করে দিচ্ছে।

যে লোকগুলো ময়লা পরিস্কার করেছে তাদের মধ্যে কিছু লোক এভাবে বলছে ‘বড়লোক আর শিক্ষিত লোকেরা খাচ্চোর ও বেয়াক্কল। যদিও গালাগালি করেছে তারপরেও তাদের কাজ করে যাচ্ছে। অথচ এগুলো তারা ফেলেনি, বরঞ্চ আমরা যারা ফেলেছি তারাই বিরক্তি প্রকাশ করছি। সরকার, সিটি কর্পোরেশনকে গালি দিচ্ছি। নিজেরা  সচেতন  না হয়ে নিজেদের কর্ম ফলের দায়ভার কি অন্যের উপর দেয়া কি ঠিক?

এখন কথা হচ্ছে এগুলো ড্রেনে আসল কি করে, নিশ্চয়ই আমরাই ড্রেনে ফেলি ম্যানহোলের ডাকনা না থাকায় সেই ফাকা দিয়েই। আশ্চর্যজনক হলেও এ কথা সত্য আমাদের আম-পাবলিকের অলসতা, অসচেতনতা, পাশাপাশি রাস্তাঘাট ও ড্রেন পরিকল্পনা মাফিক না হওয়াই ঢাকা সহ অন্যান্য শহরের জলাবদ্ধতার মূল কারন।

ঢাকা সহ অন্য বড় শহরে পানি জমার কয়েকটি বড় কারন

১। ময়লা ডাস্টবিনে সঠিক ভাবে না ফেলে, যত্রতত্র ফেলা।

২। বর্ষাকালে রাস্তা কেটে অন্যান্য উন্নয়ন মূলক কাজ করা ও রাস্তাঘাট সংস্কার কাজ।

৩। অবৈধ ভাবে ড্রেন, নিচু জমি ও জলাশয় করে বাড়ি স্থাপন।

৫। বাড়ি স্থাপন করার সময় অপরিকল্পিত ও স্বার্থপরের মত সীমানা প্রাচীর দেয়া।

৫। রাস্তার পাশসহ ড্রেনের উপরে বিভিন্ন দোকান স্থাপন।

৬। নতুন রাস্তাঘাট করার সময় প্লানিং এর অভাব।

৪। রাস্তাঘাট ও অন্যান্য কাজের সাথে জরিত কন্ট্রাক্টর ও ইঞ্জিনিয়ারসদের দুর্নীতি।

৮। সঠিক পরিকল্পনার সীমাবদ্ধতা

 

কিছু প্রতিকার

১। যে সব ম্যানহোলের ডাকনা নেই দ্রত ঢাকনা লাগানো এবং ড্রেনের উপরে সুরক্ষা ঢাকনা দিয়ে ঢেকে দেয়া। কোন ড্রেন ঢাকনা ছাড়া রাখাই যাবেনা।

২। বর্ষাকালে রাস্তা কেটে অন্যান্য উন্নয়ন মূলক কাজ করা ও রাস্তাঘাট সংস্কারকাজ করা যাবেনা, সংস্কার কাজ করতে হবে শুকনো মৌসুমে।

৩। রাস্তাঘাট করার সময়, অন্য কোন কোন উন্নয়ন মূলক কাজ করার সময় ভেবে নিতে হবে, প্রাসঙ্গিক আর কোন কাজ আছে কিনা, সে ব্যাপারে রাস্তার নিচে যে সব কাজ হতে পারে প্রয়োজনীয় দফতরের সাথে আলাপ করে সঠিক কৌশলে কাজ সম্পন্ন করা।

৪। স্থানীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাড়িওয়ালা দের সচেতন করা, প্রয়োজনে বড় ধরণের জরিমানা করা প্রয়োজনীয় বিধির সঠিক প্রয়গ করা।

৪। রাস্তাঘাট ও অন্যান্য কাজের সাথে জরিত ঠিকাদার ও প্রকৌশলীদের দুর্নীতি যাতে রোধ করা যায় তার সুব্যবস্থা করা।

৫। সাধারণ জনগন সচেতন এমনি এমনি হবে না, যারা ময়লা আবর্জনা যত্রতত্র ফেলবে বা যারা দায়ী তাদের অর্থ দন্ড দেয়া।

৬। সরকার, প্রশাসন, স্থানীয় সকলকে দায়িত্বশীল সৎ ও সচেতন হওয়া জরুরী।

পরিশেষে বলা যায়, বিশেষ করে জলাবদ্ধতার জন্যে দেশের জনগন কম দায়ী না, তাই জনগণ যে, যেভাবে পারে কাছাকাছি পরিস্কার রাখার চেস্টা করি। সরকার বা সিটি কর্পোরেশনকে গালি না দিয়ে আমি নিজে সচেতন হই। এভাবে সবাই এগিয়ে আসলে হয়তো একদিন আমরা সুফল পাবোই, এ আশাবাদ রাখাই যায়।

Author

  • মোঃ জসিম উদ্দিন তালুকদার দেশের পুঁজিবাজারের সাথে সরাসরি যুক্ত। তিনি উপ-মহাব্যবস্থাপক, জাহান সিকিউরিটিজ লিমিটেডের। পোর্টফোলিও পরিচালনায় সুদক্ষ ও অভিজ্ঞতা সম্পন্ন। তিনি ২০ বছর ধরে অত্যন্ত সুনামের সহিত পুঁজিবাজারের সাথে যুক্ত আছেন।

    View all posts
Share on facebook
Facebook
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
আপনি এটাও পড়তে পারেন
শেয়ার বাজার

আপনি এই পৃষ্ঠার কন্টেন্ট কপি করতে পারবেন না।