শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীদের বৃহত্তর স্বার্থে উৎপাদন বন্ধ এমন কোম্পানিগুলোর জন্যে একটা আলাদা ক্যাটাগরি করা উচিত,তাহলে বিনিয়োগকারীরা জানতে ও বুঝতে পারবে কোন কোম্পানিগুলোর উৎপাদন বন্ধ আছে।কেননা কোন কোন কোম্পানির উৎপাদন বন্ধ আছে তা সাধারণ বিনিয়োগকারীরা জানেনা।
বিএসইসি-এর নির্দেশনায় আমাদের দেশের শেয়ার বাজারে বিভিন্ন কারণে একটি কোম্পানি জেড’ ক্যাটাগরিতে যায়।যেমন-যেসব কোম্পানি নিয়মিত এজিএম করবে না,পরপর ২ বছর কোন লভ্যাংশ না দিলে,লভ্যাংশ ঘোষণা দিয়ে যথাসময়ে বিতরণ না করলে এবং ছয় মাসের বেশি সময় ধরে উৎপাদন বন্ধ থাকলে।
বর্তমানে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ২০ টি খাতে বিভিন্ন কোম্পানি, ব্যাংক ,আর্থিক প্রতিষ্ঠান ,মিউচুয়াল ফাণ্ড ও কর্পোরেট বন্ড মিলে মোট ৪১৩ টি প্রতিষ্ঠান তালিকাভুক্ত আছে, এর মধ্যে ৯৯ টি কোম্পানি জেড’ ক্যাটাগরিতে আছে।
জেড’ ক্যাটাগরিতে যাওয়ার উক্ত কারণগুলীর মধ্যে উৎপাদন বন্ধ থাকা বিষয়টি একটি কোম্পানির সবচেয়ে গুরুত্তপুর্ন বিষয়। যে কোম্পানির উৎপাদন বন্ধ আছে সে কোম্পানি ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে যাওয়া আবার একটি ভালো কোম্পানি লভ্যাংশ ঘোষণা দেয়ার পরে কোন অসুবিধার কারণে যথাসময়ে লভ্যাংশ বিতরণ না করতে জেড’ ক্যাটাগরিতে যাওয়া এক বিষয় নয়।
তাই উৎপাদন বন্ধ আছে এমন কোম্পানিগুলোর জন্যে আলাদা একটি ক্যাটাগরি থাকা উচিত।বন্ধ কোম্পানিগুলির আলাদা একটি ক্যাটাগরি থাকলে বিনিয়োগকারীরা সচেতন হতে পারবে এবং কোম্পানিগুলোর প্রকৃত অবস্থা জেনে বিনিয়োগকারীরা নিজের দায়িত্বে এবং ঝুঁকিতে বিনিয়োগ করতে পারবেন।
শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীদের বৃহত্তর স্বার্থে উৎপাদন বন্ধ থাকা কোম্পানিগুলোর হালনাগাদ তথ্য স্টক এক্সচেঞ্জের ওয়েবসাইটে সব সময়ই আপডেট রাখতে হবে।
সম্প্রতি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (DSE) বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করার জন্য বন্ধ থাকা ৩০টি কোম্পানির তালিকা তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেছে। এই প্রতিষ্ঠানগুলো শেয়ারবাজার থেকে তহবিল সংগ্রহ করলেও দীর্ঘদিন ধরে কার্যক্রম বন্ধ রেখেছে।ডিএসই’র ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এই তালিকাটি বিনিয়োগকারীদের কোম্পানিগুলোর প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে তথ্য দেবে।
ডিএসইর প্রকাশিত উৎপাদন বন্ধ থাকা তালিকার ৩০টি কোম্পানির মধ্যে ২৯ টি কোম্পানি ২০১৯ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে কার্যক্রম বন্ধ রেখেছে,আড় মেঘণা পেট ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেড কোম্পানিটি ২০০২ সাল থেকে বন্ধ রয়েছে।

তালিকাভুক্ত বন্ধ কোম্পানির তালিকা
বন্ধ থাকা ৩০টি কোম্পানির তালিকা প্রকাশের বিষয়ে ডিএসইর এক শেয়ারহোল্ডার পরিচালক বলেন, বন্ধ কোম্পানির তালিকা প্রকাশের মূল উদ্দেশ্য হলো বিনিয়োগকারীদের সচেতন করা। কারণ বিনিয়োগকারীরা কোম্পানির প্রকৃত অবস্থা না জেনে গুজবের শিকার হয়ে শেয়ার দরের ওঠানামায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিনিয়োগকারীরা এই তথ্য থেকে বঞ্চিত। এখন প্রকৃত অবস্থা প্রকাশ হওয়ায় বিনিয়োগকারীরা নিজের দায়িত্বে এবং ঝুঁকিতে বিনিয়োগ করতে পারবেন।
সার্বিক বিষয় বিষয় বিশ্লেষণ করে কর্তৃপক্ষের উচিত উৎপাদন বন্ধ আছে এমন কোম্পানিগুলোর জন্যে একটা আলাদা ক্যাটাগরি করা ,তাতে বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে ভালো ও মন্দ কোম্পানি বাছাইয়ে সহায়তা করবে।