শেয়ার বাজার সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিশ্লেষকদের অধিকাংশের মতে, বর্তমানে শেয়ারবাজারে একটি বড় বাধা রাজনৈতিক অস্থিরতা। যে কারণে নতুন বিনিয়োগ আসছে না। ব্যক্তি, প্রাতিষ্ঠানিক ও বিদেশি বিনিয়োগকারীরা এই অস্থির সময় বিনিয়োগে ভরষা পাচ্ছেনা।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, বাজারে গতি ফেরাতে রাজনৈতিক স্থিতিশীল জরুরি।
২০২৬ সালে নির্বাচন হবে তখন শেয়ারবাজার ঘুরে দাঁড়াবে এই প্রত্যাশা সকল বিনিয়োগকারীদের, সব ধরনের অনিশ্চয়তা কেটে কি ঘুরে দাঁড়াতে পারবে বাজার ? এই প্রশ্ন সব শ্রেণীর বিনিয়োগকারীদের। বেশিরভাগ বিনিয়োগকারীদের ধারণা নির্বাচন পরবর্তী সময়ে দেশের শেয়ার বাজার ভালো হবে মুনাফা পাবেন সকল বিনিয়োগকারীরা।
শেয়ারবাজারে গত সপ্তাহে সূচক ও লেনদেন দুটোই নিম্নমুখী ছিল। গত সপ্তাহে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সার্বিক সূচক ডিএসইএক্স কমেছে ১.০৭ শতাংশ। পাশাপাশি দৈনিক গড় লেনদেন কমেছে ২৪ শতাংশের বেশি।
ডিএসইর সাপ্তাহিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত সপ্তাহে ডিএসইএক্স সূচক আগের সপ্তাহের তুলনায় ৫৭ দশমিক ৮ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৩৫০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, গত সপ্তাহে যা ছিল ৫ হাজার ৪০৮ পয়েন্ট। নির্বাচিত কোম্পানির সূচক ডিএস-৩০ সপ্তাহের ব্যবধানে ২৩ দশমিক ৯ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ৭৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ২ হাজার ৯৮ পয়েন্ট। ডিএসইর শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস ৭ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১৬৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ১ হাজার ১৭০ পয়েন্ট।
ডিএসইতে গত সপ্তাহে মোট ৩৯৫টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ৯৯টির, কমেছে ২৭৪টির ও দর অপরিবর্তিত ছিল ২৩টির। আর লেনদেন হয়নি ১৭টির। গত সপ্তাহে সূচকের পতনে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে স্কয়ার ফার্মা, গ্রামীণফোন, ইসলামী ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক ও এসআইবিএলের শেয়ার।
ডিএসইতে গত সপ্তাহে মোট ৩ হাজার ৪৪৫ কোটি ৯৪ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। যেখানে আগের সপ্তাহে লেনদেন ছিল ৩ হাজার ৬৪৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা। সে হিসাবে এক সপ্তাহের ব্যবধানে এক্সচেঞ্জটিতে দৈনিক গড় লেনদেন কমেছে ২৪ দশমিক ৩৮ শতাংশ।
খাতভিত্তিক লেনদেনে গত সপ্তাহে ওষুধ ও রসায়ন খাতের আধিপত্য ছিল। লেনদেনচিত্র বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত সপ্তাহে ডিএসইর মোট লেনদেনের ১৭ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ দখলে নিয়ে শীর্ষ অবস্থান করছে ওষুধ ও রসায়ন খাত। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৪ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ দখলে নিয়েছে ব্যাংক খাত। ১১ দশমিক ৮৫ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে তৃতীয় অবস্থানে বস্ত্র খাত। চতুর্থ অবস্থানে থাকা খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতের দখলে ছিল লেনদেনের ৮ দশমিক ৭৪ শতাংশ। আর ৮ দশমিক ৫৬ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে তালিকার পঞ্চম অবস্থানে ছিল প্রকৌশল খাত।
গত সপ্তাহে ডিএসইতে ছয়টি খাত বাদে সব খাতের শেয়ারেই নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে। এর মধ্যে মিউচুয়াল ফান্ড খাতের শেয়ারে সবচেয়ে বেশি ৪ দশমিক ১৮ শতাংশ নেতিবাচক রিটার্ন ছিল। এছাড়া টেলিযোগাযোগ খাতে ২ দশমিক ৫৭ শতাংশ ও সাধারণ বীমা খাতে ১ দশমিক ৯২ শতাংশ নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে। অন্যদিকে গত সপ্তাহে পাট খাতে সবচেয়ে বেশি ১২ দশমিক ১৬ শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে। এছাড়া করপোরেট বন্ড খাতে ৭ দশমিক ১৫ শতাংশ এবং কাগজ ও মুদ্রণ খাতে ৩ দশমিক ২৬ শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন ছিল।
দেশের আরেক পুঁজিবাজার চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) গত সপ্তাহে সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১ দশমিক ৪৫ শতাংশ কমে ১৪ হাজার ৯৭৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ১৫ হাজার ১৯৩ পয়েন্ট। সিএসসিএক্স সূচকটি গত সপ্তাহে ১ দশমিক ৩৬ শতাংশ কমে ৯ হাজার ১৯১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ৯ হাজার ৩১৭ পয়েন্ট।
সিএসইতে গত সপ্তাহে ৭৫ কোটি ৭৮ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ১১১ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। আলোচ্য সপ্তাহে সিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩১৩টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৮৮টির, কমেছে ২০৯টির আর অপরিবর্তিত ছিল ১৬টির বাজারদর।
Author
-
'অর্থ লিপি ডট কম' একটি নির্ভরযোগ্য শেয়ার বাজার ভিত্তিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল। অর্থ ও বাণিজ্য, রাজনীতি, সমাজ ও সংস্কৃতি, প্রতিবেদন, বিশ্লেষণমূলক লেখা প্রকাশ করে।
View all posts
'অর্থ লিপি ডট কম' শেয়ার মার্কেটের প্রয়োজনীয় সকল তথ্য সততার সহিত পরিবেশন করে এবং কোন সময় অতিরঞ্জিত, ভুল তথ্য প্রকাশ করেনা এবং গুজব ছড়ায়না, বরং বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে বদ্ধ পরিকর। এটি একটি স্বাধীন, নির্দলীয় এবং অলাভজনক প্রকাশনা মাধ্যম।