দেশের পুঁজিবাজারে সাম্প্রতিক সময়ে একটি উল্লেখযোগ্য প্রবণতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এক সেক্টর থেকে অন্য সেক্টরে বিনিয়োগকারীদের অর্থ স্থানান্তর বা ফান্ড রোলিংয়ের মাধ্যমে বাজারে সক্রিয়তা বাড়ছে, যা বিশ্লেষকদের মতে একটি শক্তিশালী ও গতিশীল বাজারের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ।
বাজার পর্যবেক্ষণে দেখা যাচ্ছে, প্রতিদিনই ভিন্ন ভিন্ন খাতের শেয়ার লেনদেন ও দর বৃদ্ধির কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসছে। কোনো নির্দিষ্ট সেক্টর বা অল্প কয়েকটি শেয়ারের ওপর বাজারের গতি নির্ভরশীল না থেকে বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে বাজারে তারল্যের প্রবাহ বজায় থাকার পাশাপাশি লেনদেনেও বৈচিত্র্য সৃষ্টি হচ্ছে।
বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, ফান্ড রোলিং মূলত বিনিয়োগকারীদের আস্থা ও বাজারের গভীরতার প্রতিফলন। একটি সেক্টরে মুনাফা অর্জনের পর সেই অর্থ অন্য সম্ভাবনাময় খাতে স্থানান্তরিত হলে বাজারে নতুন গতি তৈরি হয়। এতে একদিকে যেমন বিনিয়োগের সুযোগ বিস্তৃত হয়, অন্যদিকে অতিরিক্ত জল্পনা-কল্পনানির্ভর মূল্যবৃদ্ধির ঝুঁকিও কমে আসে।
সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ওষুধ, বীমা, প্রকৌশল, টেক্সটাইল এবং খাদ্য খাতের বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ারে পর্যায়ক্রমে ক্রয়চাপ বৃদ্ধি পেতে দেখা গেছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রবণতা ইঙ্গিত দেয় যে বিনিয়োগকারীরা এখন তুলনামূলকভাবে মৌলভিত্তিসম্পন্ন ও সম্ভাবনাময় খাতগুলোকে গুরুত্ব দিচ্ছেন।
তাদের মতে, বাজারের প্রকৃত শক্তি তখনই প্রকাশ পায়, যখন বিভিন্ন সেক্টর পর্যায়ক্রমে নেতৃত্ব দেয় এবং বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বিস্তৃত হয়। বর্তমানে বাজারে যে সেক্টর ভিত্তিক মুভমেন্ট দেখা যাচ্ছে, তা ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী ঊর্ধ্বমুখী ধারার ভিত্তি তৈরি করতে পারে।
তবে বাজার বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, শুধুমাত্র স্বল্পমেয়াদি দর বৃদ্ধির দিকে নজর না দিয়ে কোম্পানির আর্থিক সক্ষমতা, মুনাফার ধারাবাহিকতা, করপোরেট গভর্ন্যান্স এবং ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক সম্ভাবনা বিবেচনায় বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
তাদের অভিমত, ফান্ড রোলিংয়ের বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে এবং বাজারে লেনদেনের গতি আরও বাড়লে দেশের পুঁজিবাজারে দীর্ঘদিন পর একটি টেকসই ইতিবাচক ধারা প্রতিষ্ঠিত হতে পারে। একই সঙ্গে নতুন বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি পেলে বাজার আরও গভীর ও স্থিতিশীল হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে।