বহুল আলোচিত সমালোচিত বেক্সিমকো গ্রুপের বন্ধ কারখানা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব কারখানা চালু করতে আপাতত ২৪৫ কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে যাচ্ছে জাপানের রিভাইভাল নামের একটি প্রতিষ্ঠান।
আর এ প্রক্রিয়ায় রিভাইভালের সঙ্গে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ইকোমিলি নামের আরেকটি প্রতিষ্ঠান। বেক্সিমকোর বন্ধ কারখানা চালুতে এই দুই প্রতিষ্ঠানের যৌথ বিনিয়োগের সিদ্ধান্তে সায় দিয়েছে সরকার। এখন অপেক্ষা ত্রিপক্ষীয় চুক্তির। পক্ষগুলো হলো রিভাইভাল, জনতাব্যাংক ও বেক্সিমকো।
বেক্সিমকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওসমান কায়সার চৌধুরী গণমাধ্যম কর্মীদের বলেন, ‘আমরা জনতা ব্যাংকের কাছে খেলাপি। জনতা ব্যাংক কতটুকু, কীভাবে ঋণ পুনঃ তফসিলকরবে, রিভাইভাল তা বুঝতে চায়। সে কারণেই রিভাইভালসহ ব্যাংকটির সঙ্গে আমরা বৈঠক করেছি। এখন ত্রিপক্ষীয় চুক্তির পালা।’
সূত্রগুলো জানায়, প্রথম দফায় রিভাইভালের পক্ষ থেকে বেক্সিমকো টেক্সটাইল পরিচালনার জন্য সরকারের কাছে আগ্রহপত্র (ইওআই) জমা দেওয়া হয় গত জুনে। বেক্সিমকো যেহেতু জনতা ব্যাংকের কাছে বড় অঙ্কের ঋণখেলাপি, জাপানি কোম্পানিটি তাই জনতা ব্যাংকের নীতিগত সম্মতি চেয়েছে। রিভাইভালের এ আগ্রহের বিপরীতে বেক্সিমকো গ্রুপ লেটার অব কমফোর্ট বা নিশ্চয়তাপত্র ও দাখিল করেছে মন্ত্রণালয়ে।শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় বলছে, শ্রমিক–কর্মচারীদের পাওনা পরিশোধে বেক্সিমকোকে ৫৮৫ কোটি টাকা সুদমুক্ত ঋণ দিয়েছে সরকার। সে টাকা ফেরত পাওয়া অনিশ্চিত। এদিকে ছয় মাস ধরে বন্ধ থাকার কারণে কারখানাটির যন্ত্রপাতি অকেজো হওয়ার পথে।
জানা গেছে দেশের অর্থনীতির চলমান ধারা অব্যাহত রাখতে উপদেষ্টা পরিষদের সিদ্ধান্তঅনুযায়ী কারখানাগুলো চালু হচ্ছে। বেক্সিমকোর মূল্যবান যন্ত্রপাতি আছে, যেগুলো নষ্টহচ্ছে এখন। কারখানা চালু হলে অনেকের কর্মসংস্থান হবে সরকার এ বিষয়টিকেই গুরুত্ব দিচ্ছে।
রিভাইভাল বলেছে, কারখানাগুলো চালু হবে ত্রিপক্ষীয় ইজারা চুক্তির মাধ্যমে। আর কারখানা চালু করতে হলে খেলাপি ঋণ পুনঃ তফসিল করতে হবে। কারখানার চালুর পর যে আয় হবে, তার একাংশ সেবা মাশুল (সার্ভিস চার্জ) হিসেবে নেবে রিভাইভাল। বাকি আয় চলে যাবে পুনঃ তফসিল করা ঋণ পরিশোধে। কারখানা চালু করতে বিদেশি ব্যাংক থেকে দুই কোটি মার্কিন ডলারের ব্যাক টু ব্যাক ঋণপত্রের (এলসি) ব্যবস্থা করবে রিভাইভাল। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বিশ্বখ্যাত নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দেবে রিভাইভাল। বিদেশি ক্রেতাদেরআস্থা ফিরিয়ে আনা, দক্ষ কর্মী নিয়োগ ও টেকসই উৎপাদনও নিশ্চিত করবে তারা।
এদিকে গত ২২ সেপ্টেম্বর (২০২৫) ডিএসই থেকে পাঠানো এক চিঠির জবাবে কোম্পানি নিশ্চিত করেছে যে, জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীদের সহযোগিতায় কারখানাগুলো স্থাপন করা হবে। প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য, ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যেই প্রকল্প থেকে প্রায়৩৮০ কোটি টাকা নিট মুনাফা অর্জন।
কোম্পানিটির প্রত্যাশা, এই নতুন বিনিয়োগ তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রমকে আরও প্রসারিত করবে এবং এর আর্থিক অবস্থানে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে। যদি আগামী অক্টোবর মাসের মধ্যেই কারখানাগুলো পুরোদমে কাজ শুরু করতে পারে, তাহলে নির্ধারিত লক্ষ্যঅর্জন সম্ভব হবে।
এই প্রকল্পের মাধ্যমে কেবল বেক্সিমকোরই লাভ হবে না, বরং দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিও উপকৃত হবে। নতুন ১৫টি কারখানা চালু হলে হাজার হাজার নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে, যা বেকারত্ব কমাতে সহায়তা করবে। পাশাপাশি, বিদেশি বিনিয়োগ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে শক্তিশালী করবে এবং বৈশ্বিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করবে।
দেশের শেয়ার বাজারে বেক্সিমকো গ্রুপের তিনটি কোম্পানি ও একটি বন্ড তালিকাভুক্ত আছে। কোম্পানিগুলো হচ্ছে– বেক্সিমকো লিমিটেড, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড ও শাইনপুকুর সিরামিকস লিমিটেড। আর বন্ডটির নাম– বেক্সিমকো গ্রীন সুকক আল ইসতিনা।
উল্লেখ্য তালিকাভুক্ত বেক্সিমকো লিমিটেড সরকার পতনের আগ থেকেই ফ্লোর প্রাইজে আটকে আছে।সরকার পতনের আগে প্রতিদিন কমবেশি লেনদেন হলেও সরকার পতনের পরে আর তেমন কোন লেনদেন ই হচ্ছেনা।
সরকার পতনের পরে বেক্সিমকো গ্রুপের কর্ণধার সালমান এফ রহমান এরেস্ট হওয়ার পর থেকে বেক্সিমকো গ্রুপের টেক্সটাইল ডিভিশন বন্ধ হয়ে যায় ।যে কারণে তালিকাভুক্ত বেক্সিমকো লিমিটেডের বিনিয়োগকারীরা সবচেয়ে বড় ক্ষতির মধ্যে পরে যায় ।
সম্প্রতি বেক্সিমকো গ্রুপের বন্ধ কারখানা চালুর উদ্যোগ নেওয়ায় তালিকাভুক্ত বেক্সিমকো লিমিটেডের বিনিয়োগকারীরা কিছুটা আশাবাদী হবেন এই প্রত্যাশা একজন অভিজ্ঞ বাজার বিশ্লেষকের।
Author
-
'অর্থ লিপি ডট কম' একটি নির্ভরযোগ্য শেয়ার বাজার ভিত্তিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল। অর্থ ও বাণিজ্য, রাজনীতি, সমাজ ও সংস্কৃতি, প্রতিবেদন, বিশ্লেষণমূলক লেখা প্রকাশ করে।
View all posts
'অর্থ লিপি ডট কম' শেয়ার মার্কেটের প্রয়োজনীয় সকল তথ্য সততার সহিত পরিবেশন করে এবং কোন সময় অতিরঞ্জিত, ভুল তথ্য প্রকাশ করেনা এবং গুজব ছড়ায়না, বরং বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে বদ্ধ পরিকর। এটি একটি স্বাধীন, নির্দলীয় এবং অলাভজনক প্রকাশনা মাধ্যম।