বিএসইসির নতুন কমিশনের অধীনে আগামীকাল রবিবার (৬ জুন) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হচ্ছে দেশের পুঁজিবাজারের নতুন অধ্যায়। দীর্ঘদিন ধরে আস্থা সংকট, তারল্যের ঘাটতি, বাজার কারসাজি এবং দুর্বল প্রাতিষ্ঠানিক অংশগ্রহণের মতো নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা দেশের শেয়ারবাজার এখন নতুন নেতৃত্বের দিকে তাকিয়ে আছে আশাবাদী দৃষ্টিতে।
বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন কমিশনের সামনে সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হবে বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার করা। কারণ একটি সুস্থ ও টেকসই পুঁজিবাজার গড়ে তুলতে শুধু নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপ নয়, একই সঙ্গে বাজারবান্ধব নীতি, তারল্য বৃদ্ধি, নতুন বিনিয়োগকারী আকর্ষণ এবং ভালো কোম্পানিকে বাজারে নিয়ে আসার উদ্যোগও প্রয়োজন।
নতুন কমিশন ইতোমধ্যে পুঁজিবাজারে কঠোর ও স্মার্ট নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা, বাজারের ডিজিটালাইজেশন এবং কারসাজিকারীদের বিরুদ্ধে রিয়েল-টাইম পদক্ষেপ গ্রহণের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে। এসব উদ্যোগ কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে বাজারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মাধ্যমে বাজারকে দীর্ঘমেয়াদে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। বাজারে নতুন বিনিয়োগ, প্রাতিষ্ঠানিক অংশগ্রহণ বৃদ্ধি, কর কাঠামোর উন্নয়ন এবং তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর সুশাসন নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা, নতুন কমিশন বাজারে এমন একটি পরিবেশ তৈরি করবে যেখানে প্রকৃত বিনিয়োগকারীরা ন্যায্য সুযোগ পাবেন এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ সংস্কৃতি গড়ে উঠবে। একই সঙ্গে বাজারে বড় ও মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানির তালিকাভুক্তি বাড়ানো গেলে দেশের পুঁজিবাজার নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে।
এখন দেখার বিষয়, নতুন কমিশন তাদের ঘোষিত পরিকল্পনা কত দ্রুত এবং কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে পারে। কারণ আগামী দিনের পুঁজিবাজারের গতিপথ অনেকটাই নির্ভর করবে এই কমিশনের নীতি, দক্ষতা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ওপর।