বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সাম্প্রতিক নীতিগত সংস্কার ও ইতিবাচক বিভিন্ন পদক্ষেপের প্রভাবে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ঘুরে দাঁড়ানোর আভাস দেখা যাচ্ছে। টানা সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার পাশাপাশি লেনদেনেও বড় ধরনের গতি ফিরেছে। এতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা ফেরার ইঙ্গিত মিলছে।
আজ বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবসে দুপুর ২টা ১০ মিনিট পর্যন্ত ডিএসইর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, প্রধান সূচক DSEX ২৩.১০ পয়েন্ট বা ০.৪০ শতাংশ বেড়ে ৫,৬৬০.৪১ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
একই সময়ে শরিয়াহভিত্তিক সূচক DSES ৪.৭০ পয়েন্ট বেড়ে ১,১৩৫.১১ পয়েন্টে এবং বাছাই করা শীর্ষ ৩০ কোম্পানির সূচক DS30 ৩.৪৪ পয়েন্ট বেড়ে ২,১২৫.৪৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) ডিএসইতে বড় ধরনের উত্থান দেখা যায়। পরদিনও সূচকের ঊর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত থাকায় বাজারে ইতিবাচক মনোভাব আরও শক্তিশালী হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
লেনদেনে বড় লাফ
সূচকের পাশাপাশি আজ ডিএসইতে লেনদেনেও উল্লেখযোগ্য গতি দেখা গেছে। গতকাল যেখানে মোট লেনদেন হয়েছিল ৫৯৬ কোটি ৮২ লাখ টাকা, সেখানে আজ দুপুর ২টা ১০ মিনিট পর্যন্ত লেনদেন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৩১ কোটি ৭ লাখ টাকা।
আজ এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৭৫ হাজার ৯৭টি ট্রেডের মাধ্যমে ২৫ কোটি ৫৫ লাখ ২৬ হাজার ২৬৮টি শেয়ার হাতবদল হয়েছে।
লেনদেনের এই ঊর্ধ্বগতি বাজারে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ এবং সক্রিয়তা বাড়ার একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা।
অধিকাংশ শেয়ারের দর বেড়েছে
আজকের লেনদেনে অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে দর বাড়ার প্রবণতাই ছিল বেশি।
- দর বেড়েছে: ২৩৯টি কোম্পানির শেয়ার
- দর কমেছে: ৯২টি কোম্পানির শেয়ার
- দর অপরিবর্তিত: ৫৭টি কোম্পানির শেয়ার
অর্থাৎ, বাজারে বিক্রির চাপের তুলনায় ক্রেতাদের সক্রিয়তা তুলনামূলকভাবে বেশি ছিল।
সংস্কারমূলক পদক্ষেপে ফিরছে আস্থা?
বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে বিএসইসির নেওয়া বিভিন্ন নীতিগত ও কাঠামোগত পদক্ষেপ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ইতিবাচক প্রত্যাশা তৈরি করেছে। বিশেষ করে ডাইরেক্ট লিস্টিংয়ের সুযোগ, জেড ক্যাটাগরির কোম্পানির বিষয়ে কঠোরতা এবং বাজারের শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা বাড়াতে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ বাজারে নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে।
তাদের মতে, নিয়ন্ত্রক সংস্থার সংস্কারমূলক উদ্যোগগুলো বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে ধীরে ধীরে বিনিয়োগকারীদের আস্থা আরও বাড়তে পারে। এর ফলে বাজারে নতুন অর্থের প্রবাহ ও লেনদেনের গতি বাড়ার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে একটি আরও শক্তিশালী ও স্থিতিশীল শেয়ারবাজার গড়ে ওঠার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
তবে বাজারের এই ইতিবাচক প্রবণতা কতটা স্থায়ী হয়, তা নির্ভর করবে বিনিয়োগকারীদের আস্থা, কোম্পানিগুলোর মৌলভিত্তি এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার সংস্কার কার্যক্রমের ধারাবাহিক বাস্তবায়নের ওপর।
Author
-
'অর্থ লিপি ডট কম' একটি নির্ভরযোগ্য শেয়ার বাজার ভিত্তিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল। অর্থ ও বাণিজ্য, রাজনীতি, সমাজ ও সংস্কৃতি, প্রতিবেদন, বিশ্লেষণমূলক লেখা প্রকাশ করে।
View all posts
'অর্থ লিপি ডট কম' শেয়ার মার্কেটের প্রয়োজনীয় সকল তথ্য সততার সহিত পরিবেশন করে এবং কোন সময় অতিরঞ্জিত, ভুল তথ্য প্রকাশ করেনা এবং গুজব ছড়ায়না, বরং বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে বদ্ধ পরিকর। এটি একটি স্বাধীন, নির্দলীয় এবং অলাভজনক প্রকাশনা মাধ্যম।