দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) টানা দ্বিতীয় দিনের মতো সূচকের বড় পতন হয়েছে।
একদিকে প্রধান সূচকগুলোর নিম্নমুখী প্রবণতা, অন্যদিকে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দর কমে যাওয়ায় বাজারে বিক্রির চাপের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ধারাবাহিক এই পতন বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা ও প্রত্যাশার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা।
আজ সোমবার (৫ অক্টোবর ২০২৬) দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইর প্রধান সূচক DSEX ৩৭.০৯ পয়েন্ট বা ০.৬৮ শতাংশ কমে ৫,৪৪৫.২৮ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
একই সময়ে শরিয়াহভিত্তিক কোম্পানিগুলোর সূচক DSES ৯.৮৮ পয়েন্ট বা ০.৯১ শতাংশ কমে ১,০৭৯.৮০ পয়েন্টে এবং নির্বাচিত বড় মূলধনী কোম্পানির সূচক DS30 ৩.৫৪ পয়েন্ট বা ০.১৭ শতাংশ কমে ২,০৮১.৭৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।
অধিকাংশ শেয়ারের দর কমেছে
দিনের লেনদেনে অংশ নেওয়া অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দর কমেছে। এদিন ৫৪টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটের দর বেড়েছে, বিপরীতে ২৮৪টির দর কমেছে। আর ৪৮টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দর অপরিবর্তিত ছিল।
দরপতনের এই চিত্র বাজারে বিক্রির চাপ তুলনামূলক বেশি থাকার ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে একটি দিনের বাজারচিত্র দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি বাজার প্রবণতা বা বিনিয়োগকারীদের সামগ্রিক মনোভাব সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না।
৫৩৭ কোটি টাকার লেনদেন
আজ ডিএসইতে মোট ১ লাখ ৭২ হাজার ৭৫৩টি লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে। এসব লেনদেনে ১৮ কোটি ৮ লাখের বেশি শেয়ার ও ইউনিট হাতবদল হয়েছে।
দিন শেষে লেনদেনের মোট মূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫৩৭ কোটি ১১ লাখ টাকা।
আগের দিনও বড় পতন
এর আগে রোববার (৪ অক্টোবর) ডিএসইতে বড় ধরনের পতন হয়েছিল। ওইদিন প্রধান সূচক DSEX ৪৯.২৮ পয়েন্ট বা ০.৮৯ শতাংশ কমে ৫,৪৮২.৩৬ পয়েন্টে নেমে আসে। সেদিন ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছিল প্রায় ৫৪২ কোটি ৯৮ লাখ টাকা।
অর্থাৎ পরপর দুই কার্যদিবসে DSEX সূচক মোট ৮৬.৩৭ পয়েন্ট কমেছে। একই সময়ে লেনদেনের পরিমাণও ৫০০ কোটি টাকার ঘরে রয়েছে।
আস্থার সংকট কাটাতে প্রয়োজন স্থিতিশীলতা
শেয়ারবাজারে সূচকের ওঠানামা স্বাভাবিক বিষয়। তবে টানা কয়েকদিন সূচকের পতন, অধিকাংশ শেয়ারের দর কমে যাওয়া এবং লেনদেনের সীমিত পরিসর বাজারের সামগ্রিক পরিবেশ নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বাড়াতে পারে।
বিশেষ করে দীর্ঘ সময় ধরে বাজারে প্রত্যাশিত গতি না থাকলে বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ নতুন বিনিয়োগে সতর্ক অবস্থান নিতে পারেন। ফলে বাজারে আস্থা ফিরিয়ে আনতে শুধু সূচকের সাময়িক উত্থান নয়, বরং স্বচ্ছতা, সুশাসন, ভালো কোম্পানির মৌলভিত্তিক মূল্যায়ন এবং ধারাবাহিক নীতিগত স্থিতিশীলতা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা।
তবে বর্তমান পতন কতটা সাময়িক এবং কতটা দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতার ইঙ্গিত দিচ্ছে, তা বুঝতে পরবর্তী কয়েকটি কার্যদিবসের সূচক, লেনদেন, কোম্পানিভিত্তিক দর পরিবর্তন এবং বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণের প্রবণতা পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।