মুসলিম উম্মাহর অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহার অবিচ্ছেদ্য অংশ কোরবানি। আল্লাহর সন্তুষ্টি ও ইবাদতের উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট দিনে পশু জবাই করাই হলো কোরবানি, যা প্রতিটি সামর্থ্যবান মুসলিম নর-নারীর ওপর ওয়াজিব। আগামী বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সারাদেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে।
কোরবানি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও ফজিলতময় ইবাদত হলেও, সঠিক জ্ঞানের অভাবে অনেক সময় আমরা বিভিন্ন বিষয়ে বিভ্রান্তিতে পড়ে যাই। এর মধ্যে একটি সাধারণ প্রশ্ন হলো— কোরবানির পশু চুরি হয়ে গেলে বা মারা গেলে করণীয় কী?
পশু চুরি বা মারা গেলে শরীয়তের বিধান
ইসলামী ফিকহের নির্ভরযোগ্য কিতাবগুলোর (বাদায়েউস সানায়ে ৪/২১৬, খুলাসাতুল ফাতাওয়া ৪/৩১৯) বর্ণনা অনুযায়ী:
ধনী বা সামর্থ্যবান ব্যক্তির ক্ষেত্রে:
কোরবানিদাতার ওপর যদি পূর্ব থেকেই কোরবানি ওয়াজিব হয়ে থাকে এবং তার কেনা পশুটি চুরি হয়ে যায় বা মারা যায়, তবে তাকে অবশ্যই আরেকটি পশু কিনে কোরবানি করতে হবে।
দরিদ্র বা অসচ্ছল ব্যক্তির ক্ষেত্রে:
যার ওপর কোরবানি ওয়াজিব নয় (নফল হিসেবে কোরবানি করার জন্য পশু কিনেছিলেন), তার পশুটি চুরি বা মারা গেলে আরেকটি পশু কোরবানি করা ওয়াজিব নয়।
কোরবানি কার ওপর ওয়াজিব?
সহজ কথায়, যার ওপর জাকাত ওয়াজিব, তার ওপর কোরবানিও ওয়াজিব।প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন মুসলিম নর-নারী—যিনি ১০ জিলহজ ফজর থেকে ১২ জিলহজ সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনের অতিরিক্ত ‘নিসাব পরিমাণ’ সম্পদের মালিক থাকবেন, তার ওপর কোরবানি করা ওয়াজিব।
নিসাব-নিকাশের সহজ হিসাব
আপনার সম্পদ নিসাব পরিমাণ কি না, তা বুঝবেন যেভাবে:
স্বর্ণের ক্ষেত্রে: সাড়ে সাত (৭.৫$) ভরি বা তোলা স্বর্ণ থাকলে।
রুপার ক্ষেত্রে: সাড়ে বাহান্ন (৫২.৫) ভরি বা তোলা রুপা থাকলে।
নগদ টাকা বা অন্যান্য সামগ্রী: নগদ অর্থ, ব্যবসার পণ্য বা প্রয়োজনের অতিরিক্ত এমন কোনো জিনিস—যার বাজারমূল্য সাড়ে বাহান্ন তোলা রুপার দামের সমপরিমাণ বা তার চেয়ে বেশি হয়।
বিশেষ দ্রষ্টব্য, যৌথ হিসাব
কারো কাছে যদি সোনা, রুপা বা নগদ টাকা এককভাবে নিসাব পরিমাণ না থাকে; কিন্তু প্রয়োজনের অতিরিক্ত একাধিক বস্তু মিলিয়ে মোট মূল্য সাড়ে বাহান্ন তোলা রুপার দামের সমান হয়ে যায়, তাহলেও তার ওপর কোরবানি ওয়াজিব হবে (আল মুহিতুল বুরহানি: ৮/৪৫৫)।
উদাহরণ: ধরুন, কোরবানির দিনগুলোতে কারো কাছে ২ ভরি সোনা এবং নগদ ৫০০ টাকা আছে। এককভাবে কোনোটিই নিসাব পরিমাণ নয়। কিন্তু ২ ভরি সোনার মূল্য ও ৫০০ টাকা একত্র করলে যদি তা সাড়ে বাহান্ন তোলা রুপার মূল্যের চেয়ে বেশি হয়ে যায়, তবে তিনি নিসাবের মালিক বলে গণ্য হবেন এবং তার ওপর কোরবানি করা ওয়াজিব হবে।পবিত্র কোরবানির এই মহান ইবাদত যেন আমাদের নিয়ত ও সঠিক নিয়মের মাধ্যমে আল্লাহর দরবারে কবুল হয়, সেই চেষ্টা করাই আমাদের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।