অর্থ লিপি

২০ এপ্রিল ২০২৬ সোমবার ৭ বৈশাখ ১৪৩৩

জাফর ইকবাল একজন গায়ক থেকে নায়ক

সবার আগে শেয়ার বাজারের নির্ভর যোগ্য খবর পেতে আপনার ফেসবুক থেকে  “অর্থ লিপি.কম” ফেসবুক পেজে লাইক করে রাখুন, সবার আগে আপনার ওয়ালে দেখতে। লাইক করতে লিংকে ক্লিক করুন  www.facebook.com/OrthoLipi

বাংলাদেশের সিনেমায় তখনও আধুনিকতার একদমই ছোঁয়া লাগেনি, যুক্ত হয়নি উন্নত প্রযুক্তি। কিন্তু সীমাবদ্ধ সম্ভাবনা ও রিসোর্স দিয়েও তখন নির্মিত হয়েছে একের পর এক নন্দিত সিনেমা। যা ওই সময়ের সিনে-ব্যক্তিদের সৃষ্টিশীলতার প্রমাণ দেয় ঐ সময় উপযোগী।

সেই সাদাকালো কিংবা কিছুটা রঙিন সময়েও একজন তারকা আধুনিকতার চর্চা করেছিলেন; নিজের কাজে, ব্যক্তিত্বে ও জীবন যাপনে। তার ফ্যাশন, স্টাইল ছিল সময়ের চেয়ে অনেকখানি এগিয়ে। এজন্য কেউ কেউ তাকে বাংলাদেশের এলভিস প্রিসলি বলেও অভিহিত করতেন। আর প্রতিভায় ছিলেন অদ্বিতীয়। এমনকি এই সময়ে এসেও তার মতো বহুমুখী প্রতিভাসম্পন্ন, স্টাইলিশ তারকার দেখা মেলে না। তিনি একজন অনন্য জাফর ইকবাল। বেঁচে থাকলে আজ ৭৩-এ পা রাখতেন। কিন্তু বহু আগেই, ১৯৯২ সালে ২৫ শে সেপ্টেম্বর তিনি চলে গেছেন অনন্তলোকে।

জাফর ইকবাল সেই বিরল তারকাদের একজন, যিনি গান এবং সিনেমা দুই জগতেই দাপট দেখিয়েছিলেন। শুধু তাই নয়, দেশের সূর্যসন্তান হিসেবেও তার নামটি স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। কেননা ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে তিনি সরাসরি অংশ নিয়েছিলেন।

১৯৫০ সালের এই দিনে (২৫শে সেপ্টেম্বর) ঢাকায় জন্মেছিলেন জাফর ইকবাল। জন্মের পর থেকেই পরিবারে সংগীতের চর্চা দেখেছেন। তার বড় ভাই আনোয়ার পারভেজ ছিলেন দেশের প্রথম সারির সুরকার-সংগীত পরিচালক। আর তার বোন শাহনাজ রহমতুল্লাহ তো বাংলা গানের কিংবদন্তি শিল্পী।

পারিবারিক আবহে তাই জাফর ইকবালের মনেও বাসা বাঁধে সুর। কিন্তু তার মননে ছিল আধুনিকতা। পশ্চিমা, আন্তর্জাতিক সংগীত তাকে বেশি আকৃষ্ট করেছিল। তাই গিটারে হাত পাকিয়ে নেমে পড়েন ব্যান্ড মিউজিকে।

১৯৬৭ সালে বন্ধুদের নিয়ে ‘র‌্যাম্বলিং স্টোনস’ নামের একটি ব্যান্ড গঠন করেছিলেন জাফর ইকবাল। এই ব্যান্ডের হয়ে বহু কনসার্ট করেছিলেন তিনি। মজার ব্যাপার হলো, কনসার্ট করতে গিয়েই তার নায়ক হওয়ার পথ শুরু হয়। ১৯৬৯ সালে এক অনুষ্ঠানে তিনি যখন মঞ্চে গিটার বাজিয়ে গলা ছেড়ে গাইছেন, তখন দর্শক সারিতে বসা নন্দিত নির্মাতা খান আতাউর রহমান। স্টেজের সেই সুদর্শন তরুণের মাঝে তিনি দেখতে পান আগামীর চিত্রনায়ককে। তাই নিজের পরবর্তী সিনেমা ‘আপন পর’-এ জাফর ইকবালকে কাস্ট করেন। আর এভাবেই গায়ক থেকে নায়ক হয়ে ওঠেন জাফর ইকবাল।

প্রায় দেড়শ সিনেমায় অভিনয় করেছিলেন এই অকালপ্রয়াত নায়ক। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো- ‘ভাই বন্ধু’, ‘অবদান’, ‘সাধারণ মেয়ে’, ‘ফকির মজনুশাহ’, ‘দিনের পর দিন’, ‘অংশীদার’, ‘সাত রাজার ধন’, ‘আশীর্বাদ’, ‘অপমান’, ‘এক মুঠো ভাত’, ‘নয়নের আলো’, ‘গৃহলক্ষ্মী’, ‘ওগো বিদেশিনী’, ‘প্রেমিক’, ‘নবাব’, ‘প্রতিরোধ’, ‘ফুলের মালা’ ইত্যাদি।

সিনেমায় ব্যস্ত হয়ে পড়ায় গানে সেভাবে কাজ করতে পারেননি জাফর ইকবাল। তবে প্রকাশ করেছিলেন ‘কেন তুমি কাঁদালে’ শীর্ষক একটি একক অ্যালবাম। তার গাওয়া প্রায় দুইশ গানের মধ্যে ‘সুখে থেকো ও আমার নন্দিনী’, ‘এক হৃদয়হীনার কাছে’, ‘যেভাবেই বাঁচি বেঁচে তো আছি’, ‘শেষ করো না শুরুতেই খেলা’ গানগুলো কালজয়ী হয়ে আছে।

শোনা যায়, তুমুল জনপ্রিয়তা আর সাফল্য পেলেও ব্যক্তিজীবনে শান্তির দেখা পাননি জাফর ইকবাল। তাই মানসিক অবসাদে আক্রান্ত হন। অভ্যস্ত হয়ে পড়েন অনিয়ন্ত্রিত জীবনে। যার ফলে মরণব্যাধি ক্যানসারে আক্রান্ত হন। নষ্ট হয়ে যায় তার হার্ট ও কিডনি। ফলে ১৯৯২ সালের ৮ই জানুয়ারি ঢলে পড়েন মৃত্যুর কোলে।

কিন্তু কণ্ঠে ও অভিনয়ে তিনি বেঁচে থাকবেন দেশীয় শোবিজের রঙ্গিন ইতিহাসে। তার ঠোঁট মেলানো ‘আমার বাবার মুখে’, ‘আমার সারাদেহ খেয়ো গো মাটি’, ‘আমার বুকের মধ্যেখানে’, ‘ভেঙেছে পিঞ্জর’, ‘তুমি আমার জীবন’ কিংবা ‘চাঁদের সাথে আমি দেবো না তোমার তুলনা’ গানগুলোতে অমর হয়ে থাকবেন প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে।

Author

  • 'অর্থ লিপি ডট কম' একটি নির্ভরযোগ্য শেয়ার বাজার ভিত্তিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল। অর্থ ও বাণিজ্য, রাজনীতি, সমাজ ও সংস্কৃতি, প্রতিবেদন, বিশ্লেষণমূলক লেখা প্রকাশ করে।

    'অর্থ লিপি ডট কম' শেয়ার মার্কেটের প্রয়োজনীয় সকল তথ্য সততার সহিত পরিবেশন করে এবং কোন সময় অতিরঞ্জিত, ভুল তথ্য প্রকাশ করেনা এবং গুজব ছড়ায়না, বরং বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে বদ্ধ পরিকর। এটি একটি স্বাধীন, নির্দলীয় এবং অলাভজনক প্রকাশনা মাধ্যম।

    View all posts
Share on facebook
Facebook
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
আপনি এটাও পড়তে পারেন
শেয়ার বাজার

আপনি এই পৃষ্ঠার কন্টেন্ট কপি করতে পারবেন না।